দেশে প্রথম বাল্যবিয়ে প্রতিরোধী অ্যাপস উদ্বোধন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ১৭:০৬

দেশে প্রথম বাল্যবিয়ে প্রতিরোধী অ্যাপস উদ্বোধন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেই অ্যাপস ব্যবহারের জন্য ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এই অ্যাপসের উদ্বোধন করেন পাবনার নবাগত জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ। 

জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন জিনিস তৈরি ও আবিষ্কার হচ্ছে। তেমনি একটি ডিজিটাল উদ্যোগ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধী অ্যাপস। এর মাধ্যমে দ্রুত বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ সম্ভব।

তিনি বলেন, সন্তানদের শুধু জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নামলে চলবে না। তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে মায়েদের। সন্ধ্যার পর স্টার জলসা, জি-বাংলা দেখলে চলবে না, সন্তাদের পাশে বসে লেখাপাড়ার খোঁজ নিতে হবে। সন্তানদের হাতে মোবাইল তুলে না দিয়ে বই তুলে দিতে হবে।    

মুলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রাশেদুল ইসলাম বকুলের সভাপতিত্বে ও ইউপি সদস্য আঃ কুদ্দুস রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শফিউল ইসলাম, চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আঃ হামিদ মাস্টার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার অসীম কুমার প্রমুখ।

স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিএসপি-৩ আর্থিক সহায়তায় দেশের প্রথম বাল্যবিয়ে প্রতিরোধী অ্যাপসের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছেন ইউএনও সরকার অসীম কুমার।

তিনি জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের কমনরুমে ট্যাব রাখা থাকবে। বাল্যবিয়ে বিষয়ে তারা অ্যাপসে ঢুকে নাম, ঠিকানা, শ্রেণি ও রোল নম্বর উল্লেখ করে সমস্যার কথা লিখে মেসেজ দিবে। যা চলে যাবে উপজেলা প্রশাসনে। তখন উপজেলা প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে। শুধু বাল্যবিয়েই নয়। যৌন হয়রানী, নারী নির্যাতন বিষয়েও মেসেজ দিবে। গুগল প্লে স্টোরেও পাওয়া যাবে এই অ্যাপস। গত বছর দেশে প্রথম এই মূলগ্রাম ইউনিয়নেই ঘরে বসে ট্যাক্স পরিশোধ ও ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা পাওয়া অ্যাপস চালু করা হয়। এই অ্যাপস চালু করার পর ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স আদায় ১০ গুণ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আপনার ছেলে পুলিশে বড়ো চাকরি পেয়েছে, আমরা তদন্তে এসেছি’

প্রসঙ্গত, অ্যাপসটির ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এমআইইসি ল্যাব লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি প্রযুক্তি সেবায় গভর্নমেন্ট এন্ড সিটিজেন সার্ভিস ক্যাটাগরিতে ন্যাশনাল আইসিটি অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ অর্জন করেছে।

ইত্তেফাক/আরকেজি