মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস আজ

পরিবর্তিত জীবনযাপনে বাড়ছে ডায়াবেটিক রোগী

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০

ডায়াবেটিস বিশ্বব্যাপী সমস্যা। বিশ্ব জুড়েই এ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্বে প্রতি সাত সেকেন্ডে এক জন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। এ কারণে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সবার সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বর্তমানে নগরায়ণের ফলে পরিবর্তিত জীবনযাপনের কারণে সারা বিশ্বেই ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে এই বৃদ্ধির হার উন্নত দেশের তুলনায় অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশে বেশি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, তবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ—কায়িক পরিশ্রম না করা, মোটা বা স্থূলকায় হয়ে যাওয়া, অতিমাত্রায় ফাস্টফুড খাওয়া ও কোমল পানীয় পান করা, অতিরিক্ত মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান বা তামাক খাওয়া, গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন সমস্যা এবং বাবা-মা অথবা রক্তসম্পর্কীয় নিকট আত্মীয়ের ডায়াবেটিস থাকা ও ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি।  

আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) তথ্য মতে, বাংলাদেশে ১ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। যাদের প্রায় অর্ধেকই নারী। কিন্তু আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষই জানে না, তাদের ডায়াবেটিস আছে। এমনকি দেশে ১০০ জনের মধ্যে ২৬ জন নারীই গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে ভোগেন। আবার তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশই পরবর্তী সময়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশের মতো অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশেও এ চিত্র বিরাজ করছে। তাই ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তারা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। জনগণ স্বাস্থ্যসচেতন হলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। 

এমন পরিস্থিতিতে আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে ডায়াবেটিস সচেতনতা দিবস ও ডায়াবেটিস সমিতির ৬৮তম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে—‘ডায়াবেটিস প্রতিরোধের এখনই সময়’। দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সমিতির অন্যান্য অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত অধিভুক্ত সমিতিগুলোও এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান ‘ডায়াবেটিক সমিতির তথ্য’ তুলে ধরে বলেন, গত সাত বছরে দেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, ৩০ লাখ থেকে ৫৬ লাখে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সমিতিতে এ পর্যন্ত নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৫৬ লাখ ২৬ হাজার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে নতুন রোগী ছিল ৩ লাখের কিছু বেশি। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে ৮৪ লাখ ডায়াবেটিস রোগী রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি এক জরিপের ভিত্তিতে মনে করে, এ সংখ্যা অনেক বেশি।        

অনেকে জানেই না তাদের ডায়াবেটিস আছে। ২০১৮ সালে সমিতি সারা দেশে ২৫ বছরের বেশি বয়সী ১ লাখ নারী-পুরুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এক-চতুর্থাংশ ব্যক্তির ডায়াবেটিস শনাক্ত করে।

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে—আজ সকাল সাড়ে ৮টায় বারডেমের পাশে ওভারব্রিজের নিচ থেকে টেনিস ক্লাবের গেট পর্যন্ত ‘সচেতনতামূলক স্লোগান-সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান’ কর্মসূচি। এতে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ছাড়াও সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেবেন। দুপুর ১২টায় বারডেম অডিটোরিয়ামে আলোচনাসভা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবারক্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক সামন্ত লাল সেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক এ কে আজাদ খান। অনুষ্ঠানে আদর্শ ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে অভিনন্দনপত্র ও ক্রেস্ট প্রদান করা হবে। এছাড়া, বারডেমের ডেন্টাল সার্জারি বিভাগের সাম্মানিক সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরীর ডায়াবেটিস ও মুখের স্বাস্থ্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে।

সকাল ১০টায় বারডেম অডিটোরিয়ামে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বারডেম ক্যাম্পাস এবং এনএইচএন ও বিআইএইচএসের বিভিন্ন কেন্দ্রসংলগ্ন স্থানে বিনা মূল্যে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে ‘কান্তি’র বিশেষ প্রকাশনা, সচেতনতামূলক লিফলেট ও পোস্টার বিতরণেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল এ উপলক্ষে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত (৪র্থ তলা) হ্রাসকৃতমূল্যে হার্ট ক্যাম্পেরও আয়োজন করবে। বারডেম ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগ ও বারডেম নার্সিং কলেজ এ উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করবে।

ইত্তেফাক/এমএএম