রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো হুথি

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৪, ০৯:১৮

হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। বৃহস্পতিবার হুথি গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা আরআইএ নভোস্তির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

এদিকে এডেন উপসাগরে হুথিরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও হুথিদের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

হুথি ঘনিষ্ঠ ঐ সামরিক সূত্রটি বলেছে, হাইপারসনিক একটি ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে হুথি বাহিনী। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র সলিড-জ্বালানিচালিত। ইরান-সমর্থিত হুথিরা লোহিতসাগর, এডেন উপসাগর এবং আরব সাগরের পাশাপাশি ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করতে চায় বলে জানিয়েছে ঐ সামরিক সূত্র।

দূরপাল্লার এই হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হুথি গোষ্ঠী নিজেরাই তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে। গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের প্রতিবাদে গত নভেম্বর থেকে লোহিতসাগর ও এডেন উপসাগরে পশ্চিমা বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে হুথিরা। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে গত নভেম্বর থেকে লোহিতসাগর ও এডেন উপসাগরের বাব আল মান্দাব এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে গোষ্ঠীটি।

প্রথম পর্যায়ে কেবল ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জাহাজগুলোতেই আক্রমণ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের যৌথ বাহিনী হুথিদের লক্ষ্য করে বিমান অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরাইলের পাশাপাশি এই দুই দেশের সঙ্গে সম্পর্কিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতেও হামলা চালানো শুরু করে হুথিরা। এই গোষ্ঠীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুলসালাম বলেছেন, গাজায় যুদ্ধ বিরতি হলে ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হামলা বন্ধ করবেন তারা।

এদিকে এডেন উপসাগরে একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে এ হামলায় কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম এই তথ্য জানায়। বৃহস্পতিবার সকালে সেন্টকমের একটি বিবৃতিতে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো জাহাজেই আঘাত করেনি এবং হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতিরও কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এরপর হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সফলভাবে চারটি ড্রোন এবং একটি সারফেস টু এয়ার মিসাইল ধ্বংস করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক বিবৃতি সেন্টকমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব অস্ত্র দিয়েই বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন জাহাজে হামলা চালাচ্ছে হুথিরা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ঐ অস্ত্রগুলো এই অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ এবং মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর জন্য একটি আসন্ন হুমকি হিসেবে নির্ধারণ করে সেন্টকম। পরে সেগুলো ধ্বংস করে তারা। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে এডেন উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুথিরা।

তারা দাবি করেছিল, গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে এই হামলা পরিচালনা করা হচ্ছে।  লোহিতসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের রুটে হুথিদের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক অবাধ বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প পথ হিসেবে জাহাজগুলো দক্ষিণ আফ্রিকার আশপাশে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল রুটে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে।

আশঙ্কা করা হচ্ছে, গাজায় চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইত্তেফাক/এনএন