কার্যত এই ম্যাচের আর তেমন কোনো মূল্য ছিলো না। পাকিস্তানের সামনে অসম্ভব একটা সমীকরণ ছিলো সেমিফাইনালে ওঠার জন্য। বাংলাদেশের সামনে তেমন কিছুও ছিলো না। এই ম্যাচটা তাই ব্যক্তিগত নৈপুন্য প্রদর্শনীর সুযোগ ছিলো। সেই সুযোগ নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজ টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বেশ কিছু রেকর্ডে নাম লেখালেন।
এই অর্থহীন ম্যাচে আগে ব্যাট করা পাকিস্তান ৯ উইকেটে ৩১৫ রান করেছিলো। জবাবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশ ২২ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮ রান তুলেছে। ৩৬ রান নিয়ে ব্যাট করছেন সাকিব আল হাসান।
৩১৫ রানের জবাব দিতে গিয়ে দলীয় ২৬ রানে সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ; সৌম্য ২২ রান করে ফেরেন। এরপর তামিম ২১ বলে ৮ রান করে ফেরেন। মুশফিক ফিরে আসেন ১৬ রান করে।
টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তান প্রথম উইকেট দ্রুতই হারিয়েছিলো। দলীয় ২৩ রানে ওপেনার ফাখার জামানের উইকেট তুলে নেন সাইফউদ্দিন। এরপর পাকিস্তানকে বিশাল একটা জুটি এনে দেন ইমাম-উল-হক ও বাবর আজম। দুই জনে দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৭ রান যোগ করেন। বাবর আজম সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৪ রান দূরে আউট হয়ে ফেরেন। ৯৬ রানে থাকা বাবরকে এলবিডব্লু করে ফেরান সাইফউদ্দিন।
পরপরই বাংলাদেশ আরও দুটি উইকেট তুলে নেয়। ২৭ রান করে হাফিজ ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজের বলে। পরপরই হারিস সোহেল ৬ রানে ফেরেন মুস্তাফিজুর রহমানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। এর আগে সেঞ্চুরি করেই মুস্তাফিজের প্রথম শিকার হন ইমাম। তিনি ঠিক ১০০ বলে ১০০ রান করে ফেরেন।
এরপর পাকিস্তানের ব্যাটিংকে লোয়ার অর্ডার সাথে নিয়ে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। কিন্তু তিনি পেরে ওঠেননি। সাইফউদ্দিন তৃতীয় উইকেট শিকার করেন ওয়াহাব রিয়াজকে আউট করে। আর মুস্তাফিজ তুলে নেন আরও ৩ উইকেট।
এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ম্যাচে ৫ উইকেট শিকার করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২০ উইকেট নিয়ে গতকাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী। লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম লেখানো মুস্তাফিজ গতকাল বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম ও বিশ্বের চতুর্থ দ্রুততম বোলার হিসেবে ১০০ উইকেট শিকার করে ফেলেছেন।
