সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আওয়ামী লীগ নেতাকে চিকিৎসা দিতে দেরি হওয়ায় ডাক্তারকে বেদম পিটুনি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৪, ১৪:০৩

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত আওয়ামী লীগ নেতাকে চিকিৎসা দিতে ‘দেরির’ অভিযোগ তুলে একটি হাসপাতালে ঢুকে চিকিৎসককে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। দলটির উপজেলা কমিটির এক নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের কর্মকর্তারা।

বুধবার (১০ এপ্রিল) রাতে পটিয়া পৌরসভায় বেসরকারি ‘পটিয়া জেনারেল হসপিটাল লিমিটেড’-এ ঘটনা ঘটে। যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

আক্রান্ত ডা. রক্তিম দাশ (২৯) ঘটনার সময় পটিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনায় নেতৃত্বদাতা হিসেবে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ছৈয়দ পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি দক্ষিণ ভূর্ষি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, বুধবার রাতে পৌরসভার ইন্দ্রপোল এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হন সাইফুল্লাহ পলাশ নামে এক ব্যক্তি। তিনি পটিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। খবর পেয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে নিয়ে পটিয়া জেনারেল হাসপাতালে যান।

ডা. রক্তিম দাশ তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেলাইয়ের জন্য অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে সাইফুল্লাহ পলাশকে ওটিতে অপেক্ষমাণ রেখে রক্তিম কাছকাছি সময়ে হাসপাতালে আসা আরও চার রোগিকে চিকিৎসা দেন। এদের মধ্যে দু’জন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ও একজন বিষাক্ত হারপিক পানে অসুস্থ হয়ে আসা রোগী ছিলেন। এ ছাড়া, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত এক শিশুও ছিল।

রক্তিম বলেন, ‘ওটিতে বাইক দুর্ঘটনায় আহত রোগিকে রেখে আমি কেন বাকি চার রোগি দেখলাম, সেটা নিয়ে প্রায় ৩০ জন লোক আমার রুমে ঢুকে তুলকালাম শুরু করে দেয়। অশ্রাব্য ভাষায় প্রথমে আমাকে গালিগালাজ করে। এরপর কয়েকজন মিলে আমাকে সমানে কিলঘুষি মারতে থাকে। আমি মাথায় মারাত্মক আঘাত পাই। এর পর সঙ্গে সঙ্গেই আমি বমি করে দিই। পরে আমাকে গালিগালাজ করতে করতে তারা রোগি নিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে যায়।’

ভিডিও থেকে ছবি নেওয়া

উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সৈয়দ জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত সাইফুল্লাহ পলাশ পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।  গুরুতর আহত অবস্থায় আমরা উনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। ঈদের ছুটির কারণে হাসপাতালে ডাক্তার ছিল কম। পলাশকে জখমের স্থানে সেলাই দিতে হবে বলে ওটিতে ঢোকানো হয়। আমরা বাইরে অপেক্ষা করতে থাকি।

আমরা ভেবেছিলাম, ভেতরে সেলাই চলছে। কিন্তু ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট অপেক্ষা করার পর দেখি ডাক্তার নিজের কক্ষে বসে আছেন, ওটিতে যাননি। ডাক্তার তার চিকিৎসা না করে রুমে বসে আছেন দেখে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। তখন ডাক্তার বলেন যে, তাকে শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সেটা যদি আগে বলতো, তাহলে সমস্যা হতো না। কিন্তু ডাক্তারের কথা শুনে সবার মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।  মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।

পটিয়া থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানান, দায়ের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অভিযোগে ৫ জনকে এজাহারনামীয় ও ১০ জনেক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্তলাল সেনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ওই হাসপাতালে যান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াছ চৌধুরী। তিনি মারধরের শিকার চিকিৎসকসহ হাসপাতালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ওই হাসপাতালের কয়েকজন সিরিয়াস রোগি দেখে ডাক্তারের ওটিতে যেতে ১০ মিনিটের মতো লেগেছিল। তাতেই একজন পলিটিক্যাল লিডারের নেতৃত্বে ডাক্তারকে মারধর করা হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্যার প্রতিবেদন চেয়েছেন। আমি লিখিত প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেব।’  

 

ইত্তেফাক/এনএ