স্বপ্নে হজ পালনের দৃশ্য দেখার পরই আল্লাহর ঘর জিয়ারতের নিয়ত করেন নাটোরের সিংড়া উপজেলার ভূমিহীন দিনমজুর দুলাল হোসেন। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় বিমানে নয়, পায়ে হেঁটেই সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা-মদিনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের বড়ইচড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে স্বজন ও প্রতিবেশীদের বিদায় জানিয়ে যাত্রা শুরু করেন ৪৪ বছর বয়সী দুলাল হোসেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুলাল হোসেন এক সন্তানের জনক। নিজের কোনো জমিজমা না থাকায় সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘরে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানো দুলাল হজে যাওয়ার ইচ্ছার কথা প্রথমে পরিবার ও গ্রামের মানুষকে জানান। পরে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে অর্থ সঞ্চয় করে পাসপোর্ট তৈরি করেন। পাসপোর্ট হাতে পেয়েই মক্কার উদ্দেশে হাঁটা শুরু করেন।
দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। হজ করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। প্রায় দুই মাস আগে স্বপ্নে নিজেকে হজ করতে দেখি। এরপরই নিয়ত করি, যেভাবেই হোক আল্লাহর ঘরে যাব। তাই একটি ব্যাগে কিছু কাপড়, জায়নামাজ আর হাতে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে রওনা হয়েছি।’
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, তিনি বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান ও ইরাক হয়ে সৌদি আরবে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন। তার ধারণা, পায়ে হেঁটে এ যাত্রা শেষ করতে প্রায় সাত মাস সময় লাগতে পারে।
দুলাল আরও বলেন, ‘আল্লাহ যদি সহায় হন, হজ পালন শেষে আবার পায়ে হেঁটেই দেশে ফিরব। সরকারের কাছে অনুরোধ, পথে যেন অযথা কোনো বাধার মুখে না পড়ি। দেশবাসীর কাছে আমার জন্য দোয়া চাই।’
তবে প্রশাসন জানিয়েছে, শুধু পাসপোর্ট থাকলেই অন্য দেশে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বৈধ ভিসা ছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করা যাবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাত বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে দুলালের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুলাল হোসেন আবেগ থেকে যাত্রা শুরু করেছেন। কিন্তু ভিসা ছাড়া কোনো দেশে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। তার স্বপ্ন পূরণে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারিভাবে হজে পাঠানোর সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।’

