দেশীদের তোপে নিষ্প্রভ বিদেশিরা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৪, ১২:৪১

৪৭ দিনের ক্রিকেটযজ্ঞ দশম বিপিএল শেষ। হয়েছে ৪৬ ম্যাচ। এই আসরে ৭টি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক দলগুলোর তারকা খেলোয়াড়দের মাঠ মাতিয়েছেন। পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজিতে বাবর আজম, রিজওয়ান, জস ব্রাউন, অ্যালেক্স রস, বেনি হাওয়েলের মতো বিশ্ব ক্রিকেটের বেশ কিছু তারকাকে মাঠ মাতাতে দেখা গেছে। বিদেশিদের তুলনায় দেশি ক্রিকেটারদের দাপটই ছিল দেখার মতো। ব্যাটিং-বোলিং কিংবা ফিল্ডিং সব ডিপার্টমেন্টেই ছিল দেশি ক্রিকেটারদের দাপট।

বিগত কয়েক আসর ধরেই বিপিএল নিয়ে নানান ধরনের আলোচনা-সমালোচনা শোনা যায়। তার বেশির ভাগই ক্রিকেটের সম্প্রচারে উন্নত প্রযুক্তির ক্যামেরা ব্যবহার না করা অথবা উইকেট টি-টোয়েন্টি কেন্দ্রিক না হওয়া নিয়ে। এছাড়া সবশেষ বার তো রিভিউর আধুনিক প্রযুক্তি ডিআরএস শুরু থেকে না থাকা নিয়েই ছিল। কিন্তু এবার যেন সবকিছু বদলে দিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। সমর্থকদের সব চাওয়াই এবার পূরণ হয়েছে।

নতুন চ্যাম্পিয়ন

বিপিএলে শিরোপার দিক থেকে সবচেয়ে সফল দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এবারের আসরের আগে চারবার ফাইনাল খেলেছিল ফ্রাঞ্চাইজিটি। এতে করে আসরের সর্বোচ্চ ট্রফি গেছে তাদের ক্যাবিনেটেই। এবারও উঠেছিল ফাইনালে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল বরিশাল। তাদের বিপক্ষে ২০২২ সালে, অর্থাৎ অষ্টম বিপিএলে ফাইনাল জিতে নিজেদের তৃতীয় শিরোপা জিতেছিল কুমিল্লা। তবে এবার আর হয়নি, খুব কাছ থেকে পঞ্চম শিরোপা দেখেও ছুঁতে পারেনি তারা। তাদের ৬ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের প্রথম শিরোপা জিতে নেয় বরিশাল।

তামিম-মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ বোঝালেন তারা ফুরিয়ে যাননি

এবারের আসরে অন্যদের তুলনায় একেবারেই ব্যতিক্রম দল গঠন করেছিল ফরচুন বরিশাল। দেশের ক্রিকেটের পঞ্চপাণ্ডবের তিন পাণ্ডব তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিমকে দলে ভিড়িয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। পাশাপাশি দলে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, তাইজুল ইসলাম, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের মতো দেশের তারকা ক্রিকেটাররা। 

আসরের শুরুতে কেউ হয়তো ধারণা করতে পারেনি শেষ হাসিটা এই দল হাসবে। শুধু তাই নয়। প্রথম পর্ব পেরিয়েও তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে নিজেদের শেষ ম্যাচ অবধি। তবে যাদের চেষ্টা থাকে আকাশ ছোঁয়ার, তাদের থামায় কে? অ্যালিমেনেটর রাউন্ডে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে উড়িয়ে কোয়ালিফায়ার দুইয়ে জায়গা পায় বরিশাল। সেখানে রংপুর রাইডার্সকে পাত্তাই দেয়নি তারা। আর শেষ ম্যাচে ফাইনালে তো কুমিল্লায় থাকা বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের তারকা খেলোয়াড়েরা যেন অভিজ্ঞ এই টাইগারদের সামনে আত্মসমর্পণ করেছে।

দেশি ক্রিকেটারদের দাপট

প্রতি বিপিএলে বিদেশি তারকা ক্রিকেটাররা চড়া মূল্যে খেলতে আসেন। নিজেদের আলো ছড়িয়ে টুর্নামেন্টে সেরার ছাপ রেখে যান। তবে গত আসর থেকে দেশি ক্রিকেটাররাও তাদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া শুরু করেছেন। এবার তো দেশিদেরই রাজত্ব দেখা গেছে। টুর্নামেন্ট-সেরা ও সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছেন ফরচুন বরিশালের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

তিনি ১৫ ইনিংসে তিন ফিফটিতে সংগ্রহ করেছেন ৪৯২ রান। শুধু তাই নয়, আসরে সর্বোচ্চ ৪ মারার রেকর্ড (৫৪) তার দখলে। এই তালিকার পরের চারটি স্থানও দেশি ক্রিকেটারদের দখলে। আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি শরীফুল ইসলাম (২২)। সেরা ফিল্ডার নাঈম শেখ। আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাকিয়েছেন তাওহিদ হৃদয়।

ইত্তেফাক/জেডএইচ