আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
রাণীনগরের আট ইউনিয়ন পরিষদে কয়েক বছর আগে দেওয়া হয় আটটি গরিবের অ্যাম্বুলেন্স। কিন্তু কিছুদিন ব্যবহারের পর আটটি অ্যাম্বুলেন্সই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে করে গ্রামীণ জনপদের অবহেলিত লাখ লাখ গরিব অসহায় মানুষ সরকারের এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদের মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি) প্রকল্প-২ এর আওতায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আটটি গরিবের অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিশেষভাবে তৈরি ব্যাটারিচালিত এসব অ্যাম্বুলেন্স আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় পরিষদগুলোতে।
কাশিমপুর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের দিনমজুর মোবারক হোসেন বলেন, আগে আমি পরিবারের কেউ অসুস্থ গলে এই অ্যাম্বুলেন্সে করে কম খরচে সহজেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতাম। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি এই অ্যাম্বুলেন্সটি আর চলছে না। গ্রামের গরিব-অসহায় মানুষ অনেক কষ্ট করে তাদের পরিবারের অসুস্থ সদস্যদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু এই অ্যাম্বুলেন্স ছিল আমাদের হাতের নাগালে। দিন কিংবা মধ্যরাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যখন রোগী নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতো তখনই আমরা ঘরের দুয়ারে পেয়েছি গরিবের অ্যাম্বুলেন্সটি। কিন্তু এখন আর সেই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলার একডালা ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম, কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোকলেছুর রহমান বাবু, মিরাট ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামসহ অন্য ইউপি চেয়ারম্যানরা বলেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ব্যাটারি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দ কিংবা ফান্ড দেওয়া হয়নি। তাই মেরামত করে চালু করা যাচ্ছে না। তবে অ্যামু্বলেন্সগুলো সচল করা প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় জরুরি অবস্থায় গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক গরিব-অসহায় মানুষ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছার আগেই রাস্তার মধ্যেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তাই সরকারের দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সগুলো মেরামতের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
