গ্যাস গ্রাহকদের ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব চায় ক্যাব

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ২২:৩৬

তিনটি উপায়ে (সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট, ডেভেলপমেন্ট ফান্ড এবং এনার্জি সিকিউরিটি ফান্ড) গ্যাসের গ্রাহকদের কাছ থেকে পেট্রোবাংলার আদায়কৃত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার হিসাব চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

ক্যাবের আহবায়ক স্থপতি মোবাশ্বার হাসান গত ২ জুলাই এই সম্পূরক আবেদন দাখিল করেন। আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না করে রাজস্ব ঘাটতি সমন্বয় করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসির) চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা দিতে আবেদন জানানো হয়েছে।

পরে ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে গ্যাস কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছে। গ্যাসের ক্ষেত্রে বা অন্যান্য ফুয়েলের ঘাটতি ও এলএনজি আমদানিতে ভর্তুকির নামে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। আমরা মনে করি সরকার যে ঘাটতিগুলো দেখাচ্ছে তার একটি যৌক্তিক সমন্বয় করা দরকার। তিনি বলেন, গত ১৯ এপ্রিল পেট্রোবাংলার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ হাজার ১২ দশমিক ৪১ কোটি টাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে জমা দিয়েছে। ২/৩ বছরে যদি ১৮ হাজার কোটি টাকা হয়। তাহলে ১৯৯৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত তারা কত হাজার কোটি টাকা আহরণ করেছে গ্যাস কনজুমারের কাছ থেকে। আবার ২০১৭-২০১৮ অর্থবছর পর্যন্ত গ্যাস উন্নয়ন তহবিল বাবদ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে। আবার জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের নামে গ্রাহকের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার মতো। এসব অর্থের যৌক্তিক সমন্বয় করলে গ্যাসের দামের যে ঘাটতির কথা বলা হচ্ছে তা থাকবে না। গ্যাসের দামও বৃদ্ধি করতে হবে না বলে মনে করেন তিনি।