সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

বাজারে দাম চড়ছে

রাজশাহীতে হিমাগারে রাখা হচ্ছে ভারতীয় আলু

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫১

ভারত থেকে আমদানি করা আলু রাজশাহীর হিমাগারে মজুত করা হচ্ছে! বস্তা পরিবর্তন করে দেশি আলুর সঙ্গে ভারতীয় আলু হিমাগারে রাখা হচ্ছে। হিমাগারের মজুতের চাহিদা পূরণে এ কাজ করা হচ্ছে। এদিকে রাজশাহীর বাজারে আলুর দাম বেড়েই চলেছে। মহানগরীর সবচেয়ে বড় কাঁচা বাজার সাহেববাজারে লাল রঙের আলুর কেজি ৬০ টাকায় উঠেছে। কয়েক দিন আগেও এই আলুর কেজি ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় সূত্র জানায়, এবার রাজশাহীতে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর চাষাবাদ হয়েছে। গত বছর হয়েছিল ৩৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। গত বছর রাজশাহীতে আলু উত্পাদিত হয়েছিল ১০ লাখ টন। এবার আলু উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯ লাখ টন। কিন্তু আলুর উত্পাদন হওয়ায় রাজশাহীর বেশ কিছু হিমাগারের চার ভাগের এক ভাগ ক্যাপাসিটি (সংরক্ষণের সক্ষমতা) খালি রয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা আলু দিয়ে সেই ক্যাপাসিটি পূরণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি পবা উপজেলার বায়া এলাকার হিমালয় হিমাগারে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগারের সামনে শেডের সবটা জুড়ে প্লাস্টিকের লাল বস্তায় ভরা ভারতীয় আলু। আলুর বস্তার গায়ে লাগানো লেবেলে ভারতের বর্ধমানের ঠিকানা লেখা রয়েছে। আকারে বড় ঘিয়ে রঙের এই আলু শ্রমিককরা ভারতীয় বস্তা থেকে দেশীয় পাটের বস্তায় ভরছেন। এরপর সেগুলো হিমাগারের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এদিকে আমদানি করা ভারতীয় আলুর বস্তা পরিবর্তনের কাজ তদারক করছিলেন হিমাগারের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশিদ। আমদানি করা ভারতীয় আলু মজুতের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাজশাহীতে এবার আলুর উত্পাদন কম হয়েছে। অক্টোবরের শেষের বৃষ্টির কারণে আলু ছোট হয়েছিল। তাদের হিমাগারের এক-চতুর্থাংশ খালি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমদানিকারকরা ভারত থেকে আলু আমদানি করছেন। সেখান থেকে তারা সামান্য কিছু আলু পেয়েছেন। সেটাই হিমাগারে রাখছেন। তার জানা মতে, জেলার আরো দুইটি হিমাগার ভারতীয় আলু এনে রাখছে।

ভারত থেকে আমদানি করা আলু হিমাগারে মজুতের কথায় তানোরের এক আলুচাষি জানান, রাজশাহীর আলুর মান অত্যন্ত ভালো। সারা দেশে এই আলুর বিশেষ চাহিদা রয়েছে। এখন হিমাগারের মালিকরা তাদের হিমাগার খালি রাখতে চাইছেন না। তারা অপেক্ষাকৃত নিম্নমানের ভারতীয় আলু এনে হিমাগার ভরে রাখছেন। পরে যখন দাম আরো বাড়বে, তখন দেশি আলুর সঙ্গে ভারতীয় আলু মিশিয়ে বিক্রি করবে। এতে রাজশাহীর আলু সম্পর্কে ভোক্তারা বিভ্রান্ত এবং আলুচাষির পরিবর্তে ব্যবসায়ীরা বেশি লাভবান হবেন। তারা ভারত থেকে কম দামে আমদানি করে বেশি দামে বিক্রি করবেন।’ কিন্তু সরকার তো হিমাগারে রাখার জন্য আলু আমদানির অনুমতি দেয়নি।

তবে আমদানি করা আলু রাজশাহী হিমাগারে সংরক্ষণের তথ্য রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে নেই। দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা উম্মে সালমা জানান, আমদানির আলু হিমাগারে সংরক্ষণের খবর আমাদের কাছে নেই। এই প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য আমদানি করা আলু মজুত করা যাবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এ ব্যাপারে রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কল্যাণ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বলেন, ভারত থেকে এখন আলু আমদানি ও সংরক্ষণের কথা তার জানা নেই।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) রাজশাহী জেলার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আমদানির উদ্দেশ্যই হচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা। দাম বেশি হওয়ার কারণেই হয়তো সরকার এই সময়ে আলু আমদানির অনুমতি দিয়েছে। এই আলু সরাসরি বাজারে আসার কথা। যাতে দাম নিয়ন্ত্রণে থাকে। এ অবস্থায় কিছুতেই এই আলু মজুত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মজুতদারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার।’

ইত্তেফাক/এএইচপি