সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ভাগ্নে-ভাগ্নির লাশ পেলেও মেলেনি বোনের, পাগলপ্রায় মামা

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ১৫:১২

বেইলি রোডে খেতে গিয়ে আগুনে পুড়ে মারা গেছেন পপি, সান রায় (১০) ও সম্পূর্ণা রায় (১২)। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মেডিকেলের মর্গের সামনে কথা হয় সান ও সম্পূর্ণার মামা পীযূষ পোদ্দারের সঙ্গে। 

সম্পূর্ণা ও সানকে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) স্কুলে নিয়ে গিয়েছিলেন মামা পীযূষ পোদ্দার। স্কুল শেষে আবার বিকালে বাসায় নিয়ে আসেন তিনি। সম্পূর্ণা ও সান মা পপি রায়ের সঙ্গে সন্ধ্যার সময় যান বেইলি রোডের কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয়।

তিনি জানান, ভাগনি সম্পূর্ণা পড়ত সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। আর সান রায় পড়ত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণিতে। মা-বাবার সঙ্গে মালিবাগে থাকত তারা। 

কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, রেস্তোরাঁয় আগুন লাগার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানে চলে যান। এসে দেখেন দাউ দাউ করে রেস্তোরাঁ জ্বলছে। কিন্তু কোথাও পপি, সম্পূর্ণ ও সানের খোঁজ পাননি। এরপর মধ্যরাতে ছুটে এসেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। সম্পূর্ণা ও সানের লাশ খুঁজে পেয়েছেন। কিন্তু পপির কোনো খোঁজ পাচ্ছেন না।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বেইলি রোডের ওই ভবনের নিচের অংশে আগুন লাগে। খবর পেয়ে পর্যায়ক্রমে ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

এ ঘটনায় ৭৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় ও ৪৫ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সাততলা ওই ভবনে কাচ্চি ভাই রেস্টুরেন্ট, খানাস, ফুকো, অ্যাম্ব্রোশিয়াসহ একাধিক রেস্টুরেন্ট ও দোতলায় কাপড়ের দোকান ‘ক্লজেট ক্লাউড’ ও ‘ইলিয়েন’ ছিল। 

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন জানিয়েছেন, পুরো ভবনের প্রতিটি তলায় অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট ছিল এবং ভবনে প্রচুর পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ছিল। ফলে আগুন লাগার পর তা দাউ দাউ করে জ্বলতে শুরু করে।

ইত্তেফাক/পিও