আশির দশকের ‘চাইম’ ব্যান্ডের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী খালিদের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভরে উঠেছে তার জনপ্রিয় সব গানের লাইনে। শিল্পীকে নিয়ে শোকবার্তা জানিয়েছেন তার সান্নিধ্য পাওয়া কাছের মানুষ এবং সহকর্মীরা।
খালিদের একাধিক কালজয়ী গানের স্রষ্টা কিংবদন্তি প্রিন্স মাহমুদ। এর মধ্যে একটি গান হলো ‘কোনও কারণেই ফেরানো গেলো না তাকে’। এই গানের একটি লাইন শেয়ার করে নিজের শোকবার্তা জানিয়েছেন প্রিন্স। সেটা এরকম, ‘কোনও বাঁধনেই বাঁধা তো গেলো না কিছুতেই’।
এরপর আজ দুপুরে তিনি শিল্পীর কবরে শায়িত একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ঘুমাও তুমি ঘুমাও, গোপালগঞ্জ, খালিদ ভাই'র কাছে ...’
‘মাইলস’ তারকা শাফিন আহমেদ তার সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘সুকণ্ঠের অধিকারী, প্রতিভাবান গায়ক খালিদ (চাইম ব্যান্ড), যে শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়েছিল তার গান দিয়ে। সেই খালিদের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি ভীষণ শোকাহত।’
শূন্য দশকে রাজত্ব করা কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর ২০০৪ সালের একটি স্মৃতি শেয়ার করেছেন খালিদের প্রয়াণে। আসিফ লিখেছেন, ‘‘কোনও বাঁধনে বাঁধা তো গেলোনা তাকে, সে যে হৃদয় পথের রোদে একরাশ মেঘ ছড়িয়ে, হারিয়ে গেল নিমিষেই…।
নিজের গাওয়া প্রিন্স মাহমুদের অমর গানের সাথে হারিয়ে গেলেন ‘চাইম’ ব্যান্ডের প্রিয় ভোকালিস্ট খালিদ ভাই। রেখে গেলেন একরাশ মায়া। খালিদ ভাইয়ের মায়াবী কণ্ঠ একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
কৈশোর, যৌবনের প্রিয় গায়ক খালিদ ভাইয়ের এই মৃত্যূতে আমি হারিয়ে ফেললাম খুব প্রিয় একজন শিল্পী। জাতি হারালো নিভৃতচারী এক কিংবদন্তিকে। আমি, আমরা শোকাহত। খালিদ ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করি। মহান আল্লাহ তার পরিবারকে এই শোক বইবার শক্তি দিন। আমিন।”
কণ্ঠশিল্পী শফিক তুহিন শোকবার্তায় লিখেছেন, ‘রিপ,প্রাক্তন চাইম তথা বাংলা ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় মেলোডি শিল্পী খালিদ ভাই আর নেই(ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজেউন) ওপারে ভালো থাকবেন’
খালিদের গাওয়া একাধিক জনপ্রিয় গানের কথা-সুরের কারিগর তরুণ মুন্সী। তার সঙ্গে শিল্পীর পারিবারিক বন্ধনও ছিল। বিষণ্ণ মনে তরুণ সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘ভালো থাইকো কাকা। অনেক ভালো থাইকো। নতুন গান আর গাওয়া হইলো না।’
‘অবসকিওর’ ব্যান্ডের ভোকাল টিপু একটি স্থিরচিত্র পোস্ট করেছেন খালিদের সঙ্গে। সঙ্গে বলেছেন, ‘বিটিভিতে দেখা, বলেছিলাম খালিদ ভাই আপনার সাথে আমার কোনও ছবি নেই। সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন। প্রিয় মানুষের বিদায় মেনে নিতে কষ্ট হয়। ভালো থাকবেন ভাই।’
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা শোক বার্তায় লিখেছেন, “দেশের সংগীতাঙ্গনে আরও একটি শোকের ছায়া! ‘চাইম’ ব্যান্ডের খালিদ সাহেবও চলে গেলেন! খুবই আশ্চর্য যে, কোথাও কারও লেখায় ওনার পুরো নাম পেলাম না। যাইহোক অনেক গান তিনি দিয়ে গেলেন বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনকে, বিনিময়ে তেমন কিছুই পেলেন না! তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।”
গীতিকবি কবির বকুল স্তব্ধ মনে শোক জানিয়েছেন এক বাক্যে। তা এমন, ‘আমার প্রিয় শিল্পী খালিদ ভাই আর নেই।’
গীতিকবি ও কণ্ঠশিল্পী লুৎফর হাসান দুঃখ করে লিখেছেন, ‘গত পরশু রুম্মান আমাকে ফোন দিয়ে বলল ‘খালিদ ভাই আপনার লেখা একটা গান করবেন, লিরিক দেন, আর আমরা এই সপ্তাহেই বসব’। আমি বাসায় এসে প্রস্তুতি নিয়ে ‘অভিমান’ শিরোনামের একটা লিরিকের চার লাইন লিখলাম।
খালিদ ভাই গাইবেন, যেনতেন কথা না। তিনি আমার স্বপ্নের গায়ক। উনার জন্য গান লেখা বিরাট ব্যাপার। কেননা, আমার সময়ে যারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলেন, তারা জানেন, আমি গলা ছেড়ে খালিদ ভাইর সব গান কীভাবে গাইতাম। আমি রুম্মানের ফোন যখন পাই, খালিদ ভাই তখন রিকশায় রুম্মানের সঙ্গেই ছিলেন। দারুণ আনন্দে ভাসছিলাম।
আজ হঠাৎ শুনি, খালিদ ভাই চলে গেছেন। তিনি আর ফিরবেন না। উনার জন্য লেখা গানটার চার লাইন অসমাপ্ত রয়ে গেল চিরকালের জন্য।
আহা খালিদ ভাই! কত স্মৃতি আমাদের!আজ থেকে পনেরো বছর আগে উনার কতগুলো গানের ভিডিও আমি তৈরি করেছিলাম। ফাহমিদা আপা আর তানভীর তারেকের সঙ্গে খালিদ ভাই। দারুণ একটা কাজ করেছিলাম। সেই কাজ করতে গিয়ে আমাদের কত আড্ডা।
সরলতার প্রতিমা, কোনও কারণে ফেরানো গেল না তাকে, হয়নি যাবার বেলা, যদি হিমালয় হয়ে, কত কত গান, সেই চাইম ব্যান্ডের কী সব স্বর্ণ মোড়ানো গানের সেই খালিদ ভাই সব মায়া ছেড়ে চলে গেলেন। ছুটে গেলাম গ্রীন রোড। রুম্মানের সঙ্গে দেখা। আমাদের কাল বাদে পরশু বসাটা নিয়ে কী ভীষণ মন খারাপ।
খালিদ ভাই, পরম করুণাময় আপনাকে ভালো রাখুন।’
সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘চিরকুট’এর শোকবার্তাটি এরকম, “
আজ (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে নিজ বাসায় বুকে ব্যথা ওঠে; পরে গ্রীন রোডের কমফোর্ট হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আমরা খালিদ ভাইয়ের আত্মার শান্তি কামনা করছি।”
খালিদের ছেলে জুহাইফা আরিক ও স্ত্রী শামীমা জামান থাকেন নিউ ইয়র্কে। তাদের অনুপস্থিতিতেই মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) বাদজোহর দাফন সম্পন্ন হয় জন্মশহর গোপালগঞ্জ গেটপাড়া পৌর কবরস্থানে।
