চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে হুমকি দেওয়া চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের সেই বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরীর নিয়োগকৃত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। শহিদ উল্লাহ নামের ঐ ইউপি সদস্য নিজেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিচয় দিয়ে সিল-প্যাড ব্যবহার করার পাশাপাশি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরিষদের অথরিটি হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে অন্যান্য ইউপি সদস্য ও সাধারণ জনগণের মধ্যে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অবশ্যই উপজেলা পরিষদ কিংবা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ আগের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে হয়তো কাজ করছেন। বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উল্লেখ করে পরিষদের ১০ ইউপি সদস্য জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব দিয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত তাকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনুলিপি দিয়েছেন। ইউপি মেম্বারদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের পর চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত মুজিবুল হক চৌধুরী ক্ষমতার একচ্ছত্র প্রয়োগ ও অপব্যবহার করা শুরু করেন।
তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য/মেম্বারদের মতামতের কোনো প্রকার তোয়াক্কা করতেন না। চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চৌধুরী ওয়ার্ড মেম্বারদের কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত, ভোট ও রেজুলেশন ব্যতীত তার আজ্ঞাবহ ইউপি সদস্য মো. শহিদ উল্লাহকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন। তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি চেয়ারম্যান পদ থেকে বরখাস্ত হলে তার নিয়োগকৃত সেই প্যানেল চেয়ারম্যানের হাতে তড়িঘড়ি দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
ইউপি সদস্য রহমত উল্লাহ জানান, মেম্বার শহিদুল্লাহ বহিষ্কৃত চেয়ারম্যান মুজিবুল হকের অনুগত এবং তার বাবা মৃত কবির আহমদ ছিলেন বাঁশখালী থানার লিস্টেট রাজাকার। তার বাবার রাজাকার সিরিয়াল হচ্ছে ৭৮। পরিষদের কারো মতামত ছাড়া তিনি সিল-প্যাড বানিয়ে এভাবে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখতে ও পরিচয় দিতে পারেন না।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পরিচয় দেয়া ইউপি সদস্য শহিদুল্লাহ জানান, আমি আগে থেকেই প্যানেল চেয়ারম্যান। এর আগে চেয়ারম্যান মুজিবুল হক ভারতে চিকিত্সার জন্য গেলে তখনো আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলাম। বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, ইউপি সদস্যদের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
