তালেবানের কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও একেক সময় এক এক প্রতিবাদী রূপ দেখিয়েছেন আফগান নারীরা। সম্প্রতি আবারও অভিনব কায়দায় প্রতিবাদ শুরু করেছেন আফগান দুই নারী। তালেবানের বিরুদ্ধে গানে গানে প্রতিবাদ করছেন তারা। ‘লাস্ট টর্চ’ নামে পরিচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংগীত দলে এই প্রতিবাদী প্রচারাভিযান শুরু করেন দুই বোন। খবর বিবিসি।
প্রায় দুই দশক পর ২০২১ সালের ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলে নেয় তালেবান। এরপর থেকে একে একে কেড়ে নেওয়া হয় নারীদের অধিকার। সঙ্কুচিত হতে থাকে তাদের শিক্ষাব্যবস্থা। বন্ধ করে দেওয়া হয় আয় রোজগারের পথ। ঘোর অন্ধকারে ছেয়ে যায় নারীদের জীবন। তালেবান শাসনের নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে না পেরে খোদ নারীরাই প্রতিবাদ শুরু করেন দেশটিতে। কখনো প্রতীকী ছবি প্রকাশ করে। কখনো আবার দল বেঁধে রাস্তায় নেমে।
তালেবান দখলের কিছু দিন পরে গান গাওয়া শুরু করেন ওই দুই বোন। তবে সম্প্রতি ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপে দ্রুত ভাইরাল হয় তাদের গান। সংগীতের কোনো পটভূমি ছাড়াই গোপনে তাদের কণ্ঠের শক্তি ব্যবহার করতে শুরু করেন। নীল বোরকায় মুখ ঢেকে গান করেন মাশাল এবং শাকায়েক (নিরাপত্তার খাতিরে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)।
দুই বোনের মধ্যে ছোট শাকায়েক বলেছেন, এর আগে নারীরা কাবুল এবং অন্যান্য বড় শহরের রাস্তায় নেমে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তাদের তালেবানের কঠোর দমন-পীড়নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এজন্য আমরা বাড়ি থেকে গোপন প্রতিবাদের অংশ হিসাবে লাস্ট টর্চে গান গাওয়া শুরু করি।
মাশাল বোরকাকে একটি ছোট খাঁচার সঙ্গে তুলনা করেছেন। যেটি কবরস্থানের মতো। যেখানে হাজার হাজার নারী ও মেয়ের স্বপ্নকে সমাহিত করছে তালেবান সরকার। তাদের গানের ভাবমূর্তিতে নারীদের প্রতি তালেবানের এমন আরও অনেক নৃশংসতার কথাই প্রকাশ পেয়েছে।
তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর থেকে তারা এখন পর্যন্ত সাতটি গান প্রকাশ করেছেন। প্রতিটিই দেশজুড়ে নারীদের কাছে দৃঢ়ভাবে অনুরণিত হয়েছে। তবে তালেবানরা তাদের শনাক্ত করতে পারে ভেবে এই গানের জন্য অনেক রাতেই নির্ঘুমে কাটিয়েছেন দুই বোন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকির শিকারও হয়েছেন তারা। তবুও দমে যাননি। উলটো তাদের পরবর্তী গান নিয়ে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন শাকায়েক ও মাশাল। বলেছেন, আমাদের কণ্ঠকে কেউ থামাতে পারবে না। এটা আমাদের লড়াইয়ের শুরু মাত্র।
নারী দিবস উপলক্ষ্যে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে দেশে দেশে প্রতিবাদে নেমেছেন নারীরা। আফগানিস্তানসহ ব্রিটেন, প্যারিস, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, স্পেন, ইরান, জাপান, কসোভো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নারীরা ব্যানার হাতে নিজ দেশে প্রতিবাদ করেছেন। নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা ঠেকাতেই প্রতিবাদে নামেন তারা।
