এবার যেন একটু তড়িঘড়িই গরমটা পড়ল। পড়েই একেবারে চৌচির করে ছাড়ছে। কেতাবি ভাষায় বোধহয় দাবদাহ বলে। বৈশাখ জ্যৈষ্ঠের খুব বোঝাপড়া চলছে। বিষণ্ন রাত ফুরিয়ে সূর্য ওঠার তোড়জোড়ে পুব আকাশটা খুনখারাবি করে উঠছে। তার আলোকছটা এখনো এলাকার সবচেয়ে উঁচু বিল্ডিংটার কাচের দেয়ালের ওপরে পড়েনি। গরমে রাতভর বিছানায় এপাশ ওপাশ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যাদের এই শেষরাতের দিকে একটু চোখ লেগে এসেছে সেইসব ঘুমন্ত মানুষের ওপর দিয়ে নির্বিবাদ ভোরের বাতাস ছঁয়ে যাচ্ছিল, ছুঁয়ে যাচ্ছিল গাছের শাখা-প্রশাখা, পত্র-পল্লবে। আর জানালার নির্লিপ্ত গরাদ জড়ানো পর্দাগুলোতে। অতি সস্তার মেসঘরে মাথার কাছে ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকা ছোট টেবিল ফ্যানটা বন্ধ হয়ে যায়। দিনের শুরুতেই লোডশেডিং, একেবারে হাঁস-ফাঁস অবস্থা।
ঘুম ভেঙে যায় আবুলের। ব্যস্ত সমস্ত রাস্তার একটু ভেতরের দিকের এক গলির মুখে তার ছাপড়া চায়ের দোকান। খানিকটা হেঁটে গেলেই ছোট একটা পার্ক। স্বাস্থ্য উদ্ধারে ব্যস্ত মানুষগুলো একটা-দুটো করে পথে বের হচ্ছে। দিনভর ধুলোবালি, শব্দের ধস্তাধস্তির শহরটা একটু যেন অচেনা লাগে এই ভোর বেলাটায়। লাগবেই তো। বাস-ট্রাক-টেম্পুর মাখামাখি কানে তালা লাগানো ভেঁপুর ঐকতান তখনো সেভাবে শুরু হয়নি। আশপাশের বাড়িগুলো থেকে ফেলে রাখা পলিথিনে ভরা এঁটোকাঁটার স্তূপ ফুটপাতের ওপরে। যদ্দুর পেরেছে রাস্তার কুকুরগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাতের ভূরিভোজ সেরেছে। তা থেকে এমন গন্ধ বেরুচ্ছে যে আবুলের তো বটেই সে রাস্তা দিয়ে যে-ই যাচ্ছে তার-ই মনে হচ্ছে পেটের নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে আসবে। কে বলবে এটা অভিজাত এলাকা।
মেয়র ভাইয়ের লোকেরা কখন আসবে কে জানে, এদিকে প্রাণ যায় যায় অবস্থা। প্রাণের দায়ে নিজেই সাফ করতে লেগে যায় আবুল। তাছাড়া খরিদ্দার লক্ষ্মী সে কথাটাও তার মাথায় রাখতে হয়। একটু পরেই তো লক্ষ্মীর আনাগোনা শুরু হবে। লোকজন এসে দিনের প্রথম চায়ের ঢোকটা তার দোকানে বসেই গিলবে। বাঁশ দিয়ে বানানো ছোট সাইজের দুইটা বেঞ্চ আছে। আগে আসলে আগে বসবেন এই নিয়মে বসে খরিদ্দার। এখনো দেখা যায় লোকজনের ভেতরে কিছু আদব-লেহাজ আছে। মুরব্বি দেখলে উঠে দাঁড়ায়।
তারপর তার হাতের আদা চা, লেবু চা, এলাচ চা, দুধ চা যার যেমন খুশি খেয়ে যেদিকে যাওয়ার চলে যায়। কিছু লোক যায় না। চা খেতে খেতে আজাইরা আলাপ করে। চায়ের পানি গরম হবার আগেই যে লোকটা প্রতিদিন সবার আগে আসে, সে আজ একটু আগেই এসেছে। এসে চুপচাপ বেঞ্চে বসে মাথাটা একটু নিচের দিকে ঝুলিয়ে রেখছে। হাত দুটো হাঁটুর ওপর ভর করা যেন দুই খুঁটিতে লম্বা কলাগাছটাকে ঠেকা দেওয়া। গরমে রাতে নিশ্চয়ই তার ভালো ঘুম হয়নি। তাই এখানে এসে ঝিমাচ্ছে। গরমের এই সময়টাতে সে একটু ছিটগ্রস্ত হয়ে পড়ে। অন্য সময় যা থাকে উদ্দীপনার মতো তা হয়ে ওঠে রীতিমতো উত্তেজনা। কিন্তু এখানে এসে সেরকম বাড়াবাড়ি কোনো খেপামি করে না। তা না করুক, আজাইরা আলাপের শুরুটা সেই করে। চা-টা একটু বেশিই খায়। চা খেতে খেতে রাজা-উজির মারে। আলাপ করে দেশের রাজনীতি নিয়ে, অর্থনীতি নিয়ে, খাদ্যে ভেজাল নিয়ে, দুর্নীতি-বাটপারি নিয়ে।
টাক মাথা লোকটা কোত্থেকে হন্তদন্ত হয়ে হেঁটে এসেছে। দরদর করে ঘামছে, গায়ের সাদা পাঞ্জাবিটা লেপটে আছে শরীরের সঙ্গে। বেঞ্চের খালি জায়গাটা পেয়ে ধপ করে বসে পড়ে। তারপর আস্তেধীরে পেপার খুলে বসে। আবুল চায়ের কাপ ধরিয়ে দেয় তার হাতে। এক ঢোক চায়ে সবে গলাটা ভিজেছে কি ভেজেনি অমনি শুরু হয় তার প্যাঁচাল। শব্দ করে কিছু বলার সাহস হয় না, আবুল মনে মনে গাল পাড়ে—আরে বাবা ভোর বেলায় আসছিস, শান্তি করে এক কাপ চা খা। তারপর পেপারটা ভালো করে পড়, তারপর না হয় প্যাঁচাল পাড়িস।
—একটা দিন বাদ যায় না এইসব খবরে। আজকেও তিন-তিনটা লাশ ফেলনের খবর।
—মারার অধিকার খালি সন্ত্রাসীগোই থাকবো, তা-ই না?
—যে যারে বাগে পাইতেছে সে হেরে মারতাছে। মারবোই তো।
কেমনে সস্ত্রাস দমন করবো সেইডা সরকারের ব্যাপার। আপনার মাথা ঘামানির কাম কী? বলতে বলতে লোকটা বেঞ্চে একটা লাথি মেরে বেরিয়ে যায়। বেলা উঠতে উঠতে প্যাঁচাল আরো গরম হয়।
দুম করে আজাইরা প্যাঁচাল ঘুরে যায় ঘুষখোরদের গুষ্টি উদ্ধারে। ব্যাংক লুট থেকে শুরু করে দেশের নদী-নালা, খাল-বিল লুটপাট হয়ে যাচ্ছে বলে আহা-উঁহুরও কমতি নেই। ওভার ব্রিজের নিচে জোয়ান পঙ্গু ভিক্ষুকটা যে কতখানি লুচ্চা, তার উদ্দেশ্য যে ভালো না, এই মর্মে তাকে যাচ্ছেতাই বলে গালমন্দ দেওয়া থেকে শুরু করে শেয়ার বাজারের মালিকদের কাপড় খুলতে বাকি রাখছে না। খুব জমেছে আজকে।
—এই দেশের মানুষের কিচ্ছু হবে না। বুঝলেন মানুষজন এত খারাপের খারাপ। এত খাইসটার খাইসটা। বলতে বলতে থার্ড টাইম চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ষণ্ডামার্কা লোকটা চায়ের প্যাকেটটা ছুড়ে মারে রাস্তার ওপর। আবুল ইতিমধ্যে মিউ মিউ করে বলে, স্যার, এইখানে ময়লা ফেলার বালতি আছে। এইখানে ফেলেন। তার মিহি ভীতু অনুচ্চ স্বর ষণ্ডামার্কা লোকটির উচ্চ স্বরের ডামাডোলে হারিয়ে যায়। —দেহেন না রাস্তায় রাস্তায় ট্রাকে ভইরা ময়লার পাহাড় ফ্যালাইয়া রাখে। এইডার মানে কী? ময়লা ফেলনের আর জায়গা পায় না? দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়া হাঁটা যায় না।
—পেপার খুললেই মেজাজ গরম হয়ে যায়। এই যে প্রত্যেক দিন ধর্ষণ হইতেছে। এইডা কেমনতর দেশ হইল। রাস্তাঘাটে চলবে না? স্কুল-কলেজে যাবে না? বাসে গাড়িতে মেয়েরা উঠবে না? উঠলেই এইরকম কাহিনি হবে?
—আপনে পুরুষ মানুষ, আপনার নিরাপত্তা আছে? আবার মেয়েদের নিরাপত্তা খোঁজে! আবালের দল।
—আরে মিয়া, আপনে তো শুধু পেপারের খবর দেখতাছেন। পেপারের বাইরেও যে কত ঘটনা ঘটতাছে তার খবর কে রাখে? আর মেয়েমানুষের নিরাপত্তা? আরে মিয়া, আপনে যেমন কইতেছেন তাইলে তো একজন মেয়ের সাথে একজন পুলিশ বডিগার্ড লাগাইয়া রাখা দরকার। এর বিরুদ্ধে কড়া আইন দরকার বুঝলেন?
—কী বলতে চান আপনে? আল্লার চাইতে পুলিশ কি বড় হয়ে গেছে?
—আরে উল্টা বুঝলে কেমনে হইবো? এইগুলো কোনো কথাই না, মাইরের উপর কোনো ওষুধ নাই। আল্লার বিচার তো পরকালে। সেই বিচারের তো কোনো মাফ নাই। হাবিয়া দোজখ মনে করেন যে খোলাই আছে। কিন্তু এই দুনিয়ায় কুলাঙ্গারগুলারে ধরতে পারলেই জায়গামতো গুলি। পুলিশের হাতে বন্দুক আছে। জানতেছেন লোকটা অপরাধী তারপরেও বিচারের নাটক করেন। তারপর সেই নাটক সিরিয়াল হয়ে যায়। এইসব চলবে না।
আবুলের অসহ্য লাগে, কিন্তু কিছু বলার নেই। আইন আছে আইনের মতো। যারা আইন ভাঙতে চায় তারা আছে তাদের মতো। যারা ঘুষ খাওয়ার সুযোগ পায় তারা ঘুষ খায়। যারা অন্যায় করার তারা অন্যায় করে। যারা পার পাওয়ার তারা পার পেয়ে যায়। তার কিছু বলার নেই, সে কিছু বলে না। তার কিছু বলাও সাজে না, সামান্য অতি সামান্য মানুষ সে। তবে সে মনে মনে ঠাওর করার চেষ্টা করে—লোকগুলো আসলে কোন দলের? এতদিনে বুঝেছে এরা আসলে কোনো দলের না। এদের কিছু করার নেই তাই আজাইরা প্যাঁচাল পাইড়া মনের ঝাল মিটায়। যাদের কিছু বলার ক্ষমতা থাকে তারাই তো একটা দলের হয়ে যায়। অথবা তাদেরকেও দল টেনে নেয় চুম্বকের মতো।
আবুল চুপচাপ চায়ের কাপ ধোয়, চা বানায়, কাপে চা ঢালে, চিনি ঢালে। তারপর তুমুল চামচ নেড়ে চিনি গোলায়। আসলে ওই তুমুল চামচ নাড়ানোর মধ্যেই তার সমস্ত রাগ ঢালে।
এইসব আজাইরা আলাপ থেকে কেউ কেউ ইস্তফা দিয়ে চলে যায়। কে জানে কোন চুলোয় যায়। যোগ হয় নতুন নতুন মুখ। কেউ কেউ চায়ের দাম না দিয়েই চলে যায়। যারা বড় বড় কথা বলে তাদের মধ্যেই কেউ কেউ এ কাজটা করে। বুঝতে পারে কিন্তু আবুল কিছু বলে না। কেননা মস্তানরা ভাঙচুর করলে তার ব্যবসা লাটে উঠবে। চায়ের দাম চেয়ে বিপদ ডেকে আনার মতো আহাম্মক সে নয়। মা, বৌ, পোলাপান নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আটজন মানুষের সংসার এই চা বিক্রির ওপর। তার সামান্য ব্যবসা তাও এই শহরে চান্দাবাজির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
আবুলের ছাপড়া দোকানের ওপর মাঝারি সাইজের একটা কাঠবাদাম গাছ আছে। এই চান্দিফাটা গরমের মধ্যেও কী চমত্কার সবুজ বড় বড় পাতা। পাতাগুলোর ওপর রোদ পড়ে চকচক করে। গাছটা এই বিশাল গরমে ঠান্ডা ছাতার মতো কাজ করে। ঝিরঝিরে বাতাস বয়ে যায়। লোকজন হাঁস-ফাঁস করতে করতে একটু জিরিয়ে নেয়। বৃষ্টি হলে ছাতার নিচে এসে দাঁড়ায়। তখন তার আদা কুচানো, লবঙ্গ দেওয়া চায়ের কাটতি হয় রমরমা। তখন বস্তাপচা আজাইরা প্যাঁচাল অনায়াসে সহ্য হয়ে যায় তার। শুধু সহ্যই হয় না রীতিমতো উপভোগও করে।
আবুল কম কথা বলা মানুষ। আজ আজাইরা প্যাঁচালের মানুষজন যেন একটু বেড়েছে। যেমন বেড়েছে গরম সেইসঙ্গে এদের ঝনঝনানি কথার তাপও। সেই ঝনঝনানির আতশে চৈত্রের ঠিক মাঝখানে বৃহষ্পতিবার দিনটাতে আগুনে ঘিরে ধরল কোন রাজপ্রাসাদ। এই শহরে রাজপ্রাসাদের তো কোনো অভাব নেই। চারদিকে অগুন আগুন শব্দ। আজাইরা প্যাঁচালবাজরা কে কোথায় ছুটে পালাল ঠিক ঠাহর করতে পারল না আবুল। লোকজন এলোপাতাড়ি ছোটাছুটি করছে। পটকা ফাটার মতো ঠাস ঠাস শব্দ হচ্ছে। খুব উঁচু কোথা থেকে যেন কাচ ভেঙে পড়ার শব্দ পাচ্ছে আবুল। শব্দে কান ধরে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আগুন চিত্কারে দিগিবদিক বিভিষীকাময় হয়ে উঠল। আবুল দোকান সামলাবে না কোথায় আগুন লেগেছে তার সন্ধান করবে বুঝে উঠতে না পেরে কিছুক্ষণ ভ্যাবলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তার চোখের সামনেই তো ঘটনাটা অঘটনের দিকে যাচ্ছে। সে এতক্ষণে দেখতে পেল এই এলাকার সবচেয়ে উঁচু বিলডিংটা—সকাল দশটা-এগারটা পর্যন্ত সূর্যটাকে আড়াল করে রাখে, সেই বিলল্ডিংটাই এখন ধোঁয়া আর আগুনের কুণ্ডলীর মধ্যে ডুবে আছে মাঘমাসের ঘন কুয়াশার মতো। ভেতরে আটকাপড়া মানুষদের বাঁচার আকুতিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। দেখেতে দেখতে দমকল বাহিনী এল। পানির পাইপ নিয়ে তারা সাধ্যমতো ছোটাছুটি করতে লাগল।
বিল্ডিংটা কয়তলা অবসরে আবুল তা গোনার চেষ্টা করত। আর প্রত্যেকবারই ভুল করত। কোনোবারই ঠিকঠাক গুনে উঠতে পারেনি। বিশ-বাইশ না তেইশ তলা। একবারও ঠিক হয় না গোনা। সেই বহুতল ভবন এখন আগুনে পুড়ছে। রাস্তায় শত শত লোক ভিড় করে দেখছে। ভেতরে কত লোক যে মারা যাবে তার ঠিক নেই। কত লোক যে দগ্ধ হয়ে জীবনমৃত অবস্থায় আসবে তারই বা কি ঠিক আছে। অতি কৌতুহলীরা মুঠোফোনে ভিডিও করতে ব্যস্ত, সেলফি তোলায় ব্যস্ত। ফোনে চিত্কার-চেঁচামেচি করে কথা বলছে, আহাজারি করছে। তাতে প্রমাণ হবে যে আমি ওই ঘটনার সময় ঠিক সামনেই ছিলাম। কিছুদিন আগেই না চুড়ি হাট্টায় এই রকম ঘটনা ঘটল। সেই দিনও তো এই রকম কেয়ামতের অবস্থা। এরই ভেতরে এক শিশু দমকল বাহিনীর একটি পাইপের ছিদ্র প্রাণপণ চেষ্টায় তার কচি দু হাতে চেপে ধরে আছে, ছিদ্র দিয়ে যেন পানি বেরিয়ে যেতে না পারে। তার তো মোবাইল ফোন নেই তাই সে এই মহান কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল। টেলিভিশন, প্রিন্টমিডিয়া, ইউটিউব চ্যানেলগুলো উপচানো খবরের বন্যায় ভেসে যেতে লাগল। খবরের কাগজগুলো অসংখ্য চিত্রসহ কত বিচিত্র আবেগঘন খবর ছাপল ক দিন।
এখন সব চুপচাপ। ক দিন আগে এখানে একটা কিছু ঘটেছিল এখন তা মনেই হয় না। কিছু মানুষের লাশপোড়া গন্ধ শহরের ঘন কার্বন-সিসা আরো কীসব বিষাক্ত গ্যাসে মিলানো বাতাসে মিলিয়ে গেছে সন্তর্পণে। এখন এই রাস্তায় কত স্বাভাবিকভাবে গাড়িঘোড়া চলছে। ভেঁপু বাজছে। জ্যাম লাগছে। থেমে থাকা গাড়িগুলোর সামনে টোকাইরা ফুল বিক্রি করছে। গাড়ির জানালায় টোকা দিয়ে ভিখারিরা ভিক্ষা করছে। কেউ কেউ ঠান্ডা পানির বোতল বিক্রি করছে। কেউ বা হাতে কিছু বই নিয়ে ফেরি করছে। বাধা থাকা সত্ত্বেও কিছু লোক রাস্তার ডিভাইডার পেরুচ্ছে আপ্রাণ চেষ্টায়। তারপর ধৈর্যের শেষ সীমায় চড়ে জ্যাম ছেড়ে যাচ্ছে। সেইসঙ্গে কে কার আগে যাবে সেই প্রতিযোগিতায় নামার আগে গগনবিদারী ভেঁপু বাজানোর উত্সবে মেতে ওঠে কোনো কারণ ছাড়াই। ট্রাফিক সিগনাল থোড়াই কেয়ার।
আবুলের ছাপড়া চায়ের দোকানে আজাইরা প্যাঁচালে আবারও গরম হয়ে ওঠে চায়ের কাপগুলো। অঘটনটা কবে যেন ঘটল? আবুল মনে করার চেষ্টা করে। অনেক পরে তার মনে পড়ে, যেদিন ষণ্ডামার্কা লোকটা চা খেয়ে তার টাকা না দিয়ে চলে গিয়েছিল।
