মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

যমুনায় নাব্য সংকট, নৌ চলাচল ব্যাহত

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪, ১১:৫৬

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন নতুন চর জেগে ওঠায় আবারো নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। যে কারণে নৌ যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে ৫-৬ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হচ্ছে। সময় ও জ্বালানি খরচ বেশি হওয়ার কারণে অনেক মাঝি নৌকা চালানো বন্ধ রেখেছেন। চরাঞ্চলের মানুষকে পায়ে হেঁটে চর পাড়ি দিয়ে একাধিকবার নৌকায় পার হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। ডুবোচরের কারণে ১ ঘণ্টার নদী পথ পার হতে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানায়, প্রতিদিন অগণিত মানুষ জেলা শহর ও উপজেলা প্রশাসন, থানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়তে জেগে ওঠা ডুবোচরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শহর এলাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চরাঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থী প্রতিদিন যমুনা নদী পার হয়ে লেখাপড়া করতে যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন যমুনা নদী পার হয়ে আসা মানুষকে অনেকটা সময় নষ্ট করতে হচ্ছে।

কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা মনসুর নগর চরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, চর ঘুরে কাজিপুরে আসতে প্রায় দেড়-দুই ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে।

মেঘাই ঘাটে সবজি বিক্রি করতে আসা নাটুয়ারপাড়া চরের ফুলজোর গ্রামের হোসেন আলী জানান, মেঘাই আসতে দুই বার নদী পার হতে হয়। নৌকা নিয়ে আসতে অনেক সময় লাগে।

ছিন্ন চরের শিক্ষার্থী তাহমিনা এবং ছালাল চরের শিক্ষার্থী সোহেলী জানান, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীতে অসংখ্য চর জেগে ওঠায় নদী পার হতে অনেক জলপথ ঘুরে আসতে হয়। সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। বাড়ি থেকে ভোরে বের হয়ে স্কুল-কলেজ শেষ করে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। এতে আমাদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার দোরতা চরের কৃষক ছালাম জানান, কৃষি পণ্য নিয়ে ভোরে সিরাজগঞ্জ শহরে নৌকায় আসতে অনেক সময়ই বাজারের বেলা চলে যায় যে কারণে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে হয়।
 
কাজিপুর উপজেলার মনসুর নগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজমহর বলেন, শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীর বিভিন্ন শাখা নদী শুকিয়ে যাওয়ায় প্রতি বছরই চরবাসীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ সময় শিক্ষার্থী ও রোগীদের কষ্ট আরো বেড়ে যায়। আবার নদীতে পানি আসলে মানুষ ভোগান্তি থেকে রেহাই পায়। দুঃখ-কষ্ট-ভোগান্তি নিয়েই চরবাসীরা বেঁচে আছে বলে তিনি জানান।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়া মুন্সি বলেন, পানি কমে যাওয়ায় ক্যানেলে নৌকা আটকে যাওয়ায় দুর্ভোগ বাড়ছে। নিদিষ্ট সময় নৌকা না পাওয়ায় অনেক সময় শহরে আত্মীয়র বাসা বা হোটেলে রাত্রি যাপন করতে হয়।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মাইফুজ উল আলম মোল্লা বলেন, সিরাজগঞ্জ থেকে কুড়িগ্রামের দইখাওয়া পর্যন্ত প্রটোকল নৌপথ। এই পথে ইন্ডিয়ার সাথে প্রটোকল চুক্তি করা আছে। বর্তমানে রুটে ৮ ফুট পানির গভীরতা আছে। নাব্য সংকট দেখা দিলে ড্রেজিং করা হয়। কিছু দিন পূর্বে সিরাজগঞ্জে মতি সাহেবের ঘাট (চায়না বাধের সামনে) ও চৌহালিতে ড্রেজিং করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, চ্যানেলের বাইরে নাব্য সংকট আছে। ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে হাইড্রোগ্রাফি জরিপের চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে। জরিপ শেষে সমস্যা দূরীকরণে ড্রেজিং করা হবে। 

ইত্তেফাক/একেএম