ক্যাবল তারের জঞ্জাল :সমাধান কী

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ২২:০৪

রাজধানী ঢাকা শহরে রাস্তার ওপর দিয়া বিভিন্ন সংস্থার তারের জঞ্জাল বহু বত্সর ধরিয়া বিরাজ করিতেছে। ইহা দৃষ্টিকটু ও তিলোত্তমা নগরীর সৌন্দর্যবিরোধী নিঃসন্দেহে। আবার এই জঞ্জালের কারণে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হইয়া বা ক্যাবল হইতে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটিতেছে প্রায়শ। গত বুধবার ইত্তেফাকে প্রকাশিত হইয়াছে গুলশান-২-এর ৭৫ নম্বর রোডের একটি ছবি। তাহাতে দেখা যাইতেছে, বিভিন্ন ক্যাবল তার পথচারীর একেবারে মাথার ওপর ঝুলিয়া রহিয়াছে। এইভাবে ফুটপাত বা রাস্তায় চলাচল করা বিপজ্জনক। বিভিন্ন খুঁটিতে এমন তারের জঞ্জাল দূর হইতে দেখিলে মনে হইতে পারে তাহা কোনো দৈত্যের বড়ো বড়ো চুল অযত্নে জট লাগিয়া গিয়াছে। কিন্তু ইহা যে চুল নহে, বরং ইন্টারনেট, ডিশ, টেলিফোন ও বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন—তাহা কাছে আসিলেই প্রতিভাত হইবে। এই তারের ভারে কোথাও কোথাও ন্যুব্জ হইয়া পড়িয়াছে বৈদ্যুতিক ও সড়কবাতির খুঁটিও। শুধু রাজধানী কেন, এই সমস্যা বরিশালসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও বিরাজমান। ২০০৯ সাল হইতে সরকার যত্রতত্র ঝুলিয়া থাকা এইসব তার বিশ্বের অন্যান্য আধুনিক শহরের মতো মাটির নিচ দিয়া স্থাপনের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেই অনুযায়ী সমগ্র দেশে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় ভূগর্ভস্থ ফাইবার অপটিকসের সঙ্গে যুক্ত হইয়া বিভিন্ন সংস্থার সেবাদানের কথা। ইতোমধ্যে কোথাও কোথাও তাহা বাস্তবায়নও হইয়াছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডিশ অপারেটর আর ইন্টারনেট-সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলি বেশি মাশুল গুনিবার অজুহাতে ভূগর্ভস্থ কমন নেটওয়ার্কে যুক্ত হইতে অনিচ্ছুক। তাহারা এইজন্য প্রতিটি ভবন পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ ক্যাবল নিয়া যাইতে না পারাটাকেও দায়ী করিতেছেন।

তবে আশার কথা হইল, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের কার্যক্রম শুরু হইবার পর এই তারের জঞ্জাল বহুলাংশে দূর হইবার সম্ভাবনা তৈরি হইয়াছে। গত ১৬ মে বেক্সিমো কমিউনিকেশন্স লিমিটেড ‘আকাশ ডিটিএইচ’ নামে দেশে প্রথমবারের মতো ক্যাবল ছাড়াই টিভি দেখিবার বিশেষ সেবা চালু করিয়াছে। এই সেবা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রত্যক্ষ সুফল ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়িবার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। এই সেবার মাধ্যমে মানুষ নিশ্চিন্তে বসিয়া টিভি বিনোদন উপভোগ করিতে পারিতেছে। কিন্তু ক্যাবল ছাড়া এই নেটওয়ার্কের কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। প্রথমত বর্তমানে ইহার সুবিধা হাতে গোনা কয়েকটি জেলায় পাওয়া যাইতেছে। জেলাগুলি হইল—ঢাকা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, সিলেট, মৌলভীবাজার প্রভৃতি। এখন এই সুবিধা সারা দেশে সমপ্রসারিত করিতে হইবে। দ্বিতীয়ত ডিশ অ্যান্টেনা, এলএনবি, সেট টপ বক্স ও রিমোটসহ পুরা সংযোগ নিতে দাম পড়িতেছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। এই সংযোগ ফি হ্রাস করা দরকার। নিম্ন ও মধ্যবিত্তের অনেকের পক্ষে একবারে এত টাকা খরচ করা সম্ভব নহে। প্রতি মাসে ভ্যাটসহ যে বিল দিতে হয় তাহাও হ্রাস করিবার  রহিয়াছে। বিনা মূল্যে ইনস্টলেশনসহ অন্যান্য সুবিধা সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

টেলিফোন ও বিদ্যুতের তার সমগ্র দেশেই মাটির নিচ দিয়া নিতে হইবে। আর ইন্টারনেট ও ডিশ সংযোগের তারের জঞ্জাল দূর করিতে ক্রমান্বয়ে ক্যাবল ছাড়া উন্নত ডিটিএইচ প্রযুক্তি জনপ্রিয় করিয়া তুলিতে হইবে। বর্তমানে ইহার আর কোনো বিকল্প নাই।