গেল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিসিবির নবম বোর্ড মিটিং। তার এক মাস না পেরোতেই গতকাল আবারও বোর্ড মিটিংয়ে বসেন বিসিবির পরিচালকেরা। সেখানে আলোচনায় ছিল তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের প্রসঙ্গ। তাই মিটিং শেষে বেরিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানান, তামিমের সঙ্গে বসাটা বড়ই জরুরি। এ সময় তামিমের অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পেছনের কারণটাও জানতে চান তিনি।
দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল এখন দলের বাইরে। ছিলেন না ওয়ানডে বিশ্বকাপেও। ২২ গজে এই ব্যাটার ফিরবেন বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করার পরেই। এমনটি শোনা গেছে তার মুখ থেকেই। এর মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে শেষ হওয়া বিপিএলে তামিম হয়েছেন ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট। আর এরপর এই ব্যাটারের দলে ফেরার আলোচনা আরো বেড়েছে। যদিও শোনা যাচ্ছে, চন্ডিকা হাথুরু সিংহের অধীনে খেলবেন না তামিম।
তাই শনিবার অনুষ্ঠিত হওয়া বোর্ড মিটিং শেষে বিসিবির পরিচালক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলে তার কাছে সবার আগে প্রশ্নটি আসে তামিমকে নিয়েই। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তামিম যদি খেলতে চায় অবশ্যই খেলবে। এ ব্যাপারে আবার কোচকে জিজ্ঞেস করার কী আছে? কয়েকটা জিনিস আমি বলে রাখি। দল নির্বাচন চূড়ান্ত করা, যেটা বোর্ডের একটা কমিটি আছে, এটার দায়িত্ব ওদের। কে দলে থাকবে, তারা ঠিক করবে। একাদশে কারা থাকবে, সেটা আবার তারা ঠিক করে না। সেটা মূলত অধিনায়ক, সঙ্গে কোচেরও বড় মতামত থাকে।’
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘তামিমের সঙ্গে বসাটা বড়ই জরুরি। সে জন্য বলেছি আগে তামিমের পরিকল্পনা শোনার জন্য। তার পরিকল্পনা জানলে আমরা সামনে অগ্রসর হতে পারব। হেড কোচের কথা যদি বলেন, তার সঙ্গে আলাদা করে বসার কিছু আমি দেখছি না। কোচ কে হবে, নির্বাচক কে হবে, অধিনায়ক কে হবে—এটা পুরোপুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত। এখানে অন্য কে কী বলল, সেটা আমার সিদ্ধান্ত নিতে হয়তো সাহায্য করতে পারে, কিন্তু ওটাই করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সিদ্ধান্ত বোর্ডের।’
এ সময় আগে তামিমের অবসরের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি জানতে হবে বলে জানান বিসিবি সভাপতি। কারণ তার মতে, সেখান থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তামিমের এই বিষয়টা একটু সেনসেটিভ ইস্যু এ কারণে যে হঠাৎ করে ও যখন খেলাটা ছেড়ে দিল। সিরিজের (আফগানিস্তানের বিপক্ষে) মাঝে একটা ম্যাচ খেলে। ঐটা যে কেন ছেড়েছে, সেটাই এখন পর্যন্ত জানি না। আসলে গোড়ার প্রথম সমস্যাটাই যদি আমরা না জানি, তাহলে পরবর্তী সময়ে কী হল না হলো, এইগুলো কিন্তু সমাধানটা দিতে পারবে না...। মূল জিনিসটা জানা দরকার। ও (তামিম) আমাকে বলেছে, আপনি জানেন না, আপনাকে বলব। আমার মনে হয় জালাল ভাইকেও হয়তো বলেছে অথবা বলবে। এই জন্য ওর কথাগুলো আগে একবার শোনা দরকার যে সমস্যাগুলো কোথায়, কেন ঐ সময় সে খেলা ছেড়ে দিয়েছিল। পরেরটা পরে। আগে প্রথমটায় আসি। কারণ সেখান থেকেই প্রথম ধাক্কাটা আসে, ঐটা আমাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। পরেরটা অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেওয়া। এশিয়া কাপের ঠিক আগমুহূর্তে। তো এই জিনিসগুলো নিয়ে আগে ওর সঙ্গে কথা বলার পরে এইগুলো নিয়ে কথা বলা উচিত। তার আগে এটা নিয়ে আলোচনা করা ঠিক হবে বলে আমার মনে হয় না।’
মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ প্রসঙ্গে পাপন, ‘এটাকেই বলে ফাইটার’
গেল বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছিল ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়া ওয়ানডে বিশ্বকাপের। তবে ঐ বছরের মার্চে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়া সিরিজের পর থেকেই দলের বাইরে চলে যান তিনি। মূলত অফ ফর্মের কারণেই তাকে বিশ্রাম দিয়ে ঐ পজিশনে নতুন মুখের খোঁজে ছিলেন নির্বাচকেরা। যদিও পরে এশিয়া কাপে দলের ক্রিকেটারদের হতাশাজনক পারফর্ম্যান্সের কারণে রিয়াদকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে যুক্ত করা হয়। আর ফের সুযোগ পেয়েই অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার যেন নতুন করে জ্বলে উঠে সবকিছু শুরু করেছেন।
আর তাতেই জাতীয় দলে ফের নিজের জায়গা নিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয়, ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই ফরম্যাটে স্কোয়াডে হারানো নিজের জায়গাও ফিরে পান তিনি। এ প্রসঙ্গে পাপন বলেন, ‘বিশ্বকাপের সময়, শেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (২০২২)। ঐ সময়টায় কিন্তু হাথুরুসিংহে ছিল না। মানে, নিউজ তো একটা করতেই পারেন সবাই, আমার সেটা না। আমি একবারে পরিষ্কারভাবে বলছি, হাথুরু সিংহে তো তখন ছিলই না। তো অনেকে বলেন, হাথুরু সিংহে বাদ দিয়েছে, যেটা সঠিক নয়। তো, তার আগের বিশ্বকাপ (২০২১) যেটাতে তিনি অধিনায়ক ছিলেন, তার কাছ থেকে সবার যেটা প্রত্যাশা ছিল, সে সেটা পূরণ করতে পারেননি। কিন্তু এটাকেই বলে ফাইটার। সে যেভাবে পরবর্তীতে একক প্রচেষ্টায় কামব্যাক করেছেন। সেটা অসাধারণ।’ আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও স্কোয়াডে রিয়াদের জায়গা প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করেন পাপন।

