নানা সমস্যায় জর্জরিত খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ২১:৫৭

এনামুল হক, খুলনা অফিস

খুলনা সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র এই সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালটিতে নেই কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী। নেই রাতের প্রহরী, প্রয়োজনী শয্যা ও চারপাশের নিরাপত্তা প্রাচীর। এই হাসপাতালে বাধ্য হয়ে ছাড়া কেউ চিকিত্সা নিতে আসতে চান না। ফলে এ হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।

সরেজমিনে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে দেখা গেছে, ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছোট গামলায় রোগীর বমি উপচেপড়ে মেঝেতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ওয়ার্ডটি ময়লা আবর্জনায় ভরা। ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। দরজা-জানালার অবস্থাও রুগ্ন। বাথরুম অপরিচ্ছন্ন। উত্কট গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে রোগীদের সুস্থ হওয়ার চেয়ে আরো অসুস্থ হওয়ার অবস্থা।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের সংক্রামক রোগের চিকিত্সার জন্য ১৯৬৮ সালে খুলনা মহানগরীর মীরেরডাঙ্গায় ভৈরব নদীর পাশে ২০ শয্যার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়। হাসপাতালে ডায়রিয়া, টিটেনাস, নিওমেটাল টিটেনাস, জলবসন্ত, হাম, জলাতঙ্কসহ সংক্রামক ব্যাধির চিকিত্সা হয়।

ফাতেমা আক্তার (৮) ডায়ারিয়া আক্রান্ত হলে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নগরীর দক্ষিণ টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফাতেমার বাবা মো. রহিম আহমেদ জানান, তার মেয়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে, সেই সঙ্গে বমিও করে। কোনো উপায় না দেখে মেয়েকে এই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংখ্যা খুব কম। একজনকে মেঝেতে ঝাড়ু দিতে দেখেছি। কিন্তু তারপর আর দেখা মেলেনি। সবসময় কেমন যেন একটা উত্কট গন্ধ  বের হয়।

যশোর থেকে চিকিত্সা নিতে আসা রোগী ফাতেমা খাতুন জানান, এখানে শষ্যা সংখ্যা খুব কম। তাই বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। আরো কয়েকদিন থাকতে হবে। এখানে রাতে খুব ভয় করে। নেই হাসপাতালের বাউন্ডারি ওয়াল ও নৈশ প্রহরী।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত মেডিক্যাল কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, এ সময় মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। তবে হাসপাতালে ওষুধের কোনো সংকট নেই। সরকারিভাবে কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী পাওয়া যায়নি। ফলে চুক্তিভিত্তিক দুজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে নেওয়া হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, যাতে রোগীরা ভালোভাবে চিকিত্সা সেবা পায়।

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দুজন পরিছন্নতা কর্মী নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালটির শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধিসহ অন্য সমস্যা সমাধানের জন্য চেষ্টা চলছে।ধীধধ