কম্পিউটারের কাজ যখন স্মার্টফোনে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ২০:৪৬

মোজাহেদুল ইসলাম ঢেউ

 

কম্পিউটারে আমাদের  অফিসিয়াল বা গুরুত্বপূণ কাজ করার অভ্যাস তো রয়েছেই ।  কখনও যদি এমন হয় যে হাতের কাছে কম্পিউটার নেই রয়েছে হাই কনফিগারের স্মার্টফোন।  আপনি চাইলে ওই স্মার্টফোন দিয়েই প্রয়োজনীয় কাজগুলো করে নিতে পারেন। এছাড়াও কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের মধ্যে  গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব। এটিকে ইংরেজিতে বলে  সিনক্রোনাইজেশন।  স্মার্টফোন  ও কম্পিউটারের সিনক্রোনাইজেশন নিয়ে এ লেখায় আলোচনা করা হলো। চলুন দেখে  নেওয়া যাক—

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সিনক্রোনাইজেশন

স্মার্টফোনের বাজারে এখন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ফোন। জনপ্রিয় এই অপারেটিং সিস্টেমেও আপনার ফাইলগুলোকে পিসির সাথে সবসময় সিনক্রোনাইজ করে নেওয়ার সুবিধা প্রদান করে থাকে অ্যান্ড্রয়েড নির্মাতা গুগল।

 আর গুগল অ্যাকাউন্ট এবং জিমেইল থাকলে তো কথাই নেই। সেক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবেন। এর জন্য ব্যাক আপ ও রিসেট থেকে আপনাকে ব্যাকআপ অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করতে হবে। সেখানে আপনার জিমেইল অ্যাকাউন্ট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। গুগল’র অনলাইন স্টোরেজেই ব্যাকআপ রাখতে পারবেন সব তথ্য। গুগল অ্যাকাউন্টে অনলাইনে এখন ১৫ গিগাবাইট ফ্রি স্টোরেজ লাভ করতে পারবেন।

আইফোনের সিনক্রোনাইজেশন

বিশ্বকে বদলে দেওয়া ফোন আইফোন। আর এই ফোন আপনার জীবনকে সহজ করবে না, তাই কি হয়? অ্যাপল তাদের আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে প্রতিটি আইফোনের জন্য রেখেছে স্বয়ংক্রিয় ক্লাউড সেবা যেটি ‘আইক্লাউড’ নামে পরিচিত। জনপ্রিয় এই সেবা পেতে হলে আইফোনের সেটিং অপশনে গিয়ে আইক্লাউড নির্বাচন করতে হবে। এরপর স্টোরেজ ও ব্যাকআপ থেকে চালু করে নিতে হবে আইক্লাউড ব্যাকআপ। এরপর আপনার আর কোনো চিন্তা নেই। আপনার পুরো আইফোনের সকল ফাইলই খুঁজে নিতে পারবেন আইক্লাউডে। পুরোপুরি নির্ভার থাকতেই পারেন এবার। আপনার ফোনে যদি ইন্টারনেট সংযোগ থাকে, তাহলে প্রতিদিনই আইক্লাউড আপনার ফোন থেকে নতুন তথ্য কিংবা ফাইল খুঁজে নেবে।

উইন্ডোজ ফোনের সিনক্রোনাইজেশন

উইন্ডোজ ফোনের ব্যবহারকারীরা কি জানেন যে এই ফোনের একটি আলাদা নাম রয়েছে। আসলে উইন্ডোজ পিসিকে বলা হয়ে থাকে ‘পকেট পিসি’। উইন্ডোজ ফোনে সিনক্রোনাইজেশনের সুবিধা উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট বা আউটলুক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। এর কোনো একটি অ্যাকাউন্ট থাকলে সেটা ব্যবহার করেই আপনার উইন্ডোজ ফোনের ব্যাকআপ অপশনে গিয়ে আপনার পিসির সাথে সিনক্রোনাইজ করে নিতে পারবেন।

স্মার্টফোনে মুক্ত ইন্টারনেট

একবার ভাবুন তো, আপনি যেখানেই যাচ্ছেন সেখানটাই পরিণত হচ্ছে মুক্ত ইন্টেরনেট কেন্দ্রে। আর তার নিয়ন্ত্রক আপনি। ইচ্ছা করলেই বন্ধু কিংবা কলিগদের সাথেও শেয়ার করে নিতে পারেন তা। বিভিন্ন ফোনের জন্য এই পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো।

আইফোনে

আইওএস ৪.৩ অথবা এর উচ্চতর সংস্করণে মুক্ত ইন্টারনেট শেয়ার করার সুবিধা দেওয়া থাকে। খুব সহজেই আপনি আপনার আইফোনকে ওয়াই-ফাই কেন্দ্রে রূপ দিতে পারেন। এ জন্য আপনাকে শুধু আইফোনের সেটিংয়ে পার্সোনাল হটস্পটে গিয়ে চালু ও বন্ধ করতে হবে। আর তাহলেই আপনার আইফোনটি পরিণত হয়ে উঠবে ওয়াই--ফাই হটস্পটে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে

অ্যান্ড্রয়েড ২.২ বা উচ্চতর সংস্করণের স্মার্টফোনগুলোতে মুক্ত ইন্টারনেট বিনিময় সেবা বা থেটারিং দেওয়া থাকে। এই সেবার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫ জনের সাথে আপনি আপনার ইন্টারনেট ভাগ করতে পারবেন। আপনার মুঠোফোনের মেন্যু থেকে সেটিং অপশনে গিয়ে ওয়্যারলেস ও নেটওয়ার্ক নির্বাচন করুন। এখান থেকে পোর্টাবেল ওয়াই-ফাই হটস্পট নির্বাচন করলে এর মাধ্যমে আপনার ইন্টারনেট সবার জন্য উম্মুক্ত হবে। আপনি সবার জন্য উম্মুক্ত রাখতে পারেন আবার ব্যবহারকারীর সীমাবদ্ধতাও রাখতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনাকে পোর্টাবেল ওয়াই-ফাই অপশনের উপর চাপ দিয়ে আপনার নেটওয়ার্কের একটি নাম ঠিক করতে হবে। এবার সিকিউরিটিতে চাপ দিয়ে একটি পাসওয়ার্ড দিন।

আপনার ফোন যখন মাউস

ভাবছেন ভুল পড়ছেন? একদম না। তবে এই মজাটি পাবেন শুধু মাত্র অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা। গুগল প্লেস্টোরে গিয়ে মোবাইল মাউস লিখে খুঁজে নিতে পারেন এই মজার অ্যাপ্লিকেশনটি। এটিকে কাজ করাতে আপনার কমিপউটারেও এই অ্যাপ্লিকেশনটি ইন্সটল করতে হবে। এটি আপনার মুঠোফোনকে কমিপউটার খুঁজে নিতে সাহায্য করবে। ফোনটিকে একটি পাসওয়ার্ড দিয়ে মিল করে নিন এবং আপনার কম্পিউটারের কন্ট্রোল প্যানেলে গিয়ে পয়েন্টার সেটিং পরিবর্তন করুন।

আপনার পকেটেই আপনার অফিস

গুগল ও মাইক্রোসফট তাদের গ্রাহকদের জন্য ফোন ও কম্পিউটারের ফাইল সমন্বয়ে গুগল ড্রাইভ, স্কাই ড্রাইভ সেবা দিয়ে থাকে। তবে ভিন্ন ভিন্ন সুবিধা নিতে গেলে আপনার  জিমেইল এবং হটমেইল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। দুটি সেবাই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব গ্রাহকদের প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে আপনি যে অপারেটিং সিস্টেম কিংবা ইমেইল সেবার গ্রাহক হোন না কেন, আপনার অফিস ও ব্যক্তিগত ফাইলের দায়িত্ব দিতে পারেন ড্রপবক্সকে। 

ফাইল এডিটিং ফোন থেকেই

আইফোন ও অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা গুগল ড্রাইভের মাধ্যমে প্রায় সব কাজই করতে পারবেন। যেকোনো ধরনের ফাইল এডিটিং থেকে শুরু করে সব কাজই করা যায় এর মাধ্যমে। এর জন্য কেবল গুগল ড্রাইভ ইন্সটল করা থাকলেই হবে। এতে করে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই পেয়ে যাবেন গুগল ডকস। আর সেখান থেকেই এডিট করতে পারবেন প্রায় সব ধরনের ফাইল।

প্রিন্টিং যখন মোবাইলে

ক্লাউডিং প্রিন্ট বলুন , আর এয়ার প্রিন্ট বলুন—এখন এসব সুবিধার মাধ্যমে মোবাইল ফোন থেকেই সব ধরনের ফাইল প্রিন্ট দিতে পারবেন। এবার আপনার কম্পিউটারের ক্রোমের সেটিংয়ে গিয়ে মোর অ্যাডভান্সড সেটিংয়ে গিয়ে সবার উপর থেকে ক্লাউড প্রিন্টার নির্বাচন করুন।