বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সিদ্ধিরগঞ্জে ফের ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩০

সিদ্ধিরগঞ্জের একই হাসপাতালের বিরুদ্ধে বারবার ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় অবস্থিত প্রো-অ্যাকটিভ মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেড নামে এক হাসপাতালে সালমা (৪২) নামে এক রোগী মারা যান। 

নিহত সালমা ফতুল্লার ইজদাইর বাজার এলাকার ফারুক হোসেনের স্ত্রী। ২৩ ডিসেম্বর আদমজী সুমিলপাড়ার হোসেন আলম মেম্বারের মেয়ে ফারজানারও একই কারণে মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বছরে একাধিকবার এ ধরনের মৃত্যুর অভিযোগ ঐ হাসপাতালটির বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার বিকালে নিহত সালমার বড় বোন হোসনে আরা ইসলাম জানান, ‘পেট ব্যথার কারণে সালমাকে ২৭ মার্চ দুপুরে প্রো-অ্যাকটিভ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। সারা রাত সে ভালো ছিল। আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। ভোরে তাকে একটি ইনসেকশন দেওয়ার পর অবস্থা খারাপ হয়। তখন তাড়াহুড়া করে তাকে আইসিইউতে নিয়ে যায়। ভালো রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রোগী কোমায় চলে গেছে। আইসিইউতে রাখলে ঠিক হয়ে যাবে। সকাল ৮টার দিকে বোনের শরীরে হাত দিয়ে দেখি বরফের মতো ঠান্ডা। চেহারা কালো হয়ে গেছে। আমার বোন মারা গেছে বলার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিন্তার কোনো কারণ নেই রোগী বেঁচে আছেন।’ তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘ব্যবস্থাপত্রে যে চিকিত্সকের নাম উল্লেখ রয়েছে তিনি রোগীর চিকিৎসা করেননি। চিকিৎসা করেছেন অন্য এক জন। যিনি চিকিৎসা করেছেন তিনি চিকিত্সক নন।’ 

নিহতের ভাই আতাউর রহমান বলেন, ‘বোনের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিকালে হাসপাতালে আসি। তখনো আমাদের বলা হয়নি রোগী মারা গেছে। পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে রোগী মারা গেছে। রোগী সকালে মারা গেলেও মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দিনভর আইসিইউতে রেখে ৫২ হাজার টাকা বিল করেছে। ব্যবসা করার জন্য তারা ভুল ইনজেকশন দিয়ে রোগীকে মেরে আইসিইউতে নিয়েছে।’ 

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের চিকিত্সকের তত্ত্বাবধানে রোগীর চিকিৎসা চলছিল। সকালেও তিনি রোগী দেখে গেছেন। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যু হয়।’

ইত্তেফাক/এএইচপি