স্পোর্টস রিপোর্টার
আফগানিস্তান দলটাকে নিয়ে বিশ্বকাপের আগে বেশ হাইপ ছিল। তারা অন্তত দুই তিনটি দলকে হারিয়ে দেবে, কিছু অঘটন জন্ম দেবে; এগুলো আলোচনায় ছিল। কিন্তু শেষ বিচারে সব আলোচনা একেবারে অন্তঃসারশূন্য বলে প্রমাণ হয়েছে। নয় ম্যাচের সবগুলোতে হেরে তবে বাড়ি ফিরছে আফগানিস্তান।
নিজের দলের ব্যর্থতা মাথা পেতেই মেনে নিয়েছেন আফগানিস্তানের অধিনায়ক গুলাবদিন নাইব। তবে এটা জোর গলায় বলেছেন যে, আফগানিস্তানের ক্রিকেট এখান থেকে আরো সামনে এগোবে। এক বিশ্বকাপের হতাশাজনক পারফরম্যান্সেই তাদের ক্রিকেট শেষ হয়ে গেছে, এমনটা মনে করেন না এই আফগান দলপতি।
নিজেদের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করতে গিয়ে নাইব বলছিলেন, এই সময়ে তারা অনেক শিক্ষা অর্জন করেছেন। ক্রিকেটে এমন পরাজয় ঘটেই বলে জানান, ‘আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেক কিছু অর্জন করতে পেরেছি। এটাই ক্রিকেট। ক্রিকেটে এমনটা ঘটেই থাকে। বিশ্বকাপেই আমাদের ক্রিকেট শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আমি আশা করছি, আফগানিস্তান আগামী বিশ্বকাপও খেলবে। সামনের দুই তিন বছরে আফগানিস্তান সেরা পাঁচ-ছয়ে চলে আসবে। ফলে আমরা এখন সামনের দিকে তাকাচ্ছি। তবে আমাদের অনেক কিছু শিখতে হবে। এখান থেকে ইতিবাচক ব্যাপারগুলো গ্রহণ করতে হবে। আমরা এখানে অনেক ভুল করেছি। আমাদের সেগুলো থেকে শিখতে হবে।’
নিজেদের পারফরম্যান্স যে বিশ্বকাপে হতাশাজনক ছিল, তাতে দ্বিমত করার কোনো কারণ দেখছেন না নাইব। তিনি নিজেদের বিশ্বকাপ মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলছিলেন, ‘প্রথম তিন ম্যাচে আমরা সত্যিই খারাপ খেলেছি। এটা আমি মেনে নিচ্ছি। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সত্যিই খারাপ খেলেছি। হ্যাঁ, আমরা পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো কিছু দলকে লক্ষ্য করেছিলাম। আমরা ভারতের বিপক্ষে খুব ভালো খেলেছি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও ভালো খেলেছি। তবে আমি সবমিলিয়ে আমাদের দলীয় পারফরম্যান্সে মোটেও খুশি নই।’
বিশ্বকাপের এই পারফরম্যান্সকে পেছনে ফেলে উন্নতি করতে গেলে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের চেয়েও ফিটনেসে বেশি উন্নতি করতে হবে বলে মনে করেন আফগান অধিনায়ক। তিনি দর্শকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলছিলেন, ‘আমাদের দলে এখন ফিটনেস বড় একটা সমস্যা। আপনি যদি আসলে ফিট না হন, তাহলে কোনো কিছুই আপনার পক্ষে থাকবে না। আমাদের ক্রিকেটের মানই বাড়াতে হবে। আমাদের স্কিল বাড়াতে হবে। আমাদের প্রতিটা বিভাগেই অনেক উন্নতি করতে হবে। আফগানিস্তানের দর্শকরা যেমন চায়, আমরা সেভাবে প্রতিটা ম্যাচে শতভাগ দিতে পারিনি। ফলে আমি আমাদের ভক্তদের কাছে, দেশের কাছে ও সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
এর মধ্যেই ছোটোবড়ো কিছু প্রাপ্তি আছে আফগানিস্তানের। শেষ ম্যাচে যেমন ১৮ বছর বয়সী ইকরাম আলিখিল ৮০ রানের একটা ইনিংস খেলেছেন। এই তরুণের প্রশংসা করে নাইব বলছিলেন, ‘হ্যাঁ, সে অসাধারণ একটা ইনিংস খেলেছে। কিন্তু সে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার সুযোগ মিসও করেছে। এটা তার জন্য অনেক বড় একটা অর্জন হতো। সে গত দুই তিন বছর ধরে দেশে অনেক ক্রিকেট খেলছে। সে ভালো ক্রিকেট খেলছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলে এসেছে। এ জন্যই সে সুযোগ পেয়েছে।’
