উদ্বোধনের ৩ বছরেও চালু হয়নি রামগড়-সাব্রুম স্থলবন্দর 

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪, ১৪:৫১

উদ্বোধনের ৩ বছর পরেও কার্যক্রম শুরু হয়নি খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দরে। কার্যক্রম চালুর বিষয়ে হালনাগাদ কোনো তথ্য না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।    

গত ৯ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সাব্রুম স্থলবন্দরের কার্গো টার্মিনাল ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন। কিন্তু কবে নাগাদ এ স্থলবন্দর চালু হবে সুনির্দিষ্টভাবে তা দু’দেশের কেউই বলতে পারছেন না। রামগড় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ভারতের অংশে কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় চালু করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ যখনই চালু করতে চাইবে- তারা প্রস্তুত আছে।     

সরেজমিনে দেখা গেছে, পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু করতে আরও এক থেকে দেড় বছর লেগে যাবে। কারণ, রামগড় স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনও নির্মাণ হয়নি। এ ছাড়াও স্থলবন্দরের সংযোগকারী বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ শেষ হতে ১ বছর লেগে যাবে। পাশাপাশি, শুধু যাত্রী পারাপার কার্যক্রম শুরু করার জন্য বন্দরের কোনো অংশেই প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ কিংবা সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়নি।

ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় ৭টি রাজ্য ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রামগড় ও ত্রিপুরার সাব্রুম স্থলবন্দর চালুর উদ্যোগ নেয় দুই দেশের সরকার। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে সে দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে এ স্থলবন্দর চালুর সিদ্ধান্ত হয়।  

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রামগড় প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের উদ্বোধন করেছিলেন, অনুরূপভাবে এপ্রিলে ত্রিপুরায় লোকসভার নির্বাচনকে সমানে রেখে নরেন্দ্র মোদি সাব্রুম কার্গো টার্মিনালের উদ্বোধন করেছেন।   

জানা গেছে, সাব্রুম স্থলবন্দরে আইসিপি (ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট), কার্গো ও প্যাসেঞ্জার টার্মিনালসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ। তবে বন্দর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগ ও সংস্থার আবাসন ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়নি। ফলে বিভাগগুলোর অফিসে লোকবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপিত হয়নি। 

অন্যদিকে রামগড়ে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল ছাড়া এখনও আর কোনো অবকাঠামোই তৈরি হয়নি। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে গত বছর মে মাসে একজন সহকারী পরিচালককে রামগড়ে পোস্টিং দেওয়া হয়। তবে বন্দরের কার্যক্রম চালু না হওয়ায় সেপ্টেম্বরে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। বর্তমানে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও একজন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর এবং কাস্টমস বিভাগের একজন রাজস্ব কর্মকর্তা পোস্টিং-এ রয়েছে।   

সূত্র জানায়, রামগড় স্থলবন্দরের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হতো। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বাধায় কাজ করা যায়নি। সূত্র জানায়, ২০২২ সালে রামগড়ের মহামুনি এলাকায় অধিগ্রহণকৃত ১০ একর জায়গায় বন্দরের  প্রয়োজনীয়  অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর ২০২২ সালের ১১ জানুয়ারি কাজ শুরু করলে  বিএসএফ এতে বাধা দেয়। বাধার কারণে দীর্ঘ এক বছরেও কাজ শুরু করতে না পারায় বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের বরাদ্দ বাতিল করে ।    

রামগড় স্থলবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সরোয়ার আলম বলেন, ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। বর্তমানে ৩৮ কিলোমিটার বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। 

তিনি আরও বলেন, পণ্য পারাপার কার্যক্রম শুরু করতে সময় লাগবে। তবে যাত্রী পারাপারের জন্য রামগড় ইমিগ্রেশন প্রস্তুত। ভারতের অংশে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় যাত্রী পারাপার চালু করতে বিলম্ব হচ্ছে। তাদের কাজ শেষ হলে এপ্রিলের শুরুতে বন্দরটি চালু হবার সম্ভাবনা আছে।  

সাব্রুম স্থলবন্দর কর্মকর্তা দেবাশীষ নন্দী বলেন, যাত্রী পারাপারে সাব্রুম স্থলবন্দর পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।

ইত্তেফাক/এসএআর/পিও