সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার প্রতিনিধি
গত দুই দিনের টানা বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে পাহাড় ধসের আতঙ্ক। গত বুধবার রাতে কুতুপালং ডাবল ‘ও’ ক্যাম্পের ময়নার ঘোনায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়লেও কোনো ক্ষতি হয়নি।
জানা যায়, উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি ক্যাম্পে অস্থায়ীভাবে বাস করছে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। এদের বেশিরভাগই পাহাড়ের টিলায় ঝুপড়ি ঘরে বাস করছে। গত দুই দিনের টানা বর্ষণে উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়ে বাঁশ ও পলিথিনে তৈরি অনেক ঝুপড়ি ঘর বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কুতুপালংয়ের ডাবল ‘ও’ ব্লকের রোহিঙ্গা নেতা সালামত খান জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাস রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। বেশিরভাগ ত্রিপলের চাল থেকে বৃষ্টির পানি পড়ছে। শত শত পরিবার দুর্ভোগে পড়েছে। বাতাসে অনেক পরিবারের ঘরের ছাউনি উড়ে গেছে। ময়নার ঘোনা এলাকায় পাহাড় ধসের ঘটনায় এখানকার বাসিন্দারা অন্যত্র সরে গেছেন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান জানান, আগামী এক সপ্তাহে হালকা থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার কথা থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা নেই।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী ও টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে।
কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ভারী বর্ষণে দুর্ঘটনা এড়াতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ বসতির রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
