রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বেইলি রোডের আগুন

রেস্টুরেন্টে যেতে দেরি হওয়ায় বেঁচে গেলেন আশিক, হারালেন স্ত্রী-সন্তানকে

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৪, ২০:৫৪

গত ১৫-১৬ বছর ধরে ব্যবসার সুবাদে ঢাকা থাকেন আশিক আহমেদ। স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে জন্মদিনের এক পার্টিতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যবসায়িক কাজে আশিকের যেতে দেরি হওয়ায় স্ত্রী নাজিয়া তার দুই ছেলে আরহান ও আয়াতকে নিয়ে আগেই চলে যান। সেখানেই অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় মা ও দুই সন্তানের। তবে ব্যবসায়িক কাজে যেতে দেরি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান ব্যবসায়ী আশিক।

শুক্রবার (১ মার্চ) দুপুরে তিনজনকে নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আশিকের খালা ও নোয়াখালী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিলুফার মমিন জানান, স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বেইলি রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। কয়েক দিন আগে মালয়েশিয়া থেকে আসা তার প্রবাসী বন্ধু মোহাম্মদ আলীর ছোট মেয়ে আলিছার জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্ট জন্মদিনের পার্টিতে যাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু ব্যবসায়িক কাজে আশিকের যেতে দেরি হওয়ায় স্ত্রী নাজিয়া তার দুই ছেলে আরহান ও আয়াতকে নিয়ে আগেই চলে যান। সেখানে যোগ দেন আলিছার বড় বোন ও স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী রিয়া এবং তাদের খালাতো বোন নিমি।

বৃহস্পতিবার রাতে বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তারা সবাই মারা যায়। তবে ওই রেস্টুরেন্টে ওই পার্টিতে ব্যবসায়িক কাজ যেতে দেরি হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান ব্যবসায়ী আশিক।

এদিকে স্ত্রী ও দুই শিশু ছেলের শোকে বোবা কান্নায় ঝরছে আশিকের চোখের জল। আশিকের গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রী নাজিয়া এবং তার দুই ছেলে আরহান ও আয়াতের লাশ আনা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বিকাল ৩টার দিকে মা ও দুই সন্তানের জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। 

ইত্তেফাক/এবি