অবৈধভাবে পুকুর খনন করতে গিয়ে আগুনে পুড়ল দুর্বৃত্তের খননযন্ত্র

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ২১:১০

অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজে ব্যবহৃত একটি খননযন্ত্রে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১১টার দিকে নাটোর সদর উপজেলার পাইকেরদোল গ্রামে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে খননযন্ত্র পুড়ে বিকল হয়ে যায়।  

স্থানীয়রা জানান, প্রায় সপ্তাহ খানেক ধরে রাতের আঁধারে পাইকেরদোল বিলে অবৈধভাবে পুকুর খনন কাজ চলচিল। পাইকেরদোল গ্রামের একরামুল ইসলামের জমিতে পুকুর খনন হলে বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা রয়েছে। একারণে পুকুর খনন বন্ধে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। কিন্তু প্রভাবশালীরা বাধা উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে খনন কাজ অব্যাহত রেখেছিলেন। 

সবশেষ বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে কয়েকটি মোটরসাইকেল যোগে দুর্বৃত্তরা এসে পাইকেরদোল গ্রামের একরামুল ইসলামের জমিতে খননকাজে ব্যবহৃত খননযন্ত্রে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে পুড়ে খননযন্ত্রটি বিকল হয়ে যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, একরামুল ইসলামের যে জমিটিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। সেখানে পুকুর হলে বিলের অন্তত এক হাজার একর জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। পুকুর খননের বিষয়ে গ্রামের লোকজন বার বার আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু পুকুর খননের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীরা তা কর্নপাত করেননি।

জমির মালিক একরামুল ইসলাম বলেন, পুকুর খননের জন্য তিনি কোনো অনুমতি নেননি। ওই জমিতে ফসল না হওয়ায় পুকুর খনন শুরু করেছিলেন। বুধবার রাতে তার পুকুর খননের জমিতে দুর্বৃত্তরা আচমকা আসে। কিছু বুঝে উঠার আগেই খননযন্ত্রে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়। আগুনে যন্ত্রটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনের বিষয়ে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

নাটোর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু রায়হান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ যাওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে যান। একারণে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাটোর জেলার সবচেয়ে বেশি পুকুর খনন চলছে গুরুদাসপুর উপজেলায়। সংসদ সদস্য সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী দফায় দফায় নির্দেশ দেওয়া সত্তেও পুকুর খনন বন্ধ হচ্ছে না। পৌর শহরের ভেতর বিরামহীনভাবে মাটিবাহী যান চললেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এখানকার কৃষি অফিসের তথ্যমতে, গত প্রায় ১৩ বছরে কৃষকের ১ হাজার ৫১০ হেক্টর ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে।

ইত্তেফাক/পিও