ভবনে বদ্ধ কাঁচের দেয়াল আগুনে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে: ড. আকতার মাহমুদ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ০২:০৭

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেছেন, ভবনের দেয়ালে ব্যবহার করা 'ফিক্সড গ্লাস' অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রেস্টুরেন্টগুলোতে আমরা গ্লাস ব্যবহার করি শব্দ নিরোধক বা নয়েজ ব্যারিয়ার হিসেবে। সেই নয়েজ আসলে কীসের? রাস্তার গাড়িঘোড়ার হর্ণের? অথচ নগরের সড়কে সেটিকে আমরা নিয়মশৃঙ্খলার আওতায় আনছি না, বরং বদ্ধ গ্লাসের ভবন বানিয়ে প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াচ্ছি। আজকাল যত্রতত্র এধরনের ভবন তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে।

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন তিনি।

শুক্রবার (১ মার্চ) রাতে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, 'আপনি দেখবেন, বেইলি রোডের ঘটনায় যারা মারা গেছেন, তাদের শরীরে পোড়া দাগ নেই। অর্থাৎ তারা আগুনে দগ্ধ হননি। কিন্তু প্রচণ্ড ধোঁয়ায় তাদের শ্বাসনালী পুড়ে গেছে। কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় তারা মারা গেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অন্যান্য চিকিৎসকরাও সেটি বলেছেন। পুরোপুরি এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরশীল ভবনটি ফিক্সড গ্লাসে মোড়ানো ছিল। কোথাও বায়ু নির্গমন বা এক্সহস্ট হওয়ার জায়গা ছিল না। ফলে আগুন লেগে যে ধোঁয়া তৈরি হয়েছে, তা ভেতরেই আটকে থেকে প্রাণহানি বাড়িয়েছে। একদিকে কাঁচের দেয়াল, অন্যদিকে কোনোপ্রকার অগ্নিনিরাপত্তা না থাকা, এই দুইয়ে মিলে ভবনটি হয়ে বিপদজনক উঠছিল।'

Akter Mahmud PLANNER

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি এই পরিকল্পনাবিদ আরও বলেন, 'আমাদের দেশে স্থপতিরা এখন প্যাসিভ কুলিং ও ন্যাচারাল ভেন্টিলেশনে জোর দিয়ে পরিবেশবান্ধব বহু স্থাপনা নির্মাণ করছেন। কিন্তু যেসব ভবন কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে তৈরি হচ্ছে বা তৈরির পর ব্যবহারের ধরন বদলে ফেলা হচ্ছে, সেসব ভবনেই দুর্ঘটনা ঘটছে। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও যথাযথ আইন প্রয়োগের অভাব থাকা এক্ষেত্রে দায়ী। সামগ্রিকভাবে বাসযোগ্য ও মানবিক নগর গড়তে হলে বিল্ডিং কোড মেনে কাজ করতে হবে এবং ভবনমালিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন হতে হবে। ইচ্ছামত বাণিজ্যিক বা আবাসিক ভবনকে রেস্টুরেন্টে পরিণত করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টায় বেইলি রোডের 'গ্রিন কোজি কটেজ' নামের একটি বহুতল ভবনে আগুন লাগে, যেখানে প্রতিটি তলায় একাধিক রেস্টুরেন্ট ছিল। এই ঘটনায় প্রায় অর্ধশত মানুষ মারা গেছেন ও অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভবনটিতে জরুরি নির্গমনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।  লিফট ছাড়া একমাত্র সিড়ি যেটি ছিল সেটিও গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ রাখার কাজে ব্যবহার হতো।

ইত্তেফাক/এসটিএম