‘এভাবেই ফিরে আসা যায়’। ফিরে আসার জন্য আপনার সেরা অনুপ্রেরণা হতে পারেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। কারণ চোট নিয়ে মাঠের বাইরে থাকা সাইফুদ্দিন বিপিএলের মধ্য সময়ে ফিরে বল-ব্যাট হাতে নিজের যে প্রত্যাবর্তনটা দেখিয়েছেন তা হয়তো সব চোটে পড়া ক্রিকেটারদের স্বপ্ন হিসেবেই থাকে।
২০১৭ সালে কলম্বতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে জাতীয় দলে অভিষেক হয় মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের। এরপর নিয়ে শক্তি-সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে হয়ে উঠেন দলের পরিচিত মুখ। তবে এই ক্রিকেটারের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বাধা ছিল বেরসিক ইনজুরি। যদিও স্পোর্টস ম্যান আর ইনজুরি একই সুতায় গাঁথা। তবে সাইফুদ্দিনের বেলা তা যেন ছিল দুই কাঠি বেশি।
২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপের সময়ই পিঠের চোটে ভুগছিলেন এই ক্রিকেটার। এর পর জাতীয় দলে নিয়মিত হতে পারেননি তিনি, ইনজুরির কারণে। সেই সঙ্গে ঘরোয়া লিগেও খেললেও তার ইনজুরির চাপ মাঠে ছিল স্পষ্ট। তবে সদ্য শেষ হওয়ার বিপিএলের নয়া চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশাল তার ওপর আস্থা রেখে নিজেদের ডেরায় ভেড়ায়। আর দলতে তার সেরা প্রতিদান দিয়েছেন ফেনী এক্সপ্রেস।
ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টটির শুরু থেকে না থাকলেও মাঝ পথে যোগ দেন বরিশালের শিবিরে। আর তারপরই যেন দেখিয়ে দিয়েছেন নিজের আসল রূপ। এবারের আসরে ৯ ইনিংসে ৩৪ ওভার ৩ বল করে ৬.৮১ ইকোনমিতে শিকার করেন ১৫ উইকেট। যা আসরের চতুর্থ সর্বোচ্চ। হয়তো শুরু থেকে খেললে সেরা উইকেট শিকারিও হতে পারতেন তিনি। এছাড়া চার ইনিংসে ব্যাট হাতে করেন ৬৩ রান। তবে এসব পারফরম্যান্স ছাপিয়েছে গেল পরশু ফাইনালে তার সাবেক ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিজের সেরাটা নিংড়ে দিয়ে।
প্রথম ইনিংসের শেষ ওভারে ভিক্টোরিয়ান্সদের বিপক্ষে বল হাতে আসেন সাইফুদ্দিন । ব্যাট হাতে ক্রিজে তখন ক্রিকেটের দানবীয় ব্যাটার খ্যাত আন্দ্রে রাসেল। আর তার আগের ওভারেই ফুলারের ওভারে ৩ ছয় হাঁকিয়েছিলেন রাসেল। ধারণা করা হচ্ছিল, শেষ ওভারেও তেমন কিছু দেখা যাবে। তবে সাইফুদ্দিনের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং সেই ওভারে কোনো বাউন্ডারি হাঁকাতে পারেননি টি-টোয়েন্টির এই ফেরিওয়ালা। শেষ ওভারে মাত্র ৭ রান খরচা করেন সাইফুউদ্দিন তার মধ্যে ৪টি রানই অতিরিক্ত দেওয়া। আর সেখানেই আটকে গেছে কুমিল্লা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনেও ঐ ওভারের প্রশংসা করেছেন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। অধিনায়ক বলেন, ‘আমাদের শিরোপা জেতা হয়ে গেছে, কিন্তু শেষের ওভারটা অবিশ্বাস্য ওভার ছিল। ওখানে ধরেন যদি ১৫টা রান হয়ে যেত, তখন প্রায় ১৭০ চেজ করতে হতো, সেটা একটু কঠিনই হয়ে যেত।’ এছাড়াও দলে সাইফুদ্দিনের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তামিম বলেন, ‘তার অন্তর্ভুক্তিটা আমার কাছে মনে হয় যে, গেম চেঞ্জার হিসেবে এসেছে আমাদের। আমাদের বোলিংটা প্রথম দিকে অতটা শক্তিশালী ছিল না। ও আসার পর আমার কাছে মনে হয়, আমরা পূর্ণশক্তির হয়েছি’।
