ত্রিভুজ প্রেমের বলি মাফিজুল, ২২ মাস পর লাশের খোঁজ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ২২:১১

নাটোরের গুরুদাসপুরে পরকীয়া প্রেমের জেরে খুন হয়েছিলেন মাফিজুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবক।  দীর্ঘ ২২ মাস পরে তার লাশের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। একটি মাদরাসার টয়লেটের মেঝেতে পুঁতে রাখা লাশটি উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার (১ মার্চ) রাতে চারজনকে অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের মা মাহিনুর বেগম। 

হত্যাকাণ্ডের শিকার মাফিজুল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় খলিফা পাড়া মহল্লার আজাদ প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় রঙ মিস্ত্রি ছিলেন। 

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গৃহবধূ তানজিলা (৩৫), তার বাবা নৈশ্যপ্রহরী তাহের খলিফা (৬৫), সাবেক স্বামী আল-হাবিব (৩৯) ও পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুলকে (৪৫) পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে পালানোর সময় আসামি আশরাফুলকে বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকা থেকে আজ শনিবার সকালে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এসময় তার কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়। আশরাফুল পৌর সদরের খামারনাচকৈড় মহল্লার আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে তানজিলা তার স্বামী আল-হাবিবকে সঙ্গে নিয়ে আপন ছোটভাই সবুজকে (১০) খুন করেছিলেন। ওই মামলায় আল-হাবিব জেলহাজতে থাকা অবস্থায় আশরাফুলের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে যান তানজিলা। স্থানীয় একটি বেকারীতে চাকরি করার সুবাদে মাফিজুলের সঙ্গে আবারও পরকীয়ার সম্পর্ক গড়েন তিনি। 

মাফিজুলের সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষিপ্ত হন আল-হাবিব ও শ্বশুড় তাহের খলিফা ও পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুল। আল-হাবিব জামিনে বেরিয়ে এলে ২০২২ সালের ১৭ এপ্রিল তানজিলা পরকীয়া প্রেমিক মাফিজুলকে চাঁচকৈড় পুড়ানপাড়ায় তার বাবার বাড়িতে ডেকে নেন। এক পর্যায়ে তানজিলা, তার স্বামী আল-হাবিব, বাবা তাহের খলিফা এবং প্রেমিক আশরাফুলের সহযোগীতায় মাফিজুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। রাতেই  বাড়ির পাশের চাঁচকৈড় বালিকা দাখিল মাদরাসার নির্মাণাধীন টয়লেটের মেঝের বালু খুঁড়ে সেখানে লাশ পুঁতে রাখা হয়। তানিজলার বাবা ওই মাদরাসার নৈশ্যপ্রহরী। এ ঘটনায় নিহত মাফিজুলের পরিবারের পক্ষ থেকে ২০২২ সালের ৭ মার্চ গুরুদাসপুর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।   

নিহত মাফিজুল ইসলাম | ছবি : সংগৃহীত

যেভাবে রহস্য উদ্ঘাটন হলো
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পর গত বছর তানজিলার সঙ্গে স্বামী আল-হাবিবের বিচ্ছেদ ঘটে। একপর্যায়ে তানজিলার করা যৌতুকের মামলায় আবারও জেলহাজতে যান আল-হাবিব। জেলহাজতে থাকা অবস্থায় আল-হাবিব গুরুদাসপুরের এক ব্যাক্তির কাছে মাফিজুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল শুক্রবার থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলার আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। 

একপর্যায়ে আসামিদের সাহায্যে লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে মাদরাসাটিকে ঘিরে উৎসুখ মানুষের ভিড় পড়ে। তবে শুক্রবার রাত থেকেই চাঁচকৈড় বালিকা দাখিল মাদরাসায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে। লাশটি উত্তোলনের জন্য আদালতে আবেদন করেছে পুলিশ।

মামলার বাদি মাহিনুর বেগম বলেন, তানজিলা তার ছেলের সঙ্গে গুরুদাসপুরের মাহি বেকারিতে চাকরি করতেন। কিন্তু আসামি আশরাফুলের সঙ্গে আগে থেকেই তানজিলার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে তার ছেলে মাফিজুলকে রাতের বেলা বাড়িতে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছেন আসামিরা। তিনি আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। 

স্থানীয় কাউন্সিলর শেখ ফরিদ বলেন, মাফিজুলের সঙ্গে তানজিলার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠায় ক্ষিপ্ত ছিলেন পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুলও। মূলত পরিকল্পিতভাবে মাফিজুলকে খুন করেছেন আসামিরা। 

গুরুদাসপুর থানার ওসি উজ্জল হোসেন বলেন, যেখানে লাশটি পুঁতে রাখা হয়েছে, সেখানে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।

সিংড়া-গুরুদাসপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, মামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা আসামিদের গ্রেপ্তার করেছেন। পুলিশ হেফাজতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আদালতের নির্দেশে লাশটি উত্তোলন করে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হবে।  

ইত্তেফাক/ডিডি