সিলেট অঞ্চলে নদীভাঙন ১২৯ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৬

হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস

হঠাত্ বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বৃহত্তর সিলেটের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, ধলাই, সোনাই, কারাঙ্গি নদীর পানি বেড়ে বিভিন্ন জনপদ প্লাবিত করে। বিভিন্ন স্থানে নদী ভাঙনে বাড়িঘর, জমি, ব্যবসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, সড়ক নদীগর্ভে চলে গেছে। সিলেটে ৫৬, হবিগঞ্জে ২৮, মৌলভীবাজারে ৪৫টি পয়েন্টসহ মোট ১২৯টি পয়েন্ট এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।

সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকার এলজিইডির বড়ছড়া সড়কের একটি অংশসহ আরো কয়েকটি সড়ক পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুনা সিন্দু চৌধুরী বাবুল। এদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী নিজামুল হক ভূইয়া ইত্তেফাককে জানান, তারা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন স্থানের মোট ২১ কিলোমিটার নদী ভাঙন ও সংস্কার কাজে জরুরিভিত্তিতে ২২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ভাঙন কবলিত এলাকায় চলমান প্রকল্পের কাজও জোরদার করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের প্রতাপপুর, বিষ্ণুপুর, মার্কুলী, টুকচানপুর, ফয়জুল্লাহপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের অনেক ঘরবাড়ি কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে নদী আরো ৫০ ফুট ভেঙে হুমকিতে পড়েছে এলাকার ৩০০ পরিবার, নোয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও প্রতাপপুর বাজার। গত ২৭ জুন থেকে তিন দিনের প্রবল বর্ষণ ও ঢলে নতুন করে ভাঙন দেখা দেয়। এতে পাঁচটি গ্রামের কয়েক শত বাড়ি-ঘর, বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, কবরস্থান, মন্দিরসহ প্রায় ৮০ একর কৃষি জমি বিলীন হয়। প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা রান্টু লাল দাস বলেন, ‘এভাবে ভাঙতে থাকলে আমরা কোথায় আশ্রয় নেব।’ শাল্লার ইউএনও মো. আল-মুক্তাদির হোসেন জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, কুশিয়ারার ডান তীরের ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ আরো জোরদার করা হয়েছে। প্রতাপপুর ও ফয়জুল্লাপুর গ্রামের ভাঙন রোধে নতুন করে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে, দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদসহ আশপাশের অংশের ভাঙন ঠেকাতে তিন কোটি টাকার নদী সংরক্ষণ প্রকল্পের একাংশের কাজ সঠিকভাবে না হওয়ার অভিযোগ এনে স্থানীয়রা বলেন, সাতটি দোকান, একটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ ভবনসহ উপজেলা সদর, সুরমা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড এক কোটি ৪৭ লাখ টাকায় ২৩০ মিটার এবং এক কোটি ৫৭ লাখ টাকায় ২৫০ মিটার নদী সংরক্ষণ কাজ গত জানুয়ারিতে কাজ শেষ করার কথা। কিন্তু গত ২৮ জুন শুক্রবার ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে ফজলুল করিমসহ বেশ কয়েকজনের দোকান ও আব্দুর রশিদের বাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। ফয়জুল করিম জানান, পানি যখন কম ছিল তখন নিচের অংশে কিছু কাজ হয়। কিন্তু উপরের অংশে কাজ হয়নি। পাউবোর একজন কর্মকর্তা জানান, নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের সময় ভাঙনের উপরের অংশের দোকানগুলো সরিয়ে নিতে বলা হলেও দোকানিরা তা মানেননি। তাই প্রস্তুতকৃত বস্তা বিছানো যায়নি।

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নে মনু নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কাউকাপন বাজারের একাংশ। গত জুন মাসের শেষে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ১০টি আধা-পাকা দোকান বিলীন হয়েছে। ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মখলিছ মিয়া জানান, অব্যাহত ভাঙনে কুণিমোড়া-তারাপাশা পাকা সড়কটিও হুমকির মুখে। বছর বছর মনু নদী ভেঙে এখন বাজারের কাছাকাছি এসেছে।

পাউবোর মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, জেলা সদর, রাজনগর ও কুলাউড়ার প্রায় ৬৭টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ভাঙনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।