গাজা যুদ্ধের প্রায় পাঁচ মাসে এসে হঠাৎই পদত্যাগ করেছেন ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ এশতায়েহ ও তার সরকার। সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও কারণ হিসেবে গাজায় যুদ্ধ, গণহত্যা ও পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধিকে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে তার এই পদত্যাগকে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন দ্বন্দ্ব নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সংস্কার আনার বিষয়টি আছে।
তবে ফিলিস্তিনিদের মধ্যেই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তেমন একটা গ্রহণযোগ্যতা নেই এমন ধারণাও প্রচলিত। এদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের টানোপোড়েন তো আছেই। এমতাবস্তায় এশতায়েহর পদত্যাগ খুব একটা পরিবর্তন নিয়ে আসবে না বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুসারে যুদ্ধের পর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন পশ্চিম তীরের পাশাপাশি গাজার শাসনভার পাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়াও চলবে। তবে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতার অভাব ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানাপোড়েনের সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনায় প্রধান বাধা বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যে লক্ষ্য, তাতে করে হামাসের পরাজয়ের মধ্য দিয়েই গাজা যুদ্ধের ইতি ঘটবে। তবে যুদ্ধের প্রায় পাঁচ মাসে প্রায় ৩০ হাজার ফিলস্তিনি নিহত ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিলেও ইসরায়েল ও দেশটির প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সেই লক্ষ্য অধরাই রয়ে গেছে।
ফিলিস্তিন সরকারের পদত্যাগে লাভ কী
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে মোহাম্মদ এশতায়েহ বলেন, গাজা উপত্যকায় যে ‘নয়া বাস্তবতা’ তৈরি হয়েছে, তাতে নতুন করে সব ঢেলে সাজানো দরকার। যুক্তরাষ্ট্রের এলামনাই মোহাম্মদ মুস্তাফাকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিতে ডিগ্রিধারী মুস্তাফা বিশ্বব্যাংকে বেশ কিছু জ্যেষ্ঠ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ফিলিস্তিনের বিনিয়োগ তহবিলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ফিলিস্তিনের উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ছিলেন মুস্তাফা।
এশতায়েহ ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল ফাতাহর অনুগত ছিলেন। এদিকে ধারণা করা হচ্ছে কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকায় মুস্তাফাকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা দেশগুলো।
তবে মুস্তাফা প্রধানমন্ত্রী হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটা নেবেন মাহমুদ আব্বাসই। তবে তাকে প্রধানমন্ত্রী করা হলে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ যে শাসনক্ষমতায় সংস্কার আনছে, সেটি পশ্চিমাদের সামনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে দেখানো যাবে, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের এই সরকারের গাজা শাসনের মতো যোগ্যতা ও পেশাদারত্ব আছে। যুক্তরাষ্ট্রও এটাই চায়।
ফিলিস্তিনের সরকার পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছেন, ফিলিস্তিনের নেতৃত্ব কে আসবে তা ফিলিস্তিনিরাই ঠিক করবে। তবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের সংস্কার ও পুনরুজ্জীবিত করার যেকোনো পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানায়। আমাদের মতে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অধীনে গাজা ও পশ্চিম তীরকে আবার এক করার ক্ষেত্রে এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা হলো যুদ্ধ শেষে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে সৌদি আরব। আর সৌদি আরবের স্বীকৃতির পর বাকি আরব দেশগুলোও একই পথ অনুসরণ করবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলা হবে এবং গাজার শাসনভার দেওয়া হবে তাদের হাতে। স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনে আস্থার পরিবেশ তৈরির জন্য সব করা হবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষে সংস্কার আনা যুক্তরাষ্ট্রের এই বৃহৎ পরিকল্পনার ছোট একটি অংশমাত্র।
সূত্র-এপি
