বাংলাদেশে অনেক চিকিত্সাসেবা আছে যা বিশ্বমানের। সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোও দক্ষতার প্রমাণ রাখছে। বিশেষ করে কার্ডিয়াক সার্জারিতে সফলতা দেখাচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো। বাইপাস সার্জারি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ৯৯ শতাংশ সফল। ল্যাব এইড কার্ডিয়াক হাসপাতালের চিফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. লুত্ফর রহমান ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১২ হাজার সফল বাইবাস সার্জারি করেছেন। কার্ডিয়াক সার্জনরা বলেন, দেশে তরুণ বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত ও সার্জারির হার বাড়ছে, এটা উদ্বেগজনক।
সোমবার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে কার্ডিয়াক সার্জারি চিকিত্সার ওপরে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাংলাদেশের বিশিষ্ট সার্জনগণ উপস্থিত ছিলেন। ডা. লুত্ফর রহমান ১২ হাজার বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন করা উপলক্ষ্যে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন—বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বিএমএর সভাপতি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। সেখানে বিস্তারিত তুলে ধরেন কার্ডিয়াক সার্জন ডা. লুত্ফর রহমান এবং ইউনাইটেডের চিফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর কবির, ল্যাব এইডের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. লোকমান হোসেন। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এ এম শামীম।
খ্যাতমান কার্ডিয়াক সার্জনরা সেমিনারে বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চিকিত্সা সেবায় অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে এই চিকিত্সা আরো ভালো করছে। বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালে দৈনিক ১ লাখ বেড লাগে শুধু ইমার্জেন্সি রোগীর সামাল দিতে। অথচ সরকারি হাসপাতালে বেড আছে ৭১ হাজার ৬৬০টি। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হৃদরোগের সব ধরনের চিকিত্সা সেবা আছে। এর বাইরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, বরিশাল ও রংপুর—পুরোনো এই আটটি মেডিক্যাল কলেজসহ সব মেডিক্যাল কলেজে হৃদরোগের চিকিত্সাসেবা আছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় সীমিত। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বাইরে অন্য কোনো হাসপাতালে কার্ডিয়াক সার্জারি তেমন গড়ে ওঠেনি। কিন্তু বেসরকারি পর্যায়ে অনেক প্রতিষ্ঠান কার্ডিয়াক চিকিত্সা ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। যা উন্নত মানের। সেখানে সকল ধরনের সার্জারি হচ্ছে। এমন নামিদামি বেসরকারি হাসপাতাল বিভাগীয় পর্যায়ে থাকলে মানুষ হাতের কাছে হৃদরোগের অপারেশনসহ সুচিকিত্সা পেত। কার্ডিয়াক সার্জনরা বলেন, বেসরকারি পর্যায় ৩৬টি বেসরকারি হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি হয় বিশ্বমানের। ল্যাবএইড কার্ডিয়াক হাসপাতাল হলো উন্নতমানের। যার জন্য বিদেশ ফেরত অনেক রোগী এসে এখানে চিকিত্সা সেবা নিয়ে ভালো আছেন। হৃদরোগের পাশাপাশি তারা অন্যান্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুঝুঁকি থাকায় বিদেশ থেকে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। দেশে তারা কার্ডিয়াক সার্জারি করে সুস্থ হয়ে বেঁচে আছেন।
কার্ডিয়াক সার্জনরা বলেন, ধূমপানের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে। এ ছাড়া বংশগতভাবেও হৃদরোগ হতে পারে। রিচ ফুড, ডায়াবেটিস, ব্যায়াম না করা, পরিবেশগতসহ নানা কারণে দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বেশির ভাগেরই কার্ডিয়াক সার্জারির প্রয়োজন হয়। তবে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সি অনেকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন, যাদের অনেকের বাইপাস সার্জারি করা প্রয়োজন। এই তরুণ বয়সে তাদের সার্জারি হওয়ার কথা নয়। সাধারণত ৫০ বছরের ওপর থেকে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে থাকে। যে কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে, সেসব বিষয়গুলো পরিহার করার জন্য কার্ডিয়াক সার্জনগণ আহ্বান জানিয়েছেন।
