দ্য ফিজ, কাটার মাস্টারসহ কত নামেই ডাকা হতো মোস্তাফিজুর রহমানকে। অথচ সেই ক্রিকেটারকে এখন বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। কোথায় গেল বলের সেই ধার? ২০১৫ সালে মিরপুরে ভারত সিরিজের স্মৃতি এখনো জ্যান্ত! রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে রবীন্দ্র জাদেজা, মহেন্দ্র সিং ধোনি—বড় বড় তারকারা যেভাবে মোস্তাফিজের বলে নাকানিচুবানি খেয়েছিলেন, সেই স্মৃতি হয়তো কোনোদিন ভুলবেন না ভক্তরা।
একাই ধসিয়ে দিয়েছিলেন ভারতকে। তার আগে পাকিস্তান কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা চিনেছিল সাতক্ষীরার এই পেসারকে। ক্রিকেট দুনিয়া হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল, কে এই ছেলে? অথচ ৯ বছর পরে ফিজ বড্ড চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার বদলে অন্য কাউকে ভাবতে হচ্ছে মাঠে নামানোর জন্য।
বিপিএল চলাকালীন অনুশীলনের সময়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন মোস্তাফিজ। কিছুদিন পরে আবারও মাঠে নামার জন্য তৈরিও হয়ে যান। বিপিএল শেষে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজেও খেলেন তিনি। কিন্তু ৯ বছর আগের সেই কাটার মাস্টারকে এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ২২ গজে। বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জার্সিতে ১০ ইনিংস খেলে ১৩টি উইকেট দখল করেছিলেন, যেখানে সর্বোচ্চ সাফল্য ছিল ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট, ইকোনমি ৯ এর ওপরে। বিষয়টি বাঁহাতি এই পেসারের নামের পাশে বড্ড বেমানান।
আর লঙ্কানদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টির তিন ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ছিল মাত্র ২টি। তিন ম্যাচে রান দিয়েছেন ১৩১, ইকোনমি ১০ এর ওপরে। দুই দেশের ১৪ জন বোলারের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্স। এরপরে ওয়ানডের একাদশে জায়গা পাওয়া যে কঠিন হবে, সেটি অনুমিতই ছিল। গতকালের একাদশে জায়গাও পাননি। তার বদলে তানজিম হাসান সাকিব জায়গা পেয়ে দুর্দান্ত বল করেছেন। যদিও তিনি নিজের বোলিং কোটা শেষ করতে পারেননি। তবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মোট ৩টি উইকেট দখল করে লায়নদের লাগাম টেনেছেন।
এর আগেও ফর্মহীনতায় পড়েছিলেন বাংলাদেশি এই পেসার। ২০২২ ও ২০২৩ সালে বেশ ভুগেছেন উইকেটে। নিজের কাটার আর বলের ধার হারিয়ে সফলতাকে বারবার খুঁজে ফিরেছেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টায় কিছুটা উন্নতি হলেও ২০১৫-১৬ সালের সেই মোস্তাফিজকে আর পাওয়া যায়নি। ওডিআইতে মাঝেমধ্যে জ্বলে উঠলেও টি-টোয়েন্টিতে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকেই বেশ বিবর্ণ তিনি।
ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত এই সংস্করণে ২০২১ সাল স্বপ্নের মতো কাটলেও এরপরে ধারাবাহিকভাবে ফর্মহীনতা দেখা গেছে। গেল বছর ১০টি ম্যাচ খেলে ৮টি উইকেট পেয়েছিলেন। আর এই বছরের শুরুটা হলো ভুলে যাওয়ার মতো। সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক সেই টুর্নামেন্টে কাটার মাস্টারকে খুব বেশি প্রয়োজন বাংলাদেশ দলের জন্য। তার অভিজ্ঞতা বিশ্ব আসরে নিশ্চয়ই এগিয়ে রাখবে। কিন্তু দলের ভরসার জায়গায় নিজেকে কতটুকু নিতে পারবেন, সেই প্রশ্ন মাঠের ফর্মই রাখতে বাধ্য করেছে। বর্তমানে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের হাত ধরে পেস বিভাগ বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
এই জায়গা থেকে মোস্তাফিজ যোগ দিতে পারলে বোলিং ইউনিট নিয়ে বাংলাদেশের বেশি বেগ পেতে হতো না। দ্য ফিজের অভাব তরুণ তানজিম সাকিবকে দিয়ে পূরণ করা গেলেও অভিজ্ঞতা এবং বৈচিত্র্যের দিক থেকে এগিয়ে থাকবেন ২৮ বছর বয়সী মোস্তাফিজ। বাংলাদেশের পাইপ লাইনে আরো কয়েক জন পেসার রয়েছেন। সেই জায়গা থেকে মোস্তাফিজ জ্বলে উঠে নিজের ফর্ম দিয়ে জায়গা পান, এমনটাই চান ভক্তরা।
