বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কুমিল্লার পঞ্চম নাকি বরিশালের প্রথম

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ১৪:৩৪

বিপিএলের ফাইনালে হারে না কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত এমনই পরিসংখ্যান তাদের। ২০১৫, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৩ বিপিএলের পরে এবারও ফাইনালে উঠেছে দলটি। তবে এবার সেই জয়ের ধারায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে চায় ফরচুন বরিশাল। দলটির পক্ষ থেকে আগাম বার্তাও দিয়ে রেখেছেন উইকেটরক্ষক ও ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। 

বরিশাল এর আগে তিন বার ফাইনালে উঠেছিল। যেখানে ২০১৫ ও ২০২২ সালে এই কুমিল্লার বিপক্ষেই শিরোপা হারিয়েছিল দলটি। আর উদ্বোধনী আসরে ঢাকার বিপক্ষে ফাইনাল হেরেছিল দক্ষিণাঞ্চলের দলটি। চতুর্থ বারের মতো ফাইনালে উঠে শিরোপা নিয়েই ঘরে ফেরার বার্তা দিয়েছে ফ্রাঞ্চাইজিটি।

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দশম বিপিএলের মহারণে মাঠে নামছে ফরচুন বরিশাল ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবারের বিপিএলে দুর্দান্ত ঢাকার বিপক্ষে হার দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল গেল বারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের। এর পরে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। পরপর দুই ম্যাচ জিতে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের শিষ্যরা। নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হেরে বসে কুমিল্লা। 

তবে সেই হারের তিক্ততা নিয়ে পরের পাঁচ ম্যাচে জয় তুলে প্লে অফের কাছাকাছি চলে যায় লিটন দাসের বাহিনী। নিজেদের দ্বিতীয় দেখায় রংপুরকে হারিয়ে প্রথম কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত হয় তাদের। তবে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচে বরিশালের বিপক্ষে হারের খড়গে পড়তে হয়েছিল। কোয়ালিফায়ারে রংপুরকে আরও একবার হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে চার বারের চ্যাম্পিয়নরা।

অন্যদিকে রংপুরকে হারিয়ে বিপিএলে যাত্রা শুরু করেছিল বরিশাল। এর পরে টানা তিন হারে টালমাটাল অবস্থার মধ্যে পড়ে দলটি। সে সময় দুটি জয় কিছুটা স্বস্তি হয়ে আসে। কিন্তু চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে হেরে কিছুটা বিপদে পড়ে তামিম ইকবালের বাহিনী। ঘুরে দাঁড়ানোর টনিক এসে যায় পরের তিন জয়ে। ফিরতি ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষের হার কিছুটা নড়বড়ে করে দেয় বরিশালের প্লে অফের যাত্রা। তবে নিজেদের শেষ ম্যাচে কুমিল্লাকে হারিয়ে শেষ চারে ওঠে মিজানুর রহমান বাবুলের শিষ্যরা। এলিমিনেটরে চট্টগ্রামকে হারিয়ে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার, এরপরে সেখানে রংপুরকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে ফরচুন বাহিনী।

শক্তিতে কারা এগিয়ে

প্রথম পর্বে বরিশাল-কুমিল্লার দুই দেখায় একটি করে জয় রয়েছে তাদের। মুখোমুখি প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় পেয়েছিল ভিক্টোরিয়ান্স বাহিনী। আর সবশেষ দেখায় ৬ উইকেটে জিতেছিল বরিশাল। তাতে পরিসংখ্যান বলছে, ফাইনালের লড়াই হবে সমানে সমান। অবশ্য ফাইনালে শক্তি-সামর্থ্যে কিছুটা এগিয়েই থাকবে কুমিল্লা। দেশিদের পাশাপাশি বিদেশি তারকারাও দলটির হয়ে ব্যাট ও বল হাতে বেশ সরব। 

লিটন দাস, তাওহীদ হূদয়, জাকির আলী অনিকরা খেলতে পারেন ম্যাচ বিজয়ী ইনিংস। তাদের সঙ্গে ব্যাট হাতে বড় ভরসার নাম সুনীল নারিন, মঈন আলী ও আন্দ্রে রাসেলরা। তারা বল হাতেও এগিয়ে থাকবেন সেরাদের কাতারে। অন্যদিকে বোলারদের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। এই দিক থেকে রোহানাত দৌলা বর্ষণ ও আলিস আল ইসলামরা বড় চমকের নাম।

বরিশালের জার্সিতে ব্যাটিংয়ে রয়েছে তারকার মেলা। তবে বোলিংয়ে কুমিল্লার থেকে কিছুটা পিছিয়েই থাকবে তামিম বাহিনী। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলামরা হাল ধরতে না পারলে বেশ ভুগতে হবে বরিশালকে। মেহেদী হাসান মিরাজ, কাইল মায়ার্স, ওবেদ ম্যাককয়ে ও জেমস ফুলারদের বেশ শক্ত পরীক্ষাই দিতে হবে। 

তবে এই জায়গা থেকে ব্যাট হাতে তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা বাড়তি দায়িত্ব পালন করলে চাপ কিছুটা কমে আসবে। বরিশালকে আরও স্বস্তি এনে দিয়েছেন প্রোটিয়া তারকা ডেভিড মিলার। দুই ম্যাচ খেলে তার চলে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যাননি। বরিশালের অনুরোধে ফাইনাল খেলেই ফিরবেন মিলার। এই দিক থেকে ফাইনালের লড়াই জমজমাট হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কার হাতে উঠতে পারে কোন পুরস্কার

চলতি বিপিএলে দলের পাশাপাশি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হিসেবে এগিয়ে আছেন তামিম ইকবাল (৪৫৩ রান, বরিশাল) ও তাওহীদ হৃদয় (৪৪৭, কুমিল্লা)। ফাইনালে যিনি ব্যাট হাতে এগিয়ে থাকবেন, তার হাতেই উঠবে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার। বল হাতে ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন দুর্দান্ত ঢাকার শরিফুল ইসলাম। তিনি ২২ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকদের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। তাকে ছাড়াতে হলে বরিশালের হয়ে সাইফউদ্দিনকে নিতে হবে ৯টি উইকেট এবং কুমিল্লার তানভীর ইসলামকে ১০টি। সেটি রীতিমতো অসম্ভব ব্যাপার। 

ফলে শরিফুলের হাতেই উঠছে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের পুরস্কার। আর টুর্নামেন্ট-সেরার পুরস্কার রানের হিসাবে তামিম ও হৃদয়ের মধ্যে যে কারো হাতে উঠতে পারে। এই তালিকায় রয়েছেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে ২৫৫ রান ও ১৭ উইকেট পাওয়া সাকিব আল হাসানও। বিপিএলের ৯ আসরে চারবার টুর্নামেন্ট-সেরা হয়েছেন তিনি। তবে এবার তার দল ছিটকে যাওয়ায় কিছুটা পিছিয়ে থাকতে হবে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে।

পুরস্কারের নাম                  প্রাইজমানি

প্লেয়ার অব দ্য ফাইনাল         ৫ লাখ টাকা

প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট         ১০ লাখ টাকা

বেস্ট ফিল্ডার অব দ্য টুর্নামেন্ট   ৩ লাখ টাকা

সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক       ৫ লাখ টাকা

সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক          ৫ লাখ টাকা

রানার আপ দল               ১ কোটি টাকা

চ্যাম্পিয়ন দল                      ২ কোটি টাকা

ইত্তেফাক/জেডএইচ