ঘোড়ায় চড়ে আসেন বর। পালকিতে চড়ে নতুন বউ যান শ্বশুড় বাড়ি-গ্রাম বাংলার এমন বিয়ের দৃশ্য আধুনিকতার দাপটে প্রায় হারিয়ে গেছে। তবে নাটোরের হালসায় সাদা সেওরোয়ানি পড়ে ঘোড়ায় চরে বিয়ে করতে এলেন বর। এদিকে বিয়ের সব আয়োজন শেষে নববধূকে সুসজ্জিত পালকিকে চড়ে নিয়ে যাওয়া হয় শ্বশুড় বাড়িতে।
বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোর সদর উপজেলার হালসা এলাকার ফরহাদ আলীর ছেলে মো. সালমান সাফি সৌরভের সঙ্গে একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে মারিয়া খাতুনের বিয়ে এমন আয়োজনে সম্পন্ন হয়।
ব্যান্ড পার্টি নিয়ে ঘোড়ায় চড়ে বরসহ শতাধিক বরযাত্রী নিয়ে কনের বাড়িতে আসেন। বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়া আর পালকিতে বিয়ে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন শত শত মানুষ। এ সময় বর ও নববূধকে দেখতে রাস্তার দুপাশে ভিড় জমায় সব বয়সী মানুষ।
বর সালমান সাফি সৌরভ রাজশাহী সিটি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র এবং কনে মারিয়া খাতুন নাটোর নবাব সিরাজ উদ্ দৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।
বর ও নববূধর পরিবার জানান, দুই পরিবারের অনেক দিনের ইচ্ছা তাদের ছেলে-মেয়ের বিয়ে যেন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঘোড়া ও পালকিতে চড়ে হয়। সেজন্য দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এমন আয়োজন করেছেন পরিবার। বর ও কনের ইচ্ছায় দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। বর বিয়ে করতে ঘোড়ায় চড়ে আসবেন। অন্যদিকে পালকিতে চড়ে নববূধর যাবেন শ্বশুড় বাড়ি। তাই গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে এমন আয়োজন করে দুই পরিবার।
কনে মারিয়া খাতুন বলেন, আগে তো ঘোড়া ও পালকি বিয়ে বিয়ে হতো। এখন তা আর দেখা যায় সে জন্য পরিবার ও আমাদের ইচ্ছায় পরানো ঐহিত্য রীতি অনুসারে আমার বিয়ের আয়োজন হয়েছে। আমাদের বিয়ে জীবনের সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।
বর সালমান সাফি সৌরভ বলেন, রাজ-রাজত্বের শহর হচ্ছে নাটোর। সেই ঐতিহ্যকে ধরতে রাখতে এমন আয়োজনে বিয়ে করেছে আমাদের পরিবার। গ্রাম বাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ছিল ঘোড়া, পালকি বা হাতিতে বিয়ে। নাটোরে হাতি না পাওয়ায় ঘোড়া ও পালকির ব্যবস্থা করে বিয়ে করতে এসেছি।
কনের বাবা দোলোয়ার হোসেন বলেন, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল আমার মেয়ের বিয়েতে ঘোড়া ও পালকি চড়ে হবে। সেই ইজ্ছা পুরণে বর ঘোড়ায় চড়ে এসেছে আর কনে পালকি চড়ে শ্বশুড় বাড়ি যান। মেয়ের বিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীকে আমন্ত্রণে আসেন।

