খাগড়াছড়িতে নিজ ঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:৩৮

খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার দুর্গম নরেন্দ্র কার্বারীপাড়া এলাকায় নিজ ঘর থেকে নিকা ত্রিপুরা (৩০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নিকা ত্রিপুরার মরদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে মহালছড়ি থানা পুলিশ।

নিহত নিকা ত্রিপুরা নরেন্দ্র কারবারিপাড়ার সেতু ত্রিপুরার স্ত্রী। সেতু ত্রিপুরা আনসার সদস্য। তাদের সংসারে ৮ বছর বয়সী একটি কন্যাশিশু রয়েছে।

পুলিশ জানায়, উপজেলার নরেন্দ্র কারবারিপাড়ায় নিজঘরে নিকা ত্রিপুরা নামে গৃহবধূর মরদেহ পড়ে আছে স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছ থেকে এমন খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

তবে ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তাছাড়া ঘর থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাও খোয়া গেছে।

খাগড়াছড়ি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম বলেছেন, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ তার গলায় বলপ্রয়োগের দাগ রয়েছে। তবে ধর্ষণের বিষয়টি মেডিকেল রিপোর্ট পেলে বলা যাবে।

নিহতের ৮ বছর বয়সী মেয়ে শিখা ত্রিপুরা জানায়, শনিবার সকালে পাশের গ্রামের নানির বাড়ি থেকে সে নিজ বাড়িতে আসে। এ সময় মাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে স্কুলে চলে যায়। পরে সে জানতে পারে, তার মা মারা গেছেন।

স্থানীয় কার্বারী থৈঅংগো মারমার ভাষ্য, কিছুদিন আগে স্থানীয় এক মোটরসাইকেলচালক যুবকের সঙ্গে নিকা ত্রিপুরার পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা হয়। তবে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক বজায় থাকে।

তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে নিকা ত্রিপুরার মরদেহের পাশে পড়ে থাকা একটি মোবাইল ফোন ওই যুবক নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ পরকীয়ায় অভিযুক্ত ওই যুবককে আটক করা গেলে নিকা ত্রিপুরার হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন করা যাবে।

মহালছড়ি থানার ওসি মির্জা জহির উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই মহালছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিকা ত্রিপুরার মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার আত্মীয়-স্বজন থানায় এলে মামলা রুজুর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

ইত্তেফাক/এপি