অপরাধীরা কি লাগামহীন হয়ে পড়ছে?

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ২২:০৫

ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং অপরাধীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ড নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রতিদিনই বিভিন্ন রিপোর্ট ছাপা হচ্ছে। পৃথিবীর সব দেশেই অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থাকে কমবেশি। কিন্তু সেটা লাগামহীন হলেই মুশকিল। এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছিল পাঠকদের মতামত। টেলিফোন ও ইমেইলে পাঠানো পাঠকদের মতামত আজ প্রকাশ করা হল

সমগ্র দেশেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রশাসনের দুর্বল প্রভাবে সহজপ্রাপ্য বহুমুখী নেশায় আসক্ত অপরাধীরা ব্যাপক লাগামহীন ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নেশার কবলে বিবেকবোধহীন হয়ে ধর্মীয় অনুশাসন নৈতিকতা, মানবিকতা, শিষ্টাচার ইত্যাদি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে তারা প্রতিনিধিরা একের এক খুন, ছিনতাই, ধর্ষণ, বিশৃঙ্খলাসহ প্রকাশ্যে ভয়ংকর অপরাধ করেই চলেছে। বিষয়টি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্য কলঙ্কের।

মো. আবদুর রাজ্জাক নাছিম

নির্বাহী পরিচালক

স্বাধীন, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

 

দেশে অপরাধীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ডের বিষয়টি নতুন করে বলার কিছুই নেই। প্রতিদিন টিভি, পত্রপত্রিকার পাতায় চোখ রাখলেই এসব খবর থাকে। সমাজে বিবেকহীন মানুষের মাত্রা বাড়ছে। মানবিক অবক্ষয় যে হয়েছে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে—রিফাত হত্যা। কীভাবে এত লোকের মাঝে  তাকে হত্যা করা হলো? সে জন্য আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে ও প্রয়োগ অনিবার্য হতে হবে।

বজলুল

এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা

অপরাধীরা ক্রমবর্ধমান, অপরাধীরা লাগামহীন। একথা কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না। নানা কারণে কিছু মাত্রায় অপরাধ সব সমাজে কমবেশি সংঘটিত হয়। সে জন্য নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উদ্যোগ অবশ্যই থাকতে হবে। আমাদের দেশে অপরাধের মাত্রাকে অবশ্যই খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা জরুরি বলে মনে করছি।

মেজবাহ সেলিম

ইব্রাহিমপুর, ঢাকা

ক্যান্টনমেন্ট, ঢাকা

সমাজে একশ্রেণির মুখোশধারী ব্যক্তি ক্ষমতা পাওয়ার পর ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে লাগামহীন অপরাধ করে। তাদের ক্ষমতার অপপ্রয়োগের ফলে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মনোভাব প্রকাশ করে। ক্ষমতার অপপ্রয়োগকারী ব্যক্তি সমাজের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে, তাদের মুখকে বন্ধ করে তার ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য তার ছত্রছায়ায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে।

মো. আবুল কালাম আজাদ

সর্দার পাড়া, মুন্সীগঞ্জ

ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং অপরাধীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হচ্ছে। অবশ্যই এটা বেদনাদায়ক ও দুঃখজনক । ভয়ংকর অপরাধ করে অধরা থাকা অথবা রাজনৈতিক প্রভাবে দ্রুত জামিন পাওয়া বা অভিযোগপত্র থেকে ক্রসফায়ারও সমাধান নয়। বরং তা অপরাধের হোতাদের আড়ালে রাখার প্রয়াস।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাপপুর, ঝিনাইদহ

অপরাধীদের পিছনে যে কোনো রাজনৈতিক শক্তি কাজ করে এবং এই লাগামহীন অপরাধীরা মনে করে সে অপরাধ করেও পার পেয়ে যাবে। অনেক ক্ষেত্রে তা পার পেয়েও থাকে। লাগামহীন অপরাধের এটি একটি বড়ো কারণ।

এইচ এম ফখরুদ্দিন আহমেদ

৪০৫/এ, পশ্চিম শেওড়াপাড়া, ঢাকা

অপরাধীরা কোনো সময়েই লাগামহীন হয় না। লাগাম যাদের হাতে আছে বা থাকে তারা যদি লাগাম ছেড়ে দেয় বা ঢিলে করে দেয় তাহলেই শুধু অপরাধীরা লাগামহীন হতে পারে। এটা প্রাচীনকাল থেকে মধ্যযুগ এবং আধুনিক রাষ্ট্র পর্যায়ে চলে এসেছে। এদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা কার্যকর করলেই এটা নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে।

মাখরাজ খান

সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ

আজকাল প্রতিদিনই পত্রিকাসমূহে খবর হচ্ছে খুন, ধর্ষণ, গুম ইত্যাদি। এটা এখন আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের ছেলেমেয়েরা ঘর থেকে বাইরে গেলে শঙ্কিত থাকি, কখন তাদের ওপর পশুরা আক্রমণ করে। তাই প্রচলিত আইনের কিছু ধারা প্রয়োজনসাপেক্ষে পরিবর্তন করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।

মো. সিরাজুল হক,

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, জাফরাবাদ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ যখন আমাদের উন্নত দেশের স্বপ্ন ছোঁয়াতে শুরু করেছে, সেই সময় সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবাহের আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি সত্যিই অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। তাই এসব থেকে দেশকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন আইনশৃঙ্খলাকে শক্তিশালী করে তোলা।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন,

হাইমচর, চরভৈরবী।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রসফায়ারে ও হেফাজতে ২০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ার কারণেই আজ অপরাধীরা লাগামহীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। সুতরাং, এর থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ।

আল-মায়ামী,

ফুলবাড়িয়া, সাভার।

ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং অপরাধীদের লাগামহীন কর্মকাণ্ড আজকের সমাজের প্রধান চিত্র। যখন যেকোনো দেশে এ রকম অবস্থা চলতে থাকবে, তখন এগুলো দিনে দিনে বেড়েই চলবে। সারা বিশ্বে অপরাধের দৌরাত্ম্য কমবেশি রয়েছে এ কথা সত্য। কিন্তু এই অপরাধ যদি লাগামহীন চলে, তাহলে সমাজ, দেশ ও রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়ে যায়। সেজন্য প্রয়োজন আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও নিয়ন্ত্রণ।

মো. রবিউল হোসেন রবি,

শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা।

অপরাধীরা পুরোপুরি লাগামহীন না হলেও যে লাগামহীন হয়ে যাচ্ছে, এ কথা দৃশ্যমান। কেননা, সেই ব্রিটিশ আমলের শাসন ও বিচারব্যবস্থার আশু পরিবর্তন একান্ত দরকার। তা না হলে বর্তমানে নতুন নতুন অপরাধের জন্য ঐ সব আইনের মাধ্যমে অপরাধীদের সঠিক বিচার করা যাবে না। ফলে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে গুরুতর অপরাধীরাও জেল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে দেশে অপরাধ দমন হচ্ছে না। কাজেই অপরাধ পুরোপুরি দমন করতে হলে দেশে যুগোপযোগী বাস্তবমুখী দ্রুত আইন প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়ন করা একান্ত প্রয়োজন।

আলহাজ মো. হাফিজুল ইসলাম চৌ. (হিফজু),

প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি জেনারেল,

পরিবেশ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটি,

 হাউজিং স্টেট, রাজশাহী-৬২০২।

জন্মলগ্ন থেকে এই ভুবনে অপরাধপ্রবণতা ছিল। এমনকি ভবিষ্যতেও থাকবে। তবে অতীতের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ যখন আমাদের উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে, ঠিক সেই সময়ে সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধপ্রবণতার আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একজন মানুষের অপরাধপ্রবণতার পেছনে যেসব বিষয় কাজ করে তা হলো মানসিক, পারিবারিক ও সমাজিক অসহায়ত্ব ও বেকারত্ব। এসব কারণে সে ভুলে যায় হিতাহিতবোধ এবং নিজেই অন্ধকার জগতে পা বাড়ায়।

ডা. মো. জামিল রহমান

 গোপালপুর, টাঙ্গাইল

অপরাধীরা সত্যিই লাগামহীন হয়ে পড়ছে- এটা দৃশ্যমান। পৃথিবীর সব দেশেই অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থাকে কম বেশি। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত হলেই সেটা অতিরঞ্জিত বটে। বর্তমানে দেশে তাই বিরাজমান। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার জন্য আইন-শৃঙ্খলার বিষয় অত্যন্ত জরুরি।

শহীদুল ইসলাম রয়েল

নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া।

কেহই একদিনে ভয়ংকর বা লাগামহীন অপরাধী হয় না। একটি অপরাধ করার পর যখন সে পার পেয়ে যায়, তখন সে আরো উত্সাহিত  হয়ে গুরুতর অপরাধ সংঘটনের পথে এগিয়ে যায়। ধরা পড়লে আইনের ফাঁক দিয়ে নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে বেড়িয়ে আসে। এরপর ক্রমেই সে অপরাধ জগতে পরিচিতি লাভ করতে থাকে। সেইসঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক আশ্রয় এবং প্রশ্রয়ে তার অপরাধের মাত্রা বাড়তে থাকে।

মোহাম্মদ ইসলাম

পাইয়েরখোলা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা।

অপরাধীরা খুন-খারাপি, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইকারীর আঘাতে হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এই সব অপরাধের জন্য শুধু অপরাধীরাই জড়িত থাকে না, তার সঙ্গে অন্যরাও জড়িয়ে থাকে। ফলে অপরাধ করে পার পেয়ে যায়। এর সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে মাদকদ্রব্য।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী।

অপরাধীরা দিন দিন লাগামহীন হয়ে পড়ছে। নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উদ্যোগ আছে বলে দৃশ্যমান হয় না। নানা কারণেই অপরাধ সব সমাজেই সংঘটিত হয়। সেসব যাতে না হয়, তার জন্য সভ্যসমাজ বিচারিক প্রক্রিয়া অবলম্বন করে। তাতে অপরাধের মাত্রা ন্যূনতম পর্যায়ে থাকে। কিন্তু রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া বা আর্থিক-সামাজিক প্রতিপত্তির কারণে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়, সেসব বন্ধ করা  কঠিন। বাংলাদেশে অনেক অপরাধের ঘটনা রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বাহিনীর উদাসীনতার কারণে ঘটে থাকে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার নজিরও কম; কখনো বা তাদের নামমাত্র সাজা হয়।

অমিত বণিক

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপক

উত্তরা, ঢাকা।

বিগত ছয় মাসে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। অনেকে মাদক ব্যবসার চক্রের সঙ্গেও যুক্ত। ক্ষমতার আনুকূল্যে ফেনীর মাদরাসাছাত্রী রাফি ও বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ডের মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনাও আমরা প্রত্যক্ষ করেছি! কিছু চাঞ্চল্যকর ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যে ধরা পড়ছে না তা নয়। তবে বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, মদতদাতাদের বিচার প্রক্রিয়াভুক্ত না হওয়া এবং এক অপরাধের রেশ না কাটতেই আরেক অপরাধ সংঘটিত হওয়ার কারণে আমাদের মনে তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। ‘ক্রসফায়ার’ও সমাধান নয় বরং তা অপরাধের হোতাদের আড়ালে রাখার প্রয়াস বলেই আখ্যায়িত হয়। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সুষ্ঠু তদন্ত হলে, রাজনৈতিক প্রশ্রয়দান বন্ধ হলে ‘কঠোর’ বা ‘অবিধিত’ উপায় অবলম্ব্বন অনাবশ্যক। এ কথা যত দ্রুত আমাদের উপলব্ধিতে আসবে, ততই মঙ্গল।

মোছা. বিলকিছ আক্তার

সরকারি ম্যাটস ও ছাত্রীনিবাস

টাঙ্গাইল।

বাংলাদেশে অনেক অপরাধের ঘটনা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক বাহিনীর উদাসীনতার কারণে ঘটে থাকে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার নজিরও কম; কখনো বা তাদের নামমাত্র সাজা হয়। ফলে বিচার প্রক্রিয়া ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, সর্বোপরি সরকারের ওপর নাগরিকের আস্থাহীনতা তৈরি হয়। আমাদের দেশের অপরাধীরা প্রতিনিয়ত অপরাধ করে চলছে। কিন্তু সেই সব অপরাধীর কোনো কি সাজা হচ্ছে আমাদের দেশে। কীভাবে সাজা হবে, তারা যদি হয় ক্ষমতাসীন দলের লোক অথবা প্রচুর টাকার মালিক। তাহলে আমাদের দেশের গণতন্ত্র কোথায়? বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কি তাদের অধিকার পাচ্ছি নাকি অপরাধীদের হাতে বারবার জীবন হারাচ্ছে।

শাহা আলম ইসলাম

আকবপুর, মিঠাপুকুর, রংপুর।