গরমে অন্দরের স্বস্তি

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৪, ২৩:৩৩

ঋতুরাজ বসন্তের পরে গ্রীষ্ম আসি আসি বলছে। তবে আসি আসি বলছে বললে ভুল হবে। গ্রীষ্মের হাওয়া বইছে চারিদিকে। চৈত্রের রোদ যেন চোখ রাঙাচ্ছে।  সূর্যের তাপের প্রখরতা প্রচুর। বাইরে বের হলে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। শুধু বাইরেই নয় এমনকি ঘরেও অনেকটা একই অবস্থা। 

অন্যদিক থেকে শহরে ও গ্রামের প্রভাব পড়ছে ভিন্নভাবে। গ্রামে খোলামেলা ঘরবাড়ি হওয়ায় বাতাস চলাচলের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু শহরে একের পর এক দালানকোঠা হওয়ায় ঘরে বাতাস চলাচল প্রায় হয় না বললেই চলে। তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে গুমোট এই গরম থেকে মুক্তি মেলা সম্ভব।

আলো বাতাস 
সবার প্রথমে খেয়াল রাখতে হবে যে প্রাকৃতিক বাতাস খুব সহজেই ঘরে ঢুকতে পারে কিনা। ভোরের বাতাস কিংবা বিকেলের মৃদু হাওয়া যদি ঘরে ঢুকে প্রাকৃতিকভাবেই ঘর শীতল থাকবে।  তবে দুপুরের রোদের যেই তাপমাত্রা থাকে রোদের যে প্রখরতা থাকে, সেই সময় একটু ভারি পর্দা দিয়ে সম্পূর্ণ ঘরকে ছায়ায়  জড়িয়ে ফেলুন। এছাড়াও দিনের বেলা আলো জ্বালিয়ে রাখবেন না লাইট থেকে বের হওয়া নির্গত তাপ ঘরে গরম ভাব তৈরি করে।

অন্দরে গাছ
অন্দরে ইনডোর প্ল্যান্টের ব্যবহার যে অন্দরে শুধুমাত্র সতেজ ও সজীবতাই নিয়ে আসে এমনটা নয়, বরং সৌন্দর্য বাড়াতেও এর জুড়ি ব্যাপক। ইনডোর প্ল্যান্টের সবুজ সতেজতা অন্দরকে নির্মলতার স্পর্শ দিয়ে থাকে যা মনেও দেবে প্রশান্তির পরশ। এসব ছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ আছে, যার কারণে আপনি ঘরে ইনডোর প্ল্যান্ট লাগাবেন। যেমন- গাছ আপনার ঘরের বাড়তি খালি জায়গাটুকুকে ভরাট করে নতুনত্ব নিয়ে আসতে পারে। এছাড়াও বা একটি বারান্দায় জুড়ে সম্পূর্ণ বৃক্ষ রোপণ করতে পারেন। আর ঘরের কোনায় যদি গাছ রেখে বাড়তে জায়গা থাকে সেখানে অন্যান্য অনুষঙ্গ দিয়েও সাজাতে পারেন।

ঘরের অনুষঙ্গে হালকা ব্যবহার
ঘরের যে অনুষঙ্গ গুলো রয়েছে যেমন বিছানার চাদর, সোফার কভার, কুশন, পর্দা এই ধরনের অনুষঙ্গতে অবশ্য হালকা কালার ব্যবহার করুন।  খুব বেশি ডিজাইন থাকলে সেই ধরনের চাদর বা পর্দা গুলো ব্যবহার না করার চেষ্টা করুন।  যতটা সম্ভব ঘরকে হালকা রাখা যায় সেই ব্যবস্থাই করুন। রঙের ক্ষেত্রে গোলাপি আকাশে সাদা হলুদ ল্যাভেন্ডার মিন্ট টিয়া এই ধরনের রং গুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

বরফ রেখে ফ্যান চালান
গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা প্রায়। ইনস্ট্যান্ট এসির বাতাসের জন্য টেবিল ফ্যানের সামনে গামলা ভর্তি বরফ রেখে ফ্যান চালিয়ে দিন। নয়তো একটি পানির বোতলে বরফ জমিয়ে ফ্যানের সামনে রাখুন। যখনই ফ্যান চালাবেন, বরফের ঠান্ডা হাওয়া ঘরকে শীতল করে তুলবে। 

বায়ু সঞ্চালন পেতে বিশৃঙ্খলা পরিত্রাণ পান
দরকার ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস এর জন্য একটি ঘরে বায়ুমণ্ডল বোধ করতে অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বই, সংবাদপত্র বা ম্যাগাজিনগুলি সরান। জানালা খোলা রাখুন এবং  সিন্থেটিক আইটেম এবং ভারী পশমি পাটি স্টোর রুমে স্থানান্তর করুন। যদি সম্ভব হয়, শণ এবং পাট দিয়ে তৈরি পাতলা কার্পেটে বিনিয়োগ করুন যা দেখতে চমৎকার এবং গ্রীষ্মকালে আরামদায়ক। আরও আরামদায়ক গ্রীষ্মের জন্য ছোটখাটো পরিবর্তনের সাথে আপনার ঘরকে নতুন করে সাজান। উদাহরণস্বরূপ, একটি দানি, বাটি, বা অন্যান্য কাচের পাত্রে ঠান্ডা জল দিয়ে ভরাট করুন এবং গ্রীষ্মের সাজসজ্জার একটি মজাদার টুকরো তৈরি করতে রঙ্গিন ফুল, নুড়ি, সীশাল বা এমনকি তাজা পাতা ব্যবহার করুন।

ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সচেতনতা
ঘরে অতিরিক্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। অপ্রয়োজনীয় বা কোনো কারণ ছাড়াই কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ব্যবহার করবেন না। দুপুরের দিকেও মোবাইল চার্জে দিবেন না এছাড়াও ঘুমানোর আগে কিংবা যেখানে আপনি বসে রেস্ট নেন সেইসব জায়গার আশেপাশে থেকে মোবাইল দূরে রাখুন। কারণ মোবাইল থেকে নির্গত তাপমাত্রা ঘরকে আরো গরম করে দেয়। এছাড়াও যদি প্রয়োজন না হয় তাহলে সব ঘরের আলো বন্ধ করে রাখুন। 

যতটা সম্ভব ঘরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। পাশাপাশি সাজিয়ে গুছিয়ে রাখুন। এলোমেলো বা অগোছালো অন্দর দেখলেও অস্বস্তি অনুভূত হয়। আর সেই অসুস্থ অনুভূত থেকেও গরম বা অস্থিরতা অনুভব হতে পারে।

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন