রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সংগীত-নৃত্য-আবৃত্তিতে রবীন্দ্রনাথ ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে স্মরণ

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ২২:১০

সংগীত-নৃত্য-আবৃত্তির মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ল্যাতিন আমেরিকান কালজয়ী লেখক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে। এবছর দুই কিংবদন্তির স্বাক্ষাতের শতবর্ষ।

১৯২৪ সালে পেরুর স্বাধীনতা সংগ্রামের শত বছরের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জাহাজে উঠলেও মাঝপথে অসুস্থ হয়ে আর্জেন্টিনায় অবস্থান করেন কবি । সেখানেই ওকাম্পোর সাথে পরিচয় হয় রবি ঠাকুরের। দু’জনের জীবনস্মৃতিতে, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র আদান-প্রদানে আর ভিক্টোরিয়াকে রবীন্দ্রনাথের ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করার মতো বহু ঘটনাবহুল আখ্যানকে ঘিরে। দু’জনের এই মধুর এ আখ্যানকে ঢাকার সাহিত্য ও সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে তুলে ধরলো ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)।

সংগীত-নৃত্য পরিবেশন করছেন শিল্পী ড. অনন্ত গুপ্ত এবং তাঁর সহশিল্পীরা। ছবি: ইত্তেফাক

সোমবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট মিলনায়তনে ‘TAGORE AND VICTORIA OCAMPO - VIJAYA the victorious-100 years on’ শীর্ষক সংগীত-নৃত্য-আবৃত্তিতে সেই অবিস্মরণীয় আখ্যানকেই ফুটিয়ে তুললেন যুক্তরাজ্য থেকে আগত বিশিষ্ট রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞ ও শিল্পী ড. অনন্ত গুপ্ত এবং তাঁর সহশিল্পীরা।

স্বাগত বক্তব্যে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি) এর পরিচালক ড. মৃন্ময় চক্রবর্তী আয়োজনের পরিপ্রেক্ষিত তুলে ধরেন। ঢাকায় নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারসেলো সি. চেসার লাতিন আমেরিকার জনগণের হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে তাকে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সেতুবন্ধন রচনকারী মহান লেখক হিসেবে বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনায় অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথ রচিত বিভিন্ন কালজয়ী সংগীত নৃত্যসহযোগে পরিবেশন করেন শিল্পীরা। একইসঙ্গে সেইসব গানের প্রেক্ষিত তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ১৯২৪ সালে পেরু সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির স্বাধীনতা সংগ্রামের শতবর্ষ উদযাপনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে তেষট্টি বছর বয়সী রবীন্দ্রনাথ সমুদ্রপথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময় তিনি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে থামেন এবং ওঠেন সান ইসিদ্রো শহরের এক হোটেলে। সেখানেই প্রগতিশীল পত্রিকা সুর এর সম্পাদক, আর্জেন্টিনার বিখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো রবীন্দ্রনাথের আগমনের খবর পেয়ে ছুটে যান কবির কাছে। রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ জেনে অনেকটা জোর করেই তাঁকে হোটেল থেকে তুলে নেন ওকাম্পো, থাকার বন্দোবস্ত করলেন তাঁর এক আত্মীয়ের (ভাড়া করা) বাসায়। রবীন্দ্রনাথ সেই 'প্লাতা' নদীর ধারের বাসাটিতে কাটিয়েছিলেন ঘটনাবহুল প্রায় তিন মাস।

ওকাম্পোর ওপর রবিঠাকুরের যেমন প্রভাব ছিল, রবিঠাকুরের সৃষ্টির পেছনেও ওকাম্পোর প্রভাব ছিল অসমান্য। কবি তাকে বিজয়া বলে সম্বোধন করতেন। এমনকি ‘পূরবী’ কাব্যগ্রন্থটি উৎসর্গ করেন বিজয়াকে। 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতা ওকাম্পোকে মাথায় রেখেই লিখেছিলেন বলে অনুমিত হয়। ১৯৩০ সালের এপ্রিলে প্যারিসে রবিঠাকুরের সাথে ওকাম্পোর ২য় সাক্ষাৎ হয় । সেসময় ওকাম্পোর  পিগাল গ্যালারিতে রবিঠাকুরের ছবির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। এমনকি তাঁর বন্ধু লেখিকা কঁতেস দ্য নোয়াইকে দিয়ে চিত্রসূচীর একটা ভূমিকাও লিখিয়েছিলেন।

ইত্তেফাক/এমএএম