সমাবর্তনে থাকা হলো না তুষারের

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ১৫:৫৫

বেইলি রোডে গ্রিন কোজি কটেজ ভবনে আগুনের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী তুষার হাওলাদার। গতকাল রাত ১১টা থেকে খোঁজ মিলছিলো না তার। আজ শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে লাশ গ্রহণ করেন বাবা দীনেশ হাওলাদার। সেখানে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল বাংলামোটরের অফিস থেকে বের হয়ে বেইলি রোডে খাবার খেতে গিয়েছিলেন তুষার। 

সহপাঠী ও সহকর্মীরা জানান, তুষার পরিবারের সঙ্গে থাকতেন রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায়। সম্প্রতি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে স্নাতক সম্পন্ন করেন। সপ্তাহের ব্যবধানে অনুষ্ঠেয় সমাবর্তনে (কনভোকেশন) অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে আর থাকা হলো না। 

লেখাপড়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন পাক্ষিক অনন্যায়। পরে দ্য রিপোর্ট ডট লাইভেও কাজ করেন। গেল ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিয়েছিলেন স্টার টেক নামে একটি আইটি কোম্পানিতে। সেখানে সিনেমাটোগ্রাফার ও ভিডিও এডিটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

এদিন গ্রিন কোজি কটেজ ভবনের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়েছিলেন দ্যা রিপোর্টের প্রতিবেদক অভিশ্রুতি শাস্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক সহকর্মী তুষার হাওলাদার। আগুনে তিনিও মারা গেছেন। সকালে তার সহকর্মীরা ঢামেক হাসপাতালের মর্গে তার মরদেহ শনাক্ত করেন। একই ঘটনায় মারা গেছেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী কে এম মিনহাজ উদ্দিন।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, বেইলী রোডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ড্যাফোডিল ইন্টান্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিক্ষার্থী সহ ৪৫ জনের মৃত্যুতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমরা সকল বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

তুষারের মৃত্যু যেন মেনে নিতে পারছেন না তার বিশ্ববিদ্যালয়, সহপাঠী, অগ্রজ ও অনুজরা। সময় টেলিভিশনে কর্মরত তার সহপাঠী জে এ জশোয়া ফেসবুকে লিখেছেন, গত লিপইয়ারে তুষার আমাকে বার্থডে সারপ্রাইজ দিছিলো একদিন হাতে রেখে। এই লিপ ইয়ারেও সারপ্রাইজ দিলো। বিশাল সারপ্রাইজ.....

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থী তামান্না তাবাসসুম ত্রেয়া ফেসবুকে লেখেন, আমাদের ৩৯ ব্যাচের তুষার হাওলাদার ভাই আর নেই! গতকাল রাতের 'কাচ্চি ভাই' রেস্টুরেন্টে লাগা আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। ঘুম থেকে উঠেই এমন একটা খবর, এটা ভয়ংকর কোনো দুঃস্বপ্ন হলেও পারত!  

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুনের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ১৩টি ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে পুলিশ, আনসার, র‌্যাব ও এনএসআই। এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি