মুখের মতো জ্বলল না ব্যাট

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ২২:১০

স্পোর্টস রিপোর্টার

বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচটায় যখন ব্যাট করতে নামছেন, তখনো তাঁর সামনে কয়েকটা রেকর্ডের হাতছানি। ১৮ রান করলেই ব্রায়ান লারাকে টপকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক হয়ে যেতেন। ৪৭ রান করতে পারলে ঐ লারাকে টপকেই বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতেন। কিন্তু কোনোটাই হলো না।

আরো একবার নিষ্প্রভভাবে ফিরে এলেন ড্রেসিংরুমে। সাতটি মাত্র রান করে আউট হলেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ ইনিংসে। আরো একবার নিজের কথাগুলো নিজেকেই হজম করতে হলো ক্রিস গেইলকে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিচারে তো বটেই, আধুনিক ক্রিকেটের বিচারেও গেইল একজন গ্রেট। জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট যত দিন খেলেছেন, সেখানেও নিজের ছাপ রেখে এসেছেন—দুটো ট্রিপল সেঞ্চুরি আছে। এরপর সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আস্তে আস্তে ছাপিয়ে গেছেন নিজের দেশের রথি মহরথিদের। ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট চালু হওয়ার পর হয়ে উঠেছিলেন বিভিন্ন লিগের সেরা আকর্ষণ। কিন্তু এই গেইলই গত কিছু দিন ধরে কথার চেয়ে বেশি কিছু করতে পারছিলেন না।

নিজেকে ‘ইউনিভার্স বস’ বা ‘গ্রেটেস্ট এভার’ বলা এসব পুরোনো ব্যাপার। এবার বিশ্বকাপের আগে বলতে শুরু করেছিলেন, তাকে দেখলে সব বোলাররা ভয় পায়। ক্যামেরার সামনে না হলেও পেছনে তাকে ভয় পাওয়ার কথা বোলাররা স্বীকার করে, এমন দাবি ছিল তার। কিন্তু কাজের বেলায় সেটা করে দেখাতে পারলেন না।

এবার বিশ্বকাপে আট ম্যাচে করতে পেরেছেন মাত্র ২৪২ রান। এর মধ্যে দুইবার মাত্র পঞ্চাশ পার করতে পেরেছেন। সেই দুটো ইনিংসেও ছিল না গেইলসুলভ কোনো ঝলকানি। ফলে বিশ্বকাপ জুড়ে ফ্লপ এক তারকা হয়ে রইলেন গেইল।

কথা ছিল, এই বিশ্বকাপ দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাবেন তিনি। কিন্তু সেই কথা থেকেও সরে এসেছেন। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন। সেখানে বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে সিরিজটা অন্তত খেলতে চান। তারপর ভেবে দেখবেন, কী করবেন, ‘আমি এই সিদ্ধান্তটা বদল করেছি। ভারতের বিপক্ষে সিরিজটা খেলতে চাই। সিদ্ধান্ত বদলানোর পর হোল্ডার আমার কাছে এসেছিল। সে বলেছে, আমাকে দলের আরো দরকার আছে। আমিও মনে করি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটকে আমার আরো দেওয়ার আছে।’

এখন এটাও শেষ পর্যন্ত কথার কথা হয়ে যায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।