রাজধানীর বেইলি রোডের একটি বহুতল ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে লাগা এ আগুন রাত ১২টার দিকে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এখনো উদ্ধারকাজ চলছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা ভেতরে তল্লাশি করছি। আটকেপড়াদের জীবিত উদ্ধারে যতটুকু করা সম্ভব আমরা সেটা করার চেষ্টা করছি। বাকি পরিস্থিতি এখনো বলার সময় হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তারপরও ভেতরে ধোঁয়া আছে।’
তবে কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, আহত কতজন— তা এখনো নিশ্চিত করেনি ফায়ার সার্ভিস। অন্তত ৬৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে। গুরুতর আহত বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ আশপাশের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই ভবনের নিচের অংশে আগুন লাগে। সাততলা ওই ভবনে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট, খানাস, ফুকো, অ্যাম্ব্রোশিয়াসহ একাধিক রেস্টুরেন্ট রয়েছে ও দোতলায় কাপড়ের দোকান 'ক্লজেট ক্লাউড' ও 'ইলিয়েন' রয়েছে। আগুন দ্রুত উপরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে৷ খবর পাওয়ার সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। রাত ১১টার দিকেও ভবনটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিলো। আগুন থেকে বাঁচতে অনেকেই ভবনের ছাদে ওঠেন। পরে ক্রেনের সাহায্যে তাদের নামিয়ে আনা হয়।
জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর ভেতরে বডি ব্যাগ নিয়ে গেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। নিচে অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা আছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি ও আনসারের সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করেন।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন জানিয়েছেন, রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে ভেতরে আরও অনেকে আটকে আছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। আগুন পুরোপুরি নিভে গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি এবং আগুনের উৎপত্তিস্থল কিংবা আগুনের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।

রাজধানীর বেইলি রোডে বহুতল ভবনে আগুন