চীনকে সতর্ক করল যুক্তরাজ্য

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ০০:২৮

হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘দমন-পীড়নের’ জন্য চীনকে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট বলেছেন, এ ধরনের দমন-পীড়ন চালিয়ে গেলে তার ফল কোনো পক্ষের জন্যই ভালো হবে না। অন্যদিকে, হংকংয়ে অসন্তোষের জন্য পশ্চিমা শক্তির অনধিকার চর্চাকে দায়ী করেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। চীন ও যুক্তরাজ্যের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক দ্বন্দ্বের মধ্যে সাবেক ব্রিটিশ উপনিবেশটিতে এ ধরনের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বেগ প্রকাশ করে চীন।

চীনের সরকারি পত্রিকা চায়না ডেইলির সম্পাদকীয়তে বলা হয়, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোয় পশ্চিমা সরকারের কর্মকাণ্ডে দুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও তাদের পছন্দসই নয়— এমন সরকারের বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টির প্রচেষ্টায় পশ্চিমা সরকারের ভাবাদর্শের কোনো পরিবর্তনই আসেনি।

অন্যদিকে, জেরেমি হান্ট বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে চীনকে ‘গুরুতর পরিণতির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে ফের এমন সতর্ক করেছেন। তিনি বিক্ষোভের সময় সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানান। তবে বিক্ষোভের প্রতি চীনা সরকারের প্রতিক্রিয়াকে ‘দমন-পীড়ন’ বলে উল্লেখ করেন। হান্ট হংকংয়ের উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসনের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য বেইজিংকে আহবান জানান।

গত সোমবার ছিল হংকংকে ব্রিটেনের কাছ থেকে চীনা শাসনের কাছে হস্তান্তরের ২২ বছর পূর্তি। এ উপলক্ষে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়। সাধারণত, প্রতিবছর বার্ষিক গণতন্ত্রকামী মিছিলের আয়োজন করে দিনটি উদ্?যাপন করা হয়। তবে বিতর্কিত প্রত্যর্পণ আইনকে কেন্দ্র করে এ বছর অস্থিরতা বিরাজ করছে হংকংয়ে। নতুন এ আইন অনুযায়ী চীন চাইলে সন্দেহভাজন অপরাধীদের নিজ ভূখণ্ডে নিয়ে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারবে। এর প্রতিবাদে কয়েকজন আন্দোলনকারী বেশ কয়েক ঘণ্টা আইনসভা কাউন্সিল (লেগকো) দখল করে রাখে। সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা আন্দোলনের জেরে অপরাধী প্রত্যর্পণ আইন আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে বিরোধীরা বলছেন, এর ফলে হংকংয়ের বহুল প্রত্যাশিত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে। আন্দোলনে সম্পৃক্ত এ পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।