সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সাগরে ফেলা ত্রাণ আনতে গিয়ে ডুবে গেল ১২ ফিলিস্তিনি

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ০৮:৫৩

বিমান থেকে প্যারাশুটের মাধ্যমে সাগরে ফেলা ত্রাণ আনতে গিয়ে অন্তত ১২ ফিলিস্তিনি পানিতে ডুবে গেছেন। গত সোমবার (২৫ মার্চ) বেইত লাহিয়া উপকূলে এমন ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্যারামেডিকরা।

এদিকে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু রকেট হামলায় একজন নিহত হয়েছে। হামাস নেতা বলেছেন, বৈশ্বিক সমর্থন হারাচ্ছে ইসরায়েল। অন্যদিকে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি নারকীয়।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, সাগরে ত্রাণ ফেলার পর সেগুলো আনতে দৌড়াদৌড়ি করছেন সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। অপর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ডুবে যাওয়া মানুষদের উদ্ধার করে তীরে আনা হয়েছে এবং তাদের বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। 

আবু মুহাম্মদ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ত্রাণগুলো উপকূল থেকে অনেক দূরের সমুদ্রে ফেলা হয়েছিল। এরপর সাঁতার না জানা অনেক পুরুষও সেগুলো নিতে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। । তিনি বলেন, ঐ সময় শক্তিশালী স্রোত ছিল এবং সব প্যারাশুট পানিতে পড়েছিল। যারা তরুণ তারা দৌড়ে গিয়ে এসব ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু যাদের একটু বয়স বেশি তাদের জন্য গল্পটা অন্যরকম। 

আবু মুহাম্মদ আরো বলেন, আমরা সবগুলো স্থলপথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এ ধরনের অপমানজনক পদ্ধতি মানা যায় না।

এদিকে সীমান্ত-লাগোয়া ইসরায়েলের কিরিয়াত শোমোনা শহরে মুহুর্মুহু রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। দক্ষিণ লেবাননের একটি গ্রামে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলার জবাবে বুধবার ভোরের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। হামলায় অন্তত এক ইসরায়েলি নিহত হয়। হিজবুল্লাহর ছোড়া রকেটের আঘাতে উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াতে ধসে যাওয়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে নিহত হন তিনি। এর আগে, মঙ্গলবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের হাব্বারিয়াহ গ্রামে ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। 

এছাড়া মঙ্গলবার উত্তর লেবাননের দুটি শহরের কাছে একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। হামলায় হিজবুল্লাহর অন্তত তিন যোদ্ধা নিহত হন বলে টেলিগ্রামে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। 

এদিকে গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে কোনো আশার আলো নেই। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার বলা হয়েছে, হামাস চুক্তির শর্ত হিসেবে 'বিভ্রান্তিকর' সব দাবি জানিয়েছে। যাতে বোঝাই যাচ্ছে, ফিলিস্তিনিরা একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে উপনীত হতে আগ্রহী নয়। তাছাড়া ইসরায়েল যেমন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনা আটকে যাওয়ার জন্য হামাসকে দায়ী করছে। তেমনি হামাস বলছে, আলোচনা চলাকালেও ইসরায়েল গাজায় হামলা চালিয়ে আলোচনার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করেছে। 

উভয় পক্ষ যখন পরস্পরকে দায়ী করায় ব্যস্ত সে সময়ে গাজার লাখ লাখ সাধারণ ফিলিস্তিনি প্রতিনিয়ত প্রাণ বাঁচাতে লড়ে যাচ্ছে। ছোট্ট এই ভূখণ্ডটি দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘসহ নানা মানবাধিকার সংস্থা। এদিকে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ বলেন, ইসরায়েল বৈশ্বিক সমর্থন হারাচ্ছে। ইরানে সফরকালে এমন মন্তব্য করেন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়াহ। 

তিনি বলেন, ইসরায়েল?'অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার' সম্মুখীন হচ্ছে। ইসমাইল হানিয়াহ বলেন, ইসরায়েল এখন রাজনৈতিক আশ্রয় এবং সুরক্ষা হারাচ্ছে। সোমবার নিরাপত্তা পরিষদে আমরা এমন চিত্র দেখতে পেয়েছি। অন্যদিকে গাজার পরিস্থিতি নারকীয় বলে জানিয়েছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আরো বেশি মানবিক সাহায্য পাঠানো প্রয়োজন। আর এর জন্য খুলে দিতে হবে সীমান্ত-এমনই দাবি করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক। 

মধ্যপ্রাচ্যে সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক মঙ্গলবার ইসরায়েল-গাজা সীমান্ত কেরেম শালোমে গিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, গাজার পরিস্থিতি নারকীয়। দ্রুত সীমান্ত খুলে দিতে হবে এবং আরো অনেক বেশি পরিমাণে মানবিক সাহায্য পাঠাতে হবে সেখানে। সেখানে দাঁড়িয়েই বেয়ারবক আরো জানান, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রামে জার্মানি বরাদ্দ বাড়িয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন