মাদারীপুরে সরকারি প্রাথমিক সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তার আসামির নাম রনি বিশ্বাস (২২)। মঙ্গলবার সকালে রাজৈর উপজেলার হোসেনপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম জানান, গত ২৯ মার্চ মাদারীপুর জেলায় সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৮টি কেন্দ্রে একযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় অর্থের বিনিময়ে ছোট মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও উত্তরপত্র সরবরাহ করে একটি চক্র। পরীক্ষা চলাকালীন বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আটক করা হয় ৮ জন পরীক্ষার্থীকে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ইলেকট্রিক ডিভাইস ও একাধিক মুঠোফোন।
পরে এই ঘটনায় সদর উপজেলার প্রাথমিক অফিসের উচ্চমান সহকারি রেজাউল করিম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় ১০ জন এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জনের কথা উল্লেখ করা হয়।
পরে মামলা তদন্ত শুরু করে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে গ্রেপ্তার ৮ জনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের অন্যতম সদস্য রনি বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রশিদসহ সঙ্গীয় ফোর্স।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত রনি বিশ্বাস। পরে মঙ্গলবার বিকেলে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার সূত্র জানায়, পরীক্ষাচলাকালীন সময়ে কুলপদ্বী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ইলেকট্টিক ডিভাইসসহ শিবচর উপজেলার পশ্চিম নিলখী গ্রামের হাবিবুর রহমান মাতুব্বরের ছেলে নোমান আহম্মেদ (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যমতে মাদারীপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে রাজৈর উপজেলার চৌরাশী গ্রামের আশুতোষ রায়ের ছেলে সঞ্জয় রায়কে (৩২) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
একইভাবে ডিভাইস, মুঠোফোনসহ আলহাজ্জ্ব আমিনউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে শিবচরের ইয়াসিন হাজিরকান্দি গ্রামের সরোয়ার মিয়ার মেয়ে সাথী আক্তার (৩০), রাজৈরের উল্লাবাড়ি গ্রামের পবিত্র মন্ডলের স্ত্রী তৃষ্ণ বালা (২৯), সামচুন্নাহার ভুইয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে কদমবাড়ি গ্রামের বিজয় কুমার বাড়ৈর মেয়ে মুক্তি বাড়ৈ (২৬), জুলিওকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে রাজৈরের আমগ্রামের বুদ্ধিমত্ত হালাদারের মেয়ে দুর্গা হাওলাদার (৩২), রাজৈরের নয়াকান্দি গ্রামের নির্মণ কুমার বৈদ্যের মেয়ে নিপা বৈদ্য (২৭), আমগ্রাম এলাকার সাধন কীত্তর্নীয়ার মেয়ে শিখা কীত্তর্নীয়া (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম বলেন, ‘৮ থেকে ১০ লাখ টাকায় পরীক্ষার্থীরা এই চক্রের সঙ্গে চুক্তি করে। চক্রের সদস্যরা পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র উত্তরসহ দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা আদায় করে। পরে চক্রটি মুঠোফোনে অভিনব কায়দায় খুদে বার্তার মাধ্যমে উত্তরপত্র সরবার করে। এ ছাড়াও বিভিন্ন প্রার্থীকে আগে থেকে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। চক্রটির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এই চক্রের সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। পুলিশ এ ঘটনায় গভীরভাবে তদন্ত করছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অপরাধ চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
