তবে কি শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ফিরছেন ট্রাম্প?

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪, ১২:৫৮

মামলা, আদালতে ছোটাছুটির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে ভালোভাবেই এগিয়ে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সর্বশেষ তিনি মিসৌরি, মিশিগান ও আইডাহো অঙ্গরাজ্যে দলীয় ককাসে জিতেছেন।

আগামীকাল মঙ্গলবার ‘সুপার টিউসডে’ নামের ভোটে ১৫টি অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী বেছে নেওয়ার জন্য ভোট দেবেন। বিভিন্ন জরিপে বলা হয়েছে, এসব রাজ্যের প্রাইমারিতে ট্রাম্পের একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী নিকি হ্যালের একটিতেও জয় পাওয়ার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে আগামী জুলাইতে রিপাবলিকান দলীয় কনভেনশনে মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের নাম ঘোষণা এখন আনুষ্ঠানিকতা মাত্র!

সংশ্লিষ্টদের মতে, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রিম্যাচ হিসেবে আগামী নভেম্বরে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মুখোমুখি হবেন ট্রাম্প। এর মধ্যেই তিনি নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী হয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে। ট্রাম্প বলেছেন, আসছে নভেম্বরে জো বাইডেনের চোখে চোখ রেখে বলব, ‘বাইডেন, ইউ আর ফায়ারড্! গেট আউট, গেট আউট!’ আবারও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ ছিল খোদ রিপাবলিকান দলের মধ্যেই।  কারণ এই দৌড়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে প্রতিবন্ধকতাও নেহায়েত কম নয়। সম্প্রতি তাকে প্রায় সাড়ে ৩৫ কোটি ডলার জরিমানা করেছেন দেশটির একজন বিচারক। তবে সুদসহ এই অংক দাঁড়াতে পারে ৪৫ কোটি ডলারে। সম্পত্তির মূল্য সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের তহবিলে এই জরিমানা দিতে হবে তাকে। নিউ ইয়র্কের কোনো ব্যাংক থেকে পরবর্তী তিন বছরের জন্য ঋণ নেওয়ার বিষয়ে তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি করেছেন বিচারক। পাশাপাশি ট্রাম্প তার কোম্পানির পরিচালকও থাকতে পারবেন না বলে আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এই রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। এই জরিমানা বাদেও একটি মানহানির মামলায় লেখক ই জন ক্যারলকে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি ডলার জরিমানা দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাকে। এর মধ্যে সরকারি গোপন নথি নিজের কাছে রাখা এবং ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা চলছে তার বিরুদ্ধে। তবুও ট্রাম্পের এত জনপ্রিয়তা কেন? বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের আইনি ঝামেলা দিন দিন যতই বাড়তে থাকুক না কেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জন্য রিপাবলিকানদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। গত এপ্রিলে যখন প্রথমবারের মতো অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে বস্তুত তার পক্ষে সমর্থন বেড়েছে। যদিও ট্রাম্পই হলেন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়া প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

প্রথমবার গ্রেফতার হওয়া ও আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর থেকে ট্রাম্পই পরিণত হয়েছেন রিপাবলিকান ভোটারদের প্রথম পছন্দে। যুক্তরাষ্ট্রে ইপসসের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা ক্লিফোর্ড ইয়ং মনে করেন, ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের মধ্যে যে একাত্মতাবোধ—তা ভাঙা কঠিন হবে। রিপাবলিকান ভোটারদের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশই ট্রাম্প সমর্থক। তারা ট্রাম্পের চোখ দিয়েই দুনিয়াকে দেখে। তারা বিশ্বাস করে ট্রাম্পের প্রতি অন্যায় করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গোপন দলিলপত্র নিজের কাছে রাখার অভিযোগে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে মামলা—তা নিয়ে বিবিসি কিছু রিপাবলিকান ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে এবং একই রকম মতামত পেয়েছে।

এ বছরের শুরু থেকেই ট্রাম্পকে একদিকে প্রচারাভিযানের সময়সূচি এবং আরেকদিকে আদালতে হাজিরা দেওয়া—এ দুটিই সামাল দিতে হচ্ছে। দোষী সাব্যস্ত হলেও বা দণ্ডিত হলেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে না দাঁড়ানোর ঘোষণা আগেই দিয়ে দিয়েছেন তিনি। আপাতত যা দেখা যাচ্ছে তা হলো, ট্রাম্প জনসমর্থনের দিক থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চেয়ে কিছুটা এগিয়েই আছেন। দ্য ইকোনমিস্টের সর্বশেষ জরিপ বলছে, এখন ৪৬ শতাংশ জনমত ট্রাম্পের পক্ষে। আর বাইডেনকে চান ৪৪ শতাংশ মার্কিনি। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে জনপ্রিয়তায় বর্তমান প্রেসিডেন্টকে ছাপিয়ে যেতে শুরু করেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে সামপ্রতিক সময়ে বাইডেনের ফিটনেস নিয়ে আলোচনা গড়িয়েছে অনেক। সাইকেল চালাতে গিয়ে পড়ে যাওয়া কিংবা বিমান উঠতে গিয়ে হোঁচট খাওয়ার ঘটনাগুলো খুব একটা ভালো ধারণা দেয় না তার শারীরিক সক্ষমতার ব্যাপারে। যদিও সর্বশেষ তার চিকিত্সক জানিয়েছেন, শারীরিকভাবে ফিট আছেন তিনি। তারপরও এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ৭৭ বছর বয়সি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৮১ বছর বয়সি জো বাইডেন কতটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারবেন সেই প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

  
 

ইত্তেফাক/এনএন