কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা
আজ কাজীপুর হানাদারমুক্ত দিবস। ’৭১ সালের এই দিনে কাজীপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পাকহানাদার বাহিনী কাজীপুর ছেড়ে চলে যায়। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর সারাদেশের মত কাজীপুরেও গঠিত হয় আঞ্চলিক সংগ্রাম পরিষদ। পাকহানাদার বাহিনী তাদের দোসরদের সহযোগিতায় নারকীয় হত্যাযজ্ঞ শুরু করলে কাজীপুরের বড়ইতলাসহ কয়েকটি গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটি স্থাপন করা হয়। রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকসেনারা বড়ইতলা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটিতে হানা দেয়। ১৯ নভেম্বর এই গ্রামের ১১০ জনকে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা এবং চারশ’ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয় হানাদাররা। ৩ ডিসেম্বর ভোরে পাকহানাদার বাহিনী কাজীপুর ত্যাগ করে চলে যায়। মুক্ত হয় কাজীপুর।
পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা জানান, পীরগঞ্জ পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিবাহিনীর ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীরের অধীন দু’শতাধিক গেরিলা ও মিত্রবাহিনীর চতুর্মুখী প্রবল আক্রমণের মুখে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের দোসররা পীরগঞ্জ ছেড়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ হয়ে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্টের দিকে পলায়ন করে। এদিনেই মুক্তিবাহিনীর গেরিলা নেতা যথাক্রমে মুন্সিপাড়ার শহীদুল্লাহ্ শহিদ, মকিমউদ্দিন আহম্মেদ, জগথার আব্দুল আজিজ, বীরহলির তালেবুর রহমান ও কাচন ডুমুরিয়ার আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন দু’শতাধিক গেরিলা মুক্তিসেনা বীরবিক্রমে পীরগঞ্জে প্রবেশ করে পীরগঞ্জকে পাকহানাদার মুক্ত ঘোষণা করেন।
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) আজ সোমবার কোটালীপাড়া মুক্ত দিবস। ’৭১-এর এই দিনে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া হানাদার মুক্ত হয়েছিল। কোটালীপাড়া উপজেলায় বয়ে গিয়েছিল আনন্দের বন্যা । অনেক দুঃখ-বেদনার পরও সেদিন এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল আনন্দ আর উল্লাস। কোটালীপাড়াবাসী পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ।
