সাভারে তেলবাহী লরি উল্টে ৫ গাড়িতে আগুন, নিহত ২

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৪, ২০:১০

সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ইউটার্ন নির্মাণের জন্য সড়কে রাখা সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় একটি তেল বোঝাই লরি। এ সময় তেল বোঝাই লরিটিতে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। এ সময় পাশে এবং পেছনে থাকার একটি প্রাইভেটকারসহ আরও চারটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। 

এতে ঘটনাস্থলেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায় সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের লেবার ইকবাল হোসেন। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ৮ জনকে উদ্ধার করে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর নজরুল ইসলাম নামে আরও এক ব্যক্তি মারা গেছে। 

মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোড়পুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইকবাল হোসেন (৩৪) যশোর জেলার চৌগাছা থানার বরনি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। সে সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থেকে সিমেন্টের ট্রাকে লেবারের কাজ করতো। অপরজন নিহত নজরুল ইসলাম (৪৫) এর  গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে বলে জানা গেছে। 

হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বাকি সাতজন হলেন সিমেন্টের ট্রাকের লেবার বরিশালের বাকেরগঞ্জের মিলন মোল্লা (২২), বরগুনার মীম (১০), আল আমিন (৩৫), নিরঞ্জন (৪৫), হেলাল (৩০), রাজশাহীর আব্দুস সালাম (৩৫) ও সাকিব (২৪)। তাদের মধ্যে মিলন মোল্লার শরীরের ৪৫ শতাংশ, শিশু মীমের শরীরের ২০ শতাংশ, আল আমিনের  ১০ শতাংশ , নিরঞ্জনের ৮ শতাংশ, আব্দুস সালামের ৫ শতাংশ ও ট্রাকের চালক হেলাল ও হেলপার সাকিব শরীরের ১০০ শতাংশ পুড়ে গেছে। 

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচ টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোড়পুল এলাকায় ইউটার্নের জন্য রাস্তার উপর সাজিয়ে রাখা সিমেন্টের পিলারের সঙ্গে একটি তেলবোঝাই লরির ধাক্কা লেগে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক বিভাজকের উপর উঠে উল্টে যায়। এ সময় লরিটিতে আগুন লেগে যায় এবং লরিতে থাকা তেল গড়িয়ে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পেছনে থাকা চারটি ট্রাক ও একটি প্রাইভেটকারে ছড়িয়ে পড়ে। 

খবর পেয়ে প্রথমে সাভার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় হেমায়েতপুর ট্যানারি শিল্প এলাকার দুইটি ইউনিট ও রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে আরও একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়। পরে ৬ টি ইউনিটের দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। 

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, সকালে সাভারে লরি উল্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালে আটজন দগ্ধ রোগী এসেছেন। তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম নামে একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছে। দগ্ধদের মধ্যে হেলাল ও সাকিব নামের দুজনের শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হওয়ায় তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। এ ছাড়া শ্বাসনালী পুড়ে যাওয়ায় ১০ বছরের শিশু মিম ও মিলন মোল্লাও শঙ্কামুক্ত নন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

দগ্ধ প্রাইভেট কারচালক আব্দুস সালাম জানান, তিনি হেমায়েতপুরে সিএনজি পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে ঢাকার দিকে ফিরছিলেন। তবে হেমায়েতপুর জোড়পুল এলাকায় একটি তেলের ট্যাংকার দুর্ঘটনায় রাস্তার ওপর উল্টে ছিল। সেটির কারণে পাশ দিয়ে অন্যসব গাড়ি ধীরগতিতে পার হচ্ছিল। আর ওই ট্যাংকার থেকে রাস্তায় তেল গড়িয়ে পড়ছিল। তখন হঠাৎ সেখানে আগুন ধরে যায়। এতে ট্যাংকারের আশপাশে থাকা অনেকগুলো গাড়িতে আগুন ধরে যায়।

দগ্ধ মিলন মোল্লার স্ত্রী জান্নাতি জানান, তার স্বামী সিমেন্ট বহনকারী গাড়ির লেবার। ভোরে ওই গাড়িতে করে কাজে যাচ্ছিলেন। এসময় ওই গাড়িতে আগুন লেগে গেলে সে দগ্ধ হয়।

সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার নুরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলের আশপাশে কোন পানির উৎস না থাকায় আগুন নির্বাপণে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ছয়টি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নির্বাপণ করা হয়। 

সাভার হাইওয়ে থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল হোসেন বলেন, নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত তেলের লরির চালক, হেলপার ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। 

ইত্তেফাক/পিও