কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হকার, দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনায় কার্ড বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সৈকত দেখভালের দায়িত্ব ‘সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি’র হলেও এ কমিটি সৈকতের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির পরিবর্তে ভাসমান দোকান বসানোতে অধিক আগ্রহী বলে অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। তবে হকারদের জন্য বলা হলেও প্রকৃত হকাররা এখানে দোকান বা অন্য কোনো ব্যবসার লাইসেন্স পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্যদের নামে-বেনামে ৩১টি দোকান বরাদ্দ রয়েছে। এসব দোকান চালাচ্ছেন সৈকতের ব্যবসায়ী সমিতির জনৈক নেতা। কিন্তু যাদের নামে দোকান বরাদ্দ রয়েছে তাদের অনেকেই দোকান বরাদ্দের কোনো সুবিধা পান না বলে জানা গেছে। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার প্রয়াত রমজান আলী বাহাদুরের ছেলে তৌহিদুর রহমানের নামে ১০ বছর ধরে দোকান বরাদ্দ থাকলেও তিনি এসব বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
বিচের ব্যবসায়ীরা জানান, সুগন্ধা পয়েন্টে অন্তত ২০টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে মাস তিনেক আগে। কিটকট ব্যবসার জন্য ৩০টির বেশি কার্ডও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে একই সময়ে। সেগুলোর দেখাশোনা করেন সৈকতে স্টুডিও মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন আইচ। যোগাযোগ করা হলে কাঞ্চন আইচ বলেন, জহির আলমের নামে ছয়টি দোকান রয়েছে। সিগাল পয়েন্টে রয়েছে ৩০টি কিটকট। সেগুলোর দেখাশোনা করি আমি। এ ব্যাপারে সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নইমুল হক চৌধুরী টুটুল বলেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির অনেক সদস্য দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন। কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মতেই সবকিছু হয়েছে।
এ ব্যাপারে মো. শাহাজান বলেন, তত্কালীন জেলা প্রশাসক গিয়াস উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান করে বেশ কিছু কার্ড বরাদ্দ দেন। ওখানে জোর করে আমার ছেলের নামেও একটি দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। সূত্র জানায়, অনেক হকার ২০১০ সালে অস্থায়ী দোকান করার অনুমতি পেয়েও প্রভাবশালীদের সাথে সমঝোতা না থাকায় দোকান বসাতে না পারছেন না।
জেলা প্রশাসনের পর্যটন ও প্রটোকল শাখা সূত্র জানায়, সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে অনুমোদিত ঝিনুকের দোকান রয়েছে ২৬৪টি, খাবারের দোকান রয়েছে ৯৮টি। লাবনী পয়েন্টে ঝিনুকের দোকান রয়েছে ২০২টি, খাবারের দোকান রয়েছে ৪৯টি। সৈকতে ২৩৯টি স্টুডিওর নামে দুটি করে মোট ৪৭৮টি ফটোগ্রাফার কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ ফটোগ্রাফারের কার্ড ইস্যু করা হয়েছে ১৮০টি। সুগন্ধা পয়েন্টে ৫৪টি বিচ বাইক ও ২৫টি জেট-স্কি কার্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কিটকট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে প্রায় দেড় হাজার।
অভিযোগের ভিত্তিতে গত ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সুগন্ধা পয়েন্টে অবৈধ কিছু দোকান উচ্ছেদ করে জেলা প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহজাহান আলীকে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক।
সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, সৈকতে হকার, দোকান ও অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনায় কার্ড বরাদ্দ নিয়ে কিছু অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
