উত্পাদন বাড়াতে প্রয়োজন ব্যাংকঋণ
এনামুল হক, খুলনা অফিস
খুলনায় বাঁশের স্কয়ার স্টিক তৈরি করে অর্ধ শতাধিক নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাংলাদেশি মাছ কোম্পানিগুলো এই স্টিক আগে চীন থেকে সংগ্রহ করে ব্যবহার করত। এখন খুলনার রূপসা উপজেলার নারীদের নিপুণ হাতে তৈরি এই স্কয়ার স্টিক দেশের মাছ কোম্পানির চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তবে ব্যাংকঋণের অভাবে এর উত্পাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। বাঁশের স্কয়ার স্টিক বা বাম্বু স্টিক হিমায়িত চিংড়ি সোজা রাখার কাজে ব্যবহার করা হয়। এখন খুলনার রূপসা উপজেলার নিকলাপুর ও কিসমত খুলনা গ্রামেই এই স্টিক তৈরি হচ্ছে। আর এ কাজে নিয়োজিত রয়েছেন ওই দুই গ্রামের অর্ধ শতাধিক নারী।
রূপসা উপজেলার নিকলাপুর গ্রামের নারী উদ্যোক্তা মনিরা সুলতানা স্থানীয় ৫০ থেকে ৬০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে হাতে তৈরি বাঁশের স্কয়ার স্টিক বা বাম্বু স্টিক তৈরির কাজে পারদর্শী করে গড়ে তুলেছেন। এসব নারীরা এখন নিজের বাড়িতে বসেই এই স্টিক তৈরির কাজ করছেন। তারা প্রতিদিন স্টিক তৈরি করে বাড়িতে বসে ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা আয় করছেন। আর উদ্যোক্তা মনিরা সুলতানাও সব খরচ-খরচা বাদে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করেন। তবে, আর্থিক অসচ্ছলতা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন মনিরা সুলতানা।
মনিরা সুলতানা বলেন, আমার স্বামী মাছ কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেই সুবাদে ২০০১ সালে লখপুর ফিশের কর্মকর্তা শফিউল্লাহ খান মিলন চীন থেকে আমদানি করা বাঁশের তৈরি স্কয়ার স্টিকের স্যাম্পল এনে বলেন, হুবহু ওই রকম স্টিক তৈরি করে দেওয়ার জন্য। তিনি আমাকে বলেন, চীন থেকে যেসব স্কয়ার স্টিক আমদানি করা হয়, তা ৩/৪ মাসের বেশি টেকে না। ঘুণ ধরে নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের দেশি বাঁশ জাগ দিয়ে এই স্টিক তৈরি করতে পারলে তার গুণগত মান ভালো হবে। এছাড়া, আমাদের দেশের টাকাও দেশে থেকে যাবে। সেই স্যাম্পল অনুযায়ী অল্প কিছু সংখ্যক স্কয়ার স্টিক তৈরি করে মিলনকে দেখালে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে পরামর্শ দেন বিভিন্ন মাছ কোম্পানিতে তার তৈরি স্যাম্পল পাঠাতে। তার কথামতো আমরা স্থানীয় সব মাছ কোম্পানিতে স্যাম্পল পাঠিয়ে ব্যাপক সাড়া পাই। সেই থেকে এ কাজে আমার যাত্রা শুরু।
তিনি বলেন, প্রথম দিকে আমার পরিবারের সদস্যরা স্কয়ার স্টিক তৈরি করতাম। এতে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা কম থাকায় এলাকার নারীদের সম্পৃক্ত করি। বিভিন্ন সাইজ ও প্রকার ভেদে এক হাজার স্কয়ার স্টিক তৈরি বাবদ ৫০ থেকে ৭০ টাকা দেয়া হয় তাদের। তিনি বলেন, প্রথম দিকে বিদেশে বাংলাদেশের চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিমাসে ৮-১০ লাখ স্কয়ার স্টিক সরবরাহ করেছি। আগের তুলনায় বর্তমানে চিংড়ি রফতানি কমে গেলেও এখনো প্রতি মাসে কমপক্ষে চার-পাঁচ লাখ স্কয়ার স্টিক সরবরাহ করছি। প্রতি হাজার মূল্য হিসেবে মাছ কোম্পানি থেকে দেয়া হয় ৬০০ টাকা। মার্চ থেকে নভেম্বর পর্যন্ত স্টিকের চাহিদা বেশি থাকে। দেশের কোম্পানিগুলোর পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও থাইল্যান্ডের মাছ কোম্পানিগুলোতেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
স্কয়ার স্টিক বা বাম্বু স্টিক তৈরি সম্পর্কে নারী উদ্যোক্তা মনিরা সুলতানা আরো বলেন, প্রথমে বিভিন্ন এলাকা থেকে পাকা তল্লা বাঁশ কিনে এনে পুকুরের পানিতে জাগ দিয়ে রাখতে হয়। এরপর পানি থেকে তা তুলে সাইজ অনুযায়ী খণ্ড খণ্ড করে কেটে আমি নিজেই চটা তুলে তা অন্যান্য নারীদের কাছে দিয়ে দেই; যা দিয়ে তারা এই স্কয়ার স্টিক তৈরি করেন। এরপর এটি রোদে শুকিয়ে প্যাকেটজাত করে সরবরাহ করা হয়।
